Saturday, December 14, 2024

ফুলকপি সমাচার!!

একজন শখের কবি একবার ফুলকপি নিয়ে একটা কবিতা ফেসবুকে লেখেন!! এরপর যা যা হয়েছিল সেটা ওনার বয়ানেই শুনুন.....

“মানুষের মাথায় ভূত চাপে, আমার মাথায় চেপেছিলো ফুলকপি!! কোন দুঃখে আমি সেদিন ফুলকপি নিয়ে একটা ছড়া লিখেছিলাম,
"শীতের দিনে,
তোমার কাছে,
ফুল চাইনি প্রিয়;
সময় পেলে,
রান্না করে,
ভাজা ফুলকপি দিও!!"
ফেসবুকে এই ছড়া পোস্ট করার পর, আমার জীবন এবং যৌবন ''ভাজা ভাজা, তিলের খাজা'' হয়ে গেছে !!
বউ আমাকে বললো:- এই কবিতা কার উদ্দেশ্যে লিখেছো?
আমি সরল গলায় বললাম, "কার উদ্দেশ্যে মানে?"
এরপর একদমে অনেকগুলো প্রশ্ন করলো!! সবমিলিয়ে প্রায় শ-পাঁচেক প্রশ্ন; সব কটা প্রশ্ন আমার মনে নেই; অল্প কয়েকটা মনে আছে যেমন:-
১. প্রথম লাইনে একটা শব্দটা আছে, "প্রিয়"!! কে তোমার প্রিয়?
২. কে তোমাকে ফুল দেয়?
৩. কেন দেয়?
৪. কীভাবে দেয়?
৪. কোথায় দেয়?
৫. দিনে কয় বার দেয়?
৬. কি ফুল দেয়?
৭. আর কি কি দেয়?
৮. কি কি দিতে বাকি রাখছে?
৯. তাজা ফুল না প্ল্যাস্টিকের ফুল?
১০. কার কাছে তুমি এই শীতে ফুলের বদলে ফুলকপি চাইছো?
১১. এত কিছু থাকতে ফুলকপি চাইতে গেলে কেন?
১২. কাঁচাফুলকপি না চেয়ে রান্না করা ফুলকপি কেন চাইলে?
১৩. অন্য কোনো মেয়ে কেন তোমার জন্য ফুলকপি রাঁধবে?
১৪. ঘরের রান্না মুখে রোচে না?
১৫. ফুলকপি মানে কি সবজি ফুলকপি না এর অন্য কোনো গোপন অর্থ আছে?
১৬. সারাজীবন ফুলকপি খেয়েও শখ মেটেনি?
১৭. আর কত ফুলকপি চাও?
১৮. কবে তোমার পেট ভরবে?
১৯. বুড়ো হচ্ছো আর ক্ষিধে বাড়ছে তোমার না?
২০. পেয়েছো কি তুমি?
২১. তোমাকে কি আমি খেতে দিই না?
২২. রাস্তা ঘাটে ফুলকপি চেয়ে বেড়াও?
২৩. আজ ফেসবুকে চাইছ , কাল কি থালা নিয়ে রাস্তায় বসবে?
২৪. পরশু কি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেবে?
২৫. আমার কাছে চাইলে কি আর আমি ফুলকপি দিতাম না?
সর্বশেষ প্রশ্নটা বড়ই নির্মম:-
২৬. তোমার এত নোলা কেন?
আমি কোনও প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে দিতে পারিনি ফলে আমার জীবন হয়ে গেছে ফুলকপিময় !!
সকালে রুটির সাথে ফুলকপি ভাজা, দুপুরে রান্না করা ফুলকপি, রাত্রে ফুলকপি দিয়ে মাছ!! মাঝে বেলায় বেলায় ফুলকপি আর ফুলকপি; মাঝখানে ফুলকপির স্যুপ পর্যন্ত খেতে হয়েছে!! গত এক সপ্তাহে আমি যে পরিমাণ ফুলকপি খেয়েছি, মাটি ও মানুষের উপস্থাপকও তার গোটা জীবনে এতগুলি ফুলকপি দেখেননি!!
আজ সন্ধ্যায় বললাম, আদা দিয়ে একটু লাল চা করে দাও, একটু সর্দি লেগেছে!! ও পাথর মুখ করে চা বানাতে গেলো; আর আমি ভয়ে ভয়ে রইলাম!! চায়ে আদার বদলে ফুলকপি দিয়ে ফেলে কিনা কে জানে!! অশেষ কৃপায় খানিকবাদে ও আদা চা নিয়ে এলো; গলাটা একটু কোমল করে বলল, খালি পেটে চা খাবে না। ফুলকপির বড়া ভেজেছি। ওটা খেয়ে তারপর চা খাও !!
পুনশ্চ:- আরেকটা প্রশ্ন ছিলো এখন মনে পড়েছে!! "কি আছে ফুলকপিতে, যা আমার নেই? (বলে কান্না)
পুনশ্চ ২ :- আরেকটা প্রশ্নও ছিল; এক্ষুনি মনে পড়লো:- "সত্যি করে বলো তো, আমাকে না জানিয়ে তুমি এ পর্যন্ত কতগুলি ফুলকপি খেয়েছো? লুকিয়ে লুকিয়ে!!”
©️লিখা: আশীফ এন্তাজ রবি.

