Saturday, December 14, 2024

ভাবী মেয়েটা একদম আমার মায়ের মত

 হেলাল হাফিজ শান্তি পায়নি জীবনে। হেলেন কি পেয়েছিল?

স্কুল জীবনে হেলেনের প্রেমে পড়ে হেলাল হাফিজ। দুজনে চুটিয়ে প্রেম করে । কিন্তু বিয়ে হয়নি। দারোগা পিতা হেলেনের ক্ষুদ্র স্কুল শিক্ষকের ছেলের সাথে বিবাহ দিতে রাজী হয়নি। হেলেনের বিয়ে হয় এক বিখ্যাত সিনেমা হলের মালিকের সাথে।
রাগে অভিমানে হেলাল হাফিজ ২ সপ্তাহ খায়নি কিছু। কারও সাথে কথা বলেনি। হেলেন তার জীবনে এত প্রভাব ফেলে যে হেলেনকে নিয়ে গোটাশুদ্ধ বই লিখেন।
কিন্তু হেলেনের কী হয়?
না, হেলেন স্বার্থপরের মত ভালোভাবে বাচতে পারেনি। বেচারি। হেলেনের জামাই অনেক বইয়ের সাথে বইমেলা থেকে যে জলে আগুন জ্বলেও কিনে নেয়। হেলেন বইটা পড়ে দেখে গোটা বইয়ে শুধু সে।
হেলেন নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায় হেলালের অভিশাপে। হেলাল হাফিজ কি চেয়েছিল সেটা?
নাহ, শেষ বয়সে আসার পরও হেলেনের নাম শুনলে হেলাল হাফিজ বাচ্চা শিশুর মত নাকি কাদতেন। এমনটাই উঠে এসেছেন আখতারুজ্জামান আজাদের সাক্ষাতকারে।
কাওকে হয়ত এতটা ভালোবাসতে নেই যে দ্রোহে নিজের ভালোবাসার মানুষটাই পাগল হয়ে যায়।
প্রেমের আগুনে হেলাল হাফিজ পুড়েছেন। নি:সংগ জীবন কাটিয়েছেন। উনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো , আপনি বিয়ে করছেন না কেন?
উনি নাকি হালকা হেসে বলতেন, কেউ আমাকে বিয়ে করেনি।
উনার পরিবার থেকে কারও প্রস্তাব আসলে উনি নাকি বলতেন, মেয়েটা আমার মায়ের মত।
অবশেষে পরিবারের চাপ কমাতে থাকা শুরু করেন মেসে। ভিন্ন নামে। ভিন্ন পরিচয়ে। কাওকে হেলেনের জায়গা দিতে পারেনি হেলাল হাফিজ। নিজেও সুখের দেখা পায়নি। হেলেনের ও সুখ হয়নি।
----------------------------------------
শাহবাগের সুপার হোস্টেলের একটা ঘরে একা থাকতেন কবি। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ওয়াশরুমের দরজা খুলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে খোলা হয়। পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি, হয়েছিলেন রক্তাক্ত।
এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবনে যেটা পাওয়ার কথা সেটা পায়নি কবি। দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা পরপাড়ে উনাকে সেটা দিক।
© এম. জে. বাবু

Thursday, December 12, 2024

পরিস্থিতির কাছে মানুষ অসহায়


একটা মেয়ে তার Boy Friend কে জিজ্ঞেস

করেছিলোঃ

--আচ্ছা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে

হয়ে গেলে তুমি কি করবে?

--ছেলেটা উত্তর দিলো, ভুলে যাবো

ছেলেটার উত্তর শুনে মেয়েটি রাগে

অন্যদিকে মুখ ঘোরালো।

ছেলেটি আবার বললো:

--সবচেয়ে বড় কথা

। আমি যত দ্রুত তোমাকে ভুলে

যাবো। তার চেয়েও বেশি দ্রুত

তুমি আমাকে ভুলে যাবে।

প্রেমিকা প্রশ্ন করলোঃ

--কি রকম?

