Sunday, December 15, 2024

হুমায়ূন আহমেদ গুলতেকিন আহমেদ

বিটিভির একটা ইন্টারভিউতে যখন আনিসুল হক গুলতেকিন আহমেদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি আপনার মেয়েদের বিয়ে কোনো লেখকের সাথে দেবেন?

আমি তাকিয়ে ছিলাম স্যারের দিকে । খেয়াল করেছিলাম, ঐ মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদ বেশ নার্ভাসনেস এবং এক্সাইটমেন্ট এর সাথে গুলতেকিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

গুলতেকিন নেগেটিভ উত্তর দেওয়ার সাথে সাথেই হুমায়ূন স্যারের চেহারা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেল।

গুলতেকিনকে যখন আনিসুল হক প্রশ্ন করলেন, এখন হলে আপনি হুমায়ূনকে বিয়ে করতেন কি না? গুলতেকিন ম্যাম ক্যামেরার সামনে ঠাস কইরা বইলা দিলো, না, এখন হলে সে হুমায়ূনরে বিয়ে করতো না।

আমি হুমায়ূন স্যারের মাথা আরেকবার নিচু হয়ে যাইতে দেখলাম ক্যামেরার সামনে।

ঠিক ঐ মুহূর্তেই আমার মনে হয়েছিলো , শেষ বয়সে পরিবার, সমাজ সবকিছুর বিরুদ্ধে যাইয়া হুমায়ূন কেন শাওনকে বিয়ে করলেন।

প্লিজ বইলেন না যে হুমায়ূন আহমেদ নারীলোভী ছিলেন। নারীলোভী হলে হুমায়ূনের বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন ছিলো না। বাংলাদেশের সবচেয়ে পপুলার ফিল্ম ডাইরেক্টর ছিলেন। নারী প্রীতির জন্য তাকে আলাদা করে বিয়ে করতে হবে, এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না।

পার্সোনালি আমার যেইটা মনে হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন অ্যাপ্রিশিয়েশন। চেয়েছিলেন মুগ্ধতা। যে মুগ্ধতা তিনি পেয়েছিলেন শাওনের কাছে, গুলতেকিনের কাছে পাননি। হয়তো গুলতেকিন বিরক্তই ছিলেন স্যার কে নিয়ে।

আজও শাওন যখন হুমায়ূনের কথা বলেন, স্মৃতিচারণ করেন, আমি তাঁর চোখে হুমায়ূনের জন্য প্রেমিকার উচ্ছ্বাস দেখি। বিষাদ দেখি। একজন পুরুষের কাছে স্ত্রীর এই প্রেমিকার চোখ বা মুগ্ধতার চেয়ে বড় কিছু আর নাই।

লেখক আর সাধারন মানুষের চাওয়া, পাওয়া, দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হবেই তাই সবার সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না।

ইসলামের বিপক্ষে যায় এমন কোন কথা আমি বলতে চাইনা। জন্ম, মৃত্যু , বিয়ে অখন্ডনীয় তকদীর। এটা মানুষ খন্ডাতে পারবেনা।

পছন্দের লেখক, যার লেখনী আমার ভালো লাগে, যার জীবন সম্পর্কে সবসময় জানার চেষ্টা করেছি। একটা নেগেটিভ সাইড তার খুব করে সবাই প্রচার করেন বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন মেয়ের বয়সী একজনকে। বিয়ে করেছেন ফস্টিনষ্টি করেন নি। আর তার বিয়ের অনেক আগেই শাওনের সাথে তার রেগুলার কাজের জন্য দুইজনকে নিয়ে মিডিয়া খুব মাতামাতি করে তখন প্রেম বলতে কিছুই ছিলোনা তখন গুলতেকিন হুমায়ূন আহমেদ কে ভরসা বিশ্বাস কোনটাই করেন নি। তিনি বাসা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদ তাকে যেতে দেননি। বলেছেন তুমি কেনো যাবে বাসা থেকে আমিই নেমে যাই। স্ত্রী সন্তানকে কোন কিছু থেকে বঞ্চিত রাখতে চাননি। তাকেই কোনঠাসা করা হয়েছিলো। তিনি ঈদের দিনটা পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন কারন হোটেল বন্ধ ছিলো, আর নিজের ঘরে যাওয়ার মুখ ছিলোনা।

তারও অনেক পরে শাওনকে বিয়ে করেন। শাওনকে বিয়ের পরে তিনি গর্তবাসী হয়ে যান পুরোপুরি।

গুলতেকিনকে নিয়ে তিনি জীবনের সেরা একটা সময় কাটিয়েছেন, সবসময় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। আমাদের সেই প্রিয় গুলতেকিন কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মদিনেই বুড়ো বয়সে বিয়ে করেছেন।

তিনি কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ এর থেকেও বেশি বুড়ো হয়ে বিয়ে করেছেন। তাহলে এতো ভালো মন্দের দায়ভার দেশবাসীকে কে দেয়???

হুমায়ুন আহমেদ এর মেয়ে ফ্যানের অভাব ছিলোনা। এখনও নেই। আমার মেয়ের ছোটবেলায় হুমায়ুন আহমেদ মারা গেছেন মেয়েও কিন্তু স্যারের বই পড়ে।

আমাদের সংসারেও হুমায়ুন আহমেদ নিয়ে একটা ঝামেলা আছে আমি বলেছিলাম, শাওনের জায়গায় আমি হলে আমিও তাই করতাম। এটা নিয়ে খুব রাগারাগি হয় । আমিও আর স্যার নিয়ে কথা বলিনা, স্যারের বই পড়িনা।

অথচ ছোটো থেকে আমাকে যদি কোন স্বপ্ন কেউ জিজ্ঞাসা করতো আমি কিন্তু একটা কথাই বলতাম আমার একটা লাইব্রেরী হবে যেটাতে হুমায়ূন আহমেদ এর সব বই থাকবে। লাগোয়া একটা বড় ওয়াশরুম থাকবে। লাইব্রেরি আর ওয়াশরুম শুধুই আমার।

source: https://www.facebook.com/100064147627026/posts/975728707908708/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

No comments:

Post a Comment

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...