ছেলেটি বলতে শুরু করলঃ

"মনে করো বিয়ের প্রথম তিনদিন তুমি এক

ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকবে। শরীরে

গয়নার ভার, মুখে মেকআপ এর প্রলেপ,

চারিদিক থেকে ক্যামেরার ফ্লাশ,

মানুষের ভিড়। তুমি চাইলেও তখন আমার

কথা মনে করতে পারবে না। ''আর আমি তখন

তোমার বিয়ের খবর পেয়ে হয়তো কোন বন্ধুর

সাথে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে পরে

থাকবো। আর একটু পর পর তোমাকে

হৃদয়হীনা বলে

গালি দিবো। আবার পরক্ষনেই পুরাতন

স্মৃতির কথা মনে করে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে

কাঁদবো। "বিয়ের পরের দিন তোমার আরো

ব্যস্ত সময় কাটবে। আর প্রথম সপ্তাহে ' স্বামী আর মিষ্টির

প্যাকেট, এই দুটো হাতে নিয়ে তুমি

বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে

বেড়াবে।

আমার কথা তখন তোমার হঠাৎ হঠাৎ মনে

হবে। এই যে যেমন স্বামীর হাত ধরার সময়, এক

সাথে গাড়িতে চড়ার সময়। আর আমি তখন

ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াব। আর বন্ধুদের

বলবো, বুঝলি দোস্ত, জীবনে প্রেম

ভালোবাসা কিছুই নাই সব মিথ্যা। "পরের মাসে

তুমি হানিমুনে যাবে, নতুন বাড়ি পাবে,

শপিং, ম্যাচিং,শত প্লান, আর স্বামীর

সাথে হালকা মিষ্টি ঝগড়া। তখন তুমি

বিরাট সুখে,

হয়তো আমার কথা মনে হলে ভাববে, আমার

সাথে বিয়ে না হয়েই বোধ হয়

ভালোই হয়েছে। আমি ততদিনে বাপ, মা,

বন্ধুর ঝাড়ি খেয়ে

মোটামুটি সোজা হয়ে গিয়েছি।

ঠিক করেছি কিছু একটা কাজ করতে হবে,

তোমার চেয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে

করে

তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।

সবাইকে বলবো, তোমাকে ভুলে গেছি।

কিন্তু তখনও মাঝরাতে তোমার

এসএমএস গুলো বের করে পড়বো আর

দীর্ঘ একটা শ্বাস ছাড়বো। "পরের দুই বছর পর তুমি

আর কারো প্রেমিকা কিংবা

নতুন বউ নেই। মা হয়ে গিয়েছো।

পুরাতন প্রেমিকের স্মৃতি, স্বামীর আহ্লাদ,ভালোবাসা

এসবের চেয়েও বাচ্চার ডায়াপার,হামের টিকা

এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকবে।

অর্থাৎ তখন আমি তোমার জীবন থেকে

মোটামুটি পারমানেন্টলি ডিলিট হয়ে

যাবো। এদিকে ততদিনে আমিও একটা কাজ পেয়ে গেছি।

বিয়ের কথা চলছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে।

আমি এখন ভীষণ ব্যাস্ত।

এবার সত্যিই আমি তোমাকে ভুলে

গিয়েছি।শুধু রাস্তা ঘাটে কোন প্রেমিক প্রেমিকা দেখলে

তোমার কথা খুব মনে পড়বে। কিন্তু তখন আর

দীর্ঘশ্বাসটাও আসবে না।

এতদূর পর্যন্ত বলার পর ছেলেটি দেখলো

প্রেমিকা ছলছল চোখ নিয়ে

ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে।মুখে কোন কথা নেই। ছেলেটি ও চুপচাপ।

একটু পর প্রেমিকা বললোঃ

"তবে কি সেখানেই সব শেষ?

ছেলেটি বলল, না।

কোন এক মন খারাপের রাতে তোমার

স্বামী নাক ডেকে ঘুমাবে। আর আমার বউও ব্যস্ত

থাকবে নিজের ঘুমের রাজ্যে।শুধু তোমার আর আমার চোখে ঘুম থাকবেনা। সেদিন অতীত আমাদের দুজনকে নিঃশ্বদে কাঁদাবে। সৃষ্টিকর্তা ব্যাতীত সে কান্নার কথা কেউ জানবে না,কেউ না

মেয়েটা তার বয়ফ্রেন্ডকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল

পরিশেষে মেয়েটা এটাই বলল যে

পরিস্থিতির কাছে মানুষ আজ অনেক অসহায় !!!!!

#কবিরূপে_শাকিল_আহমেদ

 

Source: https://www.facebook.com/100075821261370/posts/607909878413049/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-একটা উদাহারণ দিইআমাদের সময় সায়েন্সের ছেলেদের ইউনিভার্সিটিতে এসে ইংরেজি বা ইকোনমিকস পড়া ছিল ফ্যাশন। আমিও ফ্যাশনমতো ইকোনমিকসে ভর্তি হয়ে গেলাম। এক বন্ধু পড়বে কেমিস্ট্রি। তাকে নিয়ে কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে এসেছি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। কেমিস্ট্রির একজন স্যার হঠাৎ বারান্দায় এলেন। তাকে দেখে আমি মুগ্ধ। কী স্মার্ট, কী সুন্দর চেহারা। তিনি কী মনে করে যেন আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করলাম ইকোনমিকস জলে ভেসে যাক। আমি পড়ব কেমিস্ট্রি। ভর্তি হয়ে গেলাম কেমিস্ট্রিতে। ওই স্যারের নাম মাহবুবুল হক। কালিনারায়ণ স্কলার। ভৌত রসায়নের ওস্তাদ লোক। যিনি অঙ্ক করিয়ে করিয়ে পরবর্তী সময়ে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন।

পিএইচডি করতে গেলাম ভৌত রসায়নে। কোর্স ওয়ার্ক সব শেষ করেছি। দু বছর কেটে গেছে। একদিন বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে সিগারেট টানছি। হঠাৎ লক্ষ করলাম, তিনশ দশ নাম্বার রুমে বুড়ো এক ভদ্রলোক ক্লাস নিতে ঢুকলেন। রোগা লম্বা একজন মানুষ। গায়ে আলখাল্লার মতো কোট। আমার কী যে খেয়াল হলো কে জানে। আমিও ক্লাসে ঢুকলাম। সমস্ত কোর্স শেষ করেছি, আর কোর্স নিতে হবে না। কাজেই এখন নিশ্চিন্ত মনে একটা ক্লাসে ঢোকা যায়।

বুড়ো ভদ্রলোকের নাম জেনো উইকস। পলিমার রসায়ন বিভাগের প্রধান। আমি তাঁর লেকচার শুনে মুগ্ধ। যেমন পড়ানোর ভঙ্গি তেমনই বিষয়বস্তু। দৈত্যাকৃতি অণুর বিচিত্র জগৎ। ক্লাস শেষে আমি তাকে গিয়ে বললাম, আমি আপনার বিভাগে আসতে চাই। ভৌত রসায়নের প্রফেসর সব শুনে খুব রাগ করলেন। আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, তুমি যা করতে যাচ্ছ, খুব বড় ধরনের বোকারাও তা করে না। পিএইচডির কাজ তোমার অনেক দূর এগিয়েছে। কোর্স ওয়ার্ক শেষ করেছ এবং খুব ভালোভাবে করেছ। এখন বিভাগ বদলাতে চাও কেন? মাথা থেকে এসব ঝেড়ে ফেলে দাও।

আমি ঝেড়ে ফেলতে পারলাম না। ঢুকে গেলাম পলিমার রসায়নে। প্রফেসর জেনো উইকস অনেক করলেন। আমাকে ভালো একটা স্কলারশিপ দিলেন। বইপত্র দিয়ে সাহায্য করলেন। কাজ শুরু করলাম পলিমার রসায়নের আর এক জাঁদরেল ব্যক্তি প্রফেসর গ্লাসের সঙ্গে। পলিমারের সব কোর্স যখন নিয়ে শেষ করেছি তখন প্রফেসর গ্লাস আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে বললেন, মাই ডিয়ার সান, দয়া করে এখন শখের বশে অন্য কোনো ক্লাসে গিয়ে বসবে না। ডিগ্রি শেষ করো। আরেকটা কথা, আমেরিকান সিটিজেনশিপ পাওয়ার ব্যাপারে আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই।

আমি বললাম, আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

তুমি চাও না?

না, আমি চাই না। ডিগ্রি শেষ হওয়ামাত্র আমি দেশে ফিরে যাব।

বিদেশী ছাত্ররা শুরুতে সবাই এ রকম বলে। শেষে আর যেতে চায় না।

আমি চাই।

ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরলাম। সাত বছর আমেরিকায় কাটিয়ে যে সম্পদ নিয়ে ফিরলাম তা হলো নগদ পঞ্চাশ ডলার, দুই স্যুটকেস ভর্তি বাচ্চাদের পুরানো খেলনা, এক স্যুটকেস বই এবং প্রচুর চকলেট।

 

আমি যে সব সময় ইমপালসের উপরে চলি তা কিন্তু না। কাজে-কর্মে, চিন্তাভাবনায় আমি শুধু যে গোছানো তা না, অসম্ভব গোছানো। কখন কী করব, কতক্ষণ করব তা আগেভাগে ঠিক করা। কঠিন রুটিন। সময় ভাগ করা, তারপরেও হঠাৎ হঠাৎ কেন জানি মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। উদ্ভট একেকটা কাণ্ড করে বসি। কোনো সুস্থ মাথার মানুষ যা কখনো করবে না।

--অনন্ত অম্বরে। হুমায়ূন আহমেদ।

Sunday, November 10, 2024

A father advised his son

 A father advised his son:

"Son, in your life, never give up on three things: eating the best food, sleeping in the most comfortable bed, and living in the finest home."
The son replied, "But we're poor. How can I achieve that?"
The wise father responded, "If you eat only when you're truly hungry, what you eat will become the best food for you.
If you work hard and rest well, even a modest bed will feel like the best one.
And if you treat others with kindness, you’ll find a place in their hearts, and thus, you'll live in the most cherished home."

Saturday, November 9, 2024

সময় থাকতে জীবিত মা বাবার যত্ন নিন

 ১০ বছরের বাচ্চাটি বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ বিক্রি করে।একদিন একটা বাড়ির সামনে গিয়ে কলিং বেল বাজালো।

মালকিন:বাইরে এসে...কি ব্যাপার?
বালক:বলছিলাম আন্টি,আপনার বাগানটি কি পরিস্কার করে দেবো?
মালকিন:না না কোন দরকার নেই,আর আজ সকালে তুই খবরের কাগজ দিয়ে যাসনি কেন?
বালক:- 🙏হাত জোর করে করুন স্বরে প্লিজ আন্টি করিয়ে নিন না,খুব ভালো করে বাগানটা সাফ করে দেবো,আর আজকে কাগজ ছাপা হয়নি,কাল স্বাধীনতা দিবসের ছুটি ছিল।
মালকিন :একটু নরম সুরে...আচ্ছা ঠিক আছে,কতো টাকা নিবি?
বালক:টাকা লাগবে না আন্টি,শুধু খাবার দিলেই হবে।
মালকিন:ওহ, ঠিক আছে যা,খুব ভালো করে পরিস্কার করবি কিন্তু।(মনে হচ্ছে বেচারা আজ কিছু খাইনি,আগে ওকে কিছু খাওয়ানো দরকার...মালকিন চিন্তা করল)
মালকিন:এই ছেলে..এদিকে আই,আগে তুই খেয়ে নে,তারপর কাজ করিস।
বালক:না আন্টি আগে কাজ করে নিই তারপর খাবো।
মালকিন:আচ্ছা বেশ...এই বলে নিজের রুমে ঢুকলেন।
বালক:২ ঘন্টা পর "আন্টি,ও আন্টি,দেখুন না ঠিকঠাক সাফাই হয়েছে কিনা?
মালকিন :আরে বাহ্!তুই তো বাগানের আশপাশ
গুলোও ভালো করে সাফ করে দিয়েছিস।এখানে এসে বস,আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি।
মালকিন খাবার দিতেই বালকটি পকেট থেকে একটা পলিথিন বের করে তার মধ্যে খাবারগুলো ঢোকাতে শুরু করল।
মালকিন:পেটে প্রচুর খিদে নিয়ে কাজ করলি, খাবারটা তো এখানেই খা,লাগলে আরও দেবো।
বালক:না আন্টি,বাড়িতে মা আছে,খুব অসুস্থ।সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে ফ্রিতে ওষুধ পাওয়া গেছে কিন্তু ডাক্তারবাবু খালি পেটে ওষুধ খেতে বারন করেছেন।
একথা শুনে মালকিনের চোখ ভিজে গেল।নিজের হাতে মাসুম বাচ্চাটিকে মায়ের মতো করে খাইয়ে দিলেন।তারপর বাচ্চাটির হাতে মায়ের জন্য খাবার তুলে দিয়ে নিজেও সঙ্গে গেলেন এবং বাচ্চাটির মায়ের সাথে দেখা করলেন।
মালকিন:বোন তুমি সবার চেয়ে ধনী আর ভাগ্যবান.... যে সংস্কার,যে শিক্ষা,যে দৌলত তুমি তোমার সন্তানকে দিয়েছো,সেই সংস্কার আমি সেই দৌলত আমি আমার সন্তানদের দিতে পারিনি।
অসুস্থ_মা_ছেলের পানে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল...
ছেলে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো.....
শিক্ষনীয় হচ্ছে - ইচ্ছে করলেই বাবা মাকে খাওয়ানোর ভাগ্য সবার থাকে না। এর জন্য ভাগ্য লাগে। কাজেই সময় থাকতে জীবিত মা বাবার যত্ন নিন নিজেকে ভাগ্যবান করে তুলুন🌿
সংগৃহীত এবং কিছুটা পরিমার্জিত।

source: https://www.facebook.com/100008245956620/posts/3841373942814100/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

বৃষ্টি থেমে গেলে ছাতাটাকেও বোঝা মনে হয়

 বৃষ্টি থেমে গেলে ছাতাটাকেও বোঝা মনে হয় ৷

কালি ফুরিয়ে গেলে কলমটাও আবর্জনার ঝুড়িতে জমা হয়। বাসি হয়ে গেলে প্রিয়জনের দেয়া ফুলটাও পরদিন ডাস্টবিনে পাওয়া যায়।
পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সত্য হলো আপনার উপকারের কথা মানুষ বেশিদিন মনে রাখবে না। জীবনের সবচেয়ে নিদারুণ বাস্তবতা হলো, কার কাছে আপনি কতদিন প্রায়োরিটি পাবেন, সেটা নির্ভর করবে কার জন্য কতদিন কিছু একটা করার সামর্থ্য আছে তার উপর আর হ্যা এটাই সত্য।
এই বাস্তবতা আপনি মানলেও সত্যি, না মানলেও সত্যি। আজ সকালে যে পত্রিকার দাম ১০ টাকা, একদিন পর সে একই পত্রিকার ১ কেজির দাম ১০ টাকা। হাজার টাকা খরচ করে একাডেমিক লাইফে বছরের শুরুতে যে বইগুলো গুরুত্ব দিয়ে কিনেন, বছর শেষে সেই বইগুলোই কেজি মাপে বিক্রি করে দেন।
সময় ফুরিয়ে গেলে এভাবেই মূল্য কমতে থাকে সবার, সবকিছুর। আমরা আপাদমস্তক স্বার্থপর প্রাণী। ভিখারিকে ২ টাকা দেয়ার আগেও মানুষ চিন্তা করে কতটুকু পূণ্য অর্জন হবে। বিনা স্বার্থে কেউ ভিক্ষুককেও ভিক্ষা দেয় না৷
এতকিছুর পরও চলুন একটু হেসে কথা বলি।
রাগটাকে কমাই। অহংকারকে কবর দেই।
যদি সুখী হতে চান তবে প্রত্যাশা কমান।
আপনি কারো জন্য কিছু করে থাকলে সেটা চিরতরে ভুলে যান। কারণ সেটা যতদিন আপনি মনে রাখবেন ততদিন সেটা আপনাকে অহংকারী করে তুলবে।
আবার কেউ যদি আপনার জন্য খুব ছোট কিছুও করে থাকে, তবে সেটা আজীবন মনে রাখবেন। কারণ এটা আপনাকে বিনয়ী ও কৃতজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ভালো মানুষ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবে।

source: https://www.facebook.com/61553443407853/posts/122164494974114780/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

জাল মানুষ

 মতিউর রহমান সবে সন্ধ্যার নাস্তা শেষ করে চায়ে চুমুক দিয়েছেন। ঠিক এমন সময় কলিং বেল বেজে ওঠে। নিজেই উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখেন শুচিতাকে ইংরেজি পড়ায় যে ছেলেটা সে এসেছে। রোগা কালোমতো চেহারা, নীল চেকের উপর ফুলহাতা শার্ট কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখা। ছেলেটার নাম মাইনুদ্দিন, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজিতে পড়ে। খুব ভালো নাকি পড়ায়। মতিউর ওর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শুচিতার জন্য একজন ভালো ইংরেজি শিক্ষক খুঁজছিলেন। তখন অফিসের একজন মাইনুদ্দিনের খোঁজ দেয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুনে নাক কুঁচকে বলেছিল, ঢাকা ইউনিভার্সিটির কাউকে পেলে ভালো হতো। তাই নিমরাজি হয়ে তখনকার মতো ছেলেটাকে রেখেছিল। ভেবেছিল, ভালো কাউকে পেলে ছাড়িয়ে দেবে। কিন্তু মাসখানেক যেতেই শুচিতা নিজ থেকেই বলছিল মাইনুদ্দিন নাকি খুব ভালো পড়ায়। এরপর আর নতুন করে ইংরেজির শিক্ষক খুঁজতে হয়নি মতিউরর।

ছেলেটা ভালো, একটু বামপন্থী। মাঝে মাঝে ওর সঙ্গে দেশ নিয়ে কথাবার্তা হয়। ওর কথা শুনে মনে হয় সমসাময়িক বিষয়ে ওর বিস্তর পড়াশোনা। কথা বলে আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু গত সপ্তাহে একটা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রাগ হয়েছিল খুব। দেশের ভবিষ্যৎ কী তাই নিয়ে জিগ্যেস করতেই ছেলেটা বেশ তেড়িয়াভাবে বলছিল, আংকেল, এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আপনি দেখেন, সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিগ্রস্ত। এদের বেশির ভাগেরই আয়ের সঙ্গে সম্পদের মিল নেই।
সব চোর। হাজার কোটি টাকা লোপাট করে দেশটাকে ফুটো করে দিচ্ছে। এই চোরদের ধরে বিচার না করলে দেশ শেষ।
তা কথাগুলো সত্যি হলেও মতিউরের গা জ্বালা করছিল। ছেলেটা কি ইচ্ছে করেই ওকে সেদিন কথাগুলো শোনাল? মতিউর নিজে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তার আয়ের সঙ্গে বনশ্রীর এই বাইশ স্কোয়ারের বাসা যায় না। মতিউর উত্তরে বলার চেষ্টা করেছিল, সবাই অমন না। আর কাজে গতি আনতে গেলে মাঝে মাঝে অমন করতে হয়। তাতে ছেলেটা যেন আরও ক্ষেপে গেল। বলল, অন্যায়কে কখনোই কোনো যুক্তি দিয়ে ন্যায় বলা যাবে না।
সেদিন থেকে মতিউরের মেজাজ একটু খাপ্পা হয়ে আছে। এই ছেলে নিজেকে যুধিষ্ঠির মনে করে। সুযোগ পেলে এই দেশের সবাই যে অসৎ সেটা ওর চেয়ে ভালো আর কে জানে।
ওকে দেখে সালাম দেয়, 'আংকেল, আসসালামু আলাইকুম।'
মতিউর গম্ভীরমুখে সালাম নেয়। তারপর গলা তুলে মেয়েকে ডাকেন, 'শুচিতা, তোর টিচার এসেছে।'
শুচিতা মাত্রই বাইরে থেকে ম্যাথ পড়ে বাসায় এসেছে। আম্মুর রুমে এসে একটু শুয়েছিল।
এখুনি স্যার এল? ও উঠে হাত মুখ ধুয়ে চুল ঠিক করে। তারপর বেরিয়ে এসে বাবাকে দেখে কাছে এসে নিচু গলায় বলে, 'বাবা, মাইনুদ্দিন ভাইয়ার টাকাটা দিয়ে দিও। আজ কিন্তু দশ তারিখ।'
মতিউর অবাক গলায় বলে, 'কী বলিস! আগে মনে করাবি তো। আচ্ছা তুই যা, আমি দিচ্ছি।'
টিউশনির টাকা এক-দুই তারিখেই দিয়ে দেয় মতিউর। এবারই এমন দেরি হলো। শুচিতা ওর রুমে যেতেই মতিউর উঠে দাঁড়ায়।
মমতাজ মাগরিবের নামাজ শেষ করে জায়নামাজ ভাঁজ করছিল। মতিউর রুমে ঢুকে বলে, 'আট হাজার টাকা দাও তো। সেদিন যে বান্ডিলটা দিলাম ওখান থেকে দিও।'
মতিউর মাঝে মাঝেই এমন টাকার বান্ডিল এনে মমতাজের হাতে দেন। সেগুলো নিরাপদে রাখাই মমতাজের কাজ। মাঝে মাঝে রাগ হয়, 'টাকা ব্যাংকে রাখতে পারো না? এত টাকা ঘরে নিয়ে আসো কেন?'
মতিউর তখন চুপ থাকেন। কী করে বলেন যে এই টাকা ব্যাংকে রাখা যাবে না। তাতে করে ট্যাক্সের লোক পিছনে পড়বে।
মমতাজ টাকা বের করে হাতে দিতেই মতিউর একবার ভালো করে গুনে। এক হাজার টাকার আটটা নোট হবার কথা, কিন্তু মমতাজ নয়টা নোট বের করেছে। আরেকবার গুনে নিশ্চিত হন, নয় হাজার টাকা। বিরক্তি নিয়ে বলেন, 'টাকাটাও গুনতে পারো না? একটা নোট বেশি আসছে।'
এক হাজার টাকার বাড়তি নোটটা ফিরিয়ে দিতে গিয়েও থমকে যান। কী যেন ভাবেন, ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি ফোটে। তারপর বলেন, 'থাক, নয় হাজারই লাগবে।'
মতিউর নয় হাজার টাকার নোটগুলো বিছানায় পাশাপাশি বিছিয়ে রাখেন। তারপর মোবাইল বের করে টাকাগুলোর ছবি তুলেন। তারপর ছবিটা জুম করে দেখেন, হ্যাঁ, এখানে যে নয়টা নোট আছে বোঝা যাচ্ছে। এমনকি নোটের নম্বরও বোঝা যাচ্ছে।
মমতাজ অবাক চোখে মতিউরের কান্ডকারখানা দেখছিল। লোকটা টাকার ছবি তুলছে কেন?
মতিউর টাকাগুলো এবার ভাঁজ করে একটা খামে ঢুকিয়ে স্ট্রাপলার পিন দিয়ে আটকে দেন। টাকাগুলো রাখার সময় সেটা ভিডিও-ও করেন। তারপর বিড়বিড় করে বলেন, এবার দেখা যাক কত সৎ মানুষ তুমি।
শুচিতার রুমের সামনে আসতেই দেখেন মাইনুদ্দিন হাত নেড়ে নেড়ে কী যেন বোঝাচ্ছিল। বাইরে থেকে ওর পড়ানোর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। মতিউর গলাখাঁকারি দিয়ে ভেতরে ঢোকে। তারপর নরম গলায় বলে, 'এবার দেরি হয়ে গেল। এই নাও তোমার এই মাসের বেতন।'
মাইনুদ্দিন হাত বাড়িয়ে খামটা নেয়। এই লোকটা টাকা দেবার সময় ইচ্ছে করে 'বেতন' শব্দটা বলে যেন ও মতিউরের কর্মচারী।
মাইনুদ্দিন খামটা পকেটে রাখতে রাখতে বলে, 'আংকেল, আমি তো আপনার এখানে চাকরি করি না যে আপনি আমাকে বেতন দেবেন। এটা আমার সম্মানী বলতে পারেন।'
মতিউরের মুখ চোখা হয়ে যায়। চোখ সরু করে বলে, 'ওহ, তাই বুঝি? আমরা পুরান আমলের মানুষ তো, অতশত বুঝি না। তা টাকাটা গুনে নাও।'
মাইনুদ্দিন আশ্বস্ত করে বলে, 'গুনতে হবে না। আপনি নিশ্চয়ই কম দেন নি।'
মতিউর মনে মনে খুশি হয়। এখন না গুনলেই ভালো। ইচ্ছে করেই আট হাজারের জায়গায় আজ নয় হাজার টাকা দিয়েছে। দেখা যাক, কাল এসে বাড়তি এক হাজার টাকা ফেরত দেয় কিনা। তখন বোঝা যাবে কতটা সৎ মানুষ।
একটা সপ্তাহ কেটে যায়। এর মাঝে মাইনুদ্দিন দু'বার এসেছে। কিন্তু বাড়তি টাকা নিয়ে টুঁশব্দ করেনি। মতিউর সময় নেন, তাড়াহুড়ো করেন না। যত দিন গড়ায় মনের ভেতর একটা প্রতিশোধের আনন্দ টের পান। কী সৎ একজন মানুষ, বাড়তি এক হাজার টাকার লোভই ছাড়তে পারল না? এরা যখন ওর মতো চাকরি করবে তখন ওর চেয়েও বেশি টাকা সরাবে। সবাই এক, টাকার কাছে সব ব্যাটাই নতজানু।
যখন দু'সপ্তাহ পার হয়ে যায় তখন একদিন শুচিতার পড়া শেষে মতিউর মাইনুদ্দিনকে বসতে বলে, 'একটু বোসো। তোমার সঙ্গে কথা আছে।'
মাইনুদ্দিন হাতঘড়ির দিকে তাকায়, 'আংকেল, আমার আরেকটা টিউশনে যেতে হবে। আপনার কি খুব বেশি সময় লাগবে?'
মতিউর মাথা নাড়ে, 'না, এই পাঁচ মিনিট লাগবে।'
মাইনুদ্দিন বসতেই মতিউর গলাখাঁকারি দিয়ে বলে, 'মাইনুদ্দিন, তোমাকে যে সেদিন খামে করে টিউশনির টাকা দিলাম সেটা গুনে দেখেছিলে? টাকা ঠিকঠাক ছিল?'
মাইনুদ্দিন গম্ভীরমুখে বলে, 'না আংকেল। এক হাজার টাকা কম ছিল।'
মতিউর ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ওরে মিথ্যাবাদী! মুখে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলে, 'তুমি ঠিকঠাক গুনেছিলে? আমার কাছে কিন্তু টাকার ছবি আছে, নম্বর সহ। টাকা খামে ভরার ভিডিও-ও আছে।'
কথা শেষ করে মোবাইল বের করেন। তারপর ছবি আর ভিডিও দেখিয়ে বলেন, 'সেদিন আমি তোমকে নয় হাজার টাকা দিয়েছিলাম। ইচ্ছে করেই একটা নোট বেশি দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম পরদিন এসে তুমি বাড়তি টাকাটা ফেরত দেবে। নিজে যে এত নীতির কথা বলো, কিন্তু মোটে একটা হাজার টাকার লোভ ছাড়তে পারলে না। উলটে বলছ এক হাজার টাকা কম ছিল? আমার মতো চাকরিতে ঢুকলে তো তুমি দেশ বেঁচে দেবে।'
কথাগুলো বলে বেশ একটা আত্মতৃপ্তি পান মতিউর। সেদিনের অপমানের শোধ নেওয়া হয় দারুণভাবে।
মাইনুদ্দিন একবার ভেতরের রুমের দিকে তাকায়৷ দরজার পর্দায় কারও ছায়া দেখা যাচ্ছে। শুচিতা হয়তো শুনছে সব।
মাইনুদ্দিন একটা লম্বা নিশ্বাস নেয়, তারপর পকেট থেকে মোবাইল বের করে একটা ছবি দেখিয়ে বলে, 'আংকেল, দেখুন তো এই নোট দুটো আপনি দিয়েছিলেন কিনা? আপনার মোবাইলের সঙ্গে এই এক হাজার টাকার নোট দুটো মিলিয়ে দেখেন।'
মাইনুদ্দিন ভ্রু কুঁচকে ওর মোবাইল নেয়। তারপর টাকার নম্বর মিলিয়ে বলে, 'হ্যাঁ, এই নোট দুটো আমি দিয়েছিলাম। এমন মোট নয়টা এক হাজার টাকার নোট ছিল। বাকি সাতটা কই?'
মাইনুদ্দিন ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে বলে, 'বাকি সাতটা নোট খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু এই দুটো নোট খরচ করতে পারিনি। কারণ এই দুটো এক হাজার টাকার নোট জাল ছিল। আমি খামে টাকা বেশি দেখে বুঝেছিলাম আপনি ভুল করে একটা নোট বেশি দিয়েছেন। ভেবেছিলাম পরদিন যখন পড়াতে যাব টাকাটা ফেরত দেব। কিন্তু এর আগেই ব্যাংকে আপনার দেওয়া টাকা থেকে আট হাজার টাকা জমা দিতে গিয়ে বিপত্তি বাঁধে। ওরা বলল দুটো নোট জাল। পারলে তো আমাকেই তখন পুলিশে দেয়। অনেক কষ্টে সবাইকে বুঝিয়েছি যে টাকাগুলো আমি টিউশনি যেখানে করি সেখান থেকে পেয়েছি। কিন্তু ঠিক কোন বাসা থেকে পেয়েছি মনে নেই। আমি নোটগুলোর ছবি তুলে রেখেছিলাম। আপনি আংকেল আমাকে নয়টা নোটের মধ্যে দুটো নোট জাল দিয়েছেন। তাই এই মাসে আমি আট হাজারের জায়গায় সাত হাজার টাকা পেয়েছি।'
মতিউর তোতলানো গলায় বলে, 'কী বলছ এসব! আমি তোমাকে জাল নোট দেব কেন? কই দেখি, ছবিগুলো আবার।'
মতিউর আবার ছবিগুলো মিলিয়ে দেখেন। আরে, সত্যিই তো এগুলো ওর দেওয়া নোট। কিন্তু জাল টাকা এল কোথা থেকে? হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায়, যে বান্ডিল থেকে টাকাটা বের করেছিল সেটা এস আলম নামে একজন সাপ্লায়ার দিয়েছিল। ওদের একটা বিলের কাগজ ওর টেবিলে আটকে ছিল। মানে ও আটকে রেখেছিল। তখন এক বান্ডিল এক হাজার টাকার নোট দিয়ে ওরা বিল পাশ করে নিয়ে গিয়েছিল। ওরে বদমাশ এস আলম, তুই আমারে আসল টাকার সাথে জাল টাকা মিলিয়ে দিয়েছিস। কত অসৎ হতে পারে মানুষ!
মতিউর শুকনো মুখে বলে, 'আসলে আমি যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছিলাম সেই ব্যাটা এই কাজ করেছে। দেখেছ, মানুষ কত অসৎ হয়ে গেছে। কাউকে বিশ্বাস করতে নেই।'
মাইনুদ্দিন বাঁকা হাসি হেসে বলে, 'জি আংকেল। কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। মাঝে মাঝে আপনার মতো একটা নোট বেশি দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হয়।'
মতিউর লজ্জায় মাটিতে মিশে যায়। আমতাআমতা করে বলে, 'আরে না না, তুমি আমাকে ভুল বোঝ না। আসলে আমি ছোট্ট একটা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম তুমি আসলে মুখে যেমন নীতির কথা বলো অন্তরে তাই কিনা।'
মাইনুদ্দিন মিটিমিটি হেসে বলে, 'তা আমাকে কী মনে হলো আপনার?'
মতিউর বিগলিত হেসে বলে, 'না, তুমি একদম ঠিক আছ। কিন্তু একটা খটকা রয়েই গেল।'
মাইনুদ্দিন সামনে ঝুঁকে এসে জিজ্ঞাসু গলায় বলে, 'কী খটকা?'
মতিউর বিজ্ঞের মতো বলে, 'ধরলাম আমি তোমাকে দুটো নোট জালই দিয়েছি৷ কিন্তু সেটা পরে এসে তুমি বললে না কেন?'
মাইনুদ্দিন হাসে, তারপর বলে, 'আসলে আমি ভেবে দেখলাম জাল টাকা তো আপনি ইচ্ছে করে আমাকে দেননি। কেউ নিশ্চয়ই আপনাকে ঠকিয়ে দিয়েছে। আর দেখলাম আমি মোটে এক হাজার টাকা কম পেয়েছি। তাই আর ইচ্ছে করে বলিনি ব্যাপারটা। আমার মনে হয়েছে জাল টাকার দোষটা তো আপনার না।'
মতিউরের মনে হয় সামনে বসে থাকা বয়সে অনেক ছোট এই ছেলেটার কাছে ওর অনেক কিছু শিখবার আছে।
মতিউর পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট বের করে বলে, 'এই নাও তোমার সম্মানীর এক হাজার টাকা। এরপর এমন হলে আমাকে অবশ্যই বলবে।'
মাইনুদ্দিন টাকাটা পকেটে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়ায়, তারপর বলে, 'আপনিও এরপর কেউ টাকা দিলে ভালো করে পরখ করে নেবেন। আমার মতো বিশ্বাস করে নিলে ঠকবেন। মানুষ আর আসল নেই, জাল নোটের মতো জাল মানুষে ভরে গেছে চারপাশ।'
মাইনুদ্দিন চলে যায়। মতিউর বিহবল দৃষ্টিতে ওর চলে যাবার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। কেন যেন মনে হয় ছেলেটা ওকে জাল মানুষ বলে গেল।
©মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সুবাস*

source: https://www.facebook.com/100067536807109/posts/874401048154447/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...