যে জলে আগুন জ্বলে

 "হয়তো তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি নয়তো গিয়েছি হেরে,

থাক না ধ্রুপদী অস্পষ্টতা কে কাকে গেলাম ছেড়ে!"
হেলাল হাফিজ। কবি। একটিমাত্র বই লিখেছেন পুরোটা জীবনে (পরবর্তী বইটি এর বর্ধিত সংস্করণ মাত্র, এবং, দীর্ঘ ৩৪ বছর পরের তৃতীয়টিকে বলা যায় অণুকাব্য-সংকলন)। ছাপ্পান্নটি কবিতায় গড়া ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত বইটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পঠিত কাব্যগ্রন্থ, আজও। বইটি তিনি হৃদয়ে ক্ষত ধরে লিখেছিলেন। বইটির অধিকাংশ পঙক্তি লাখেলাখে বাঙালি তরুণতরুণীর মুখস্থ। কেন? বিরহী হেলাল হাফিজ জীবনে আর বিয়েই করলেন না বলে? না। কবিতাগুলোর প্রতিটি বর্ণের ভিতরে, তাঁর হেলেনের জন্য মেখে থাকা হৃদয়ের দাগ গেঁথে দিতে, পেরেছিলেন বলেই। অন্য ঘরে বিয়ে হয়ে যাওয়া হেলেনকে, তাঁর স্বামী যখন, হেলাল হাফিজের 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থটির উৎসর্গ অংশটি দেখালেন, বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠেছিলো তরুণীর! সেই-যে তাঁর মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিলো, মারা গেলেন সেভাবেই, পায়ে শেকল পরা অবস্থায়, হেলেন। বাংলা সাহিত্য কাঁপিয়ে দেওয়া বইটির উৎসর্গপত্রে লিখা আছে, কেবল, একটি নীলাভ অক্ষর─ 'হেলেন'। মানুষের বুকের ভিতরের দাগ বড্ড দুখী। বড্ড দুখী। দাগটির নাম─ ভালোবাসা।
"ইচ্ছে ছিল তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
ইচ্ছে ছিল তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে ওড়াবো।
ইচ্ছে ছিল সুনিপুণ মেকাপ-ম্যানের মতো সূর্যালোকে কেবল সাজাবো,
তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো!
ইচ্ছে ছিল নদীর বক্ষ থেকে জলে-জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার লাজুক দুই চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখের।
ইচ্ছে ছিল রাজা হবো─
তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি─
রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে।"
─ 'ইচ্ছে ছিল' (যে জলে আগুন জ্বলে, ১৯৮৬)
বলছিলাম 'যে জলে আগুন জ্বলে' নিয়ে। বাংলায় এমন কোনো সাহিত্যপ্রেমী নেই, যিনি এ-গ্রন্থের অন্তত একটি ছত্র আওড়াননি জীবনে! যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রেমাঙ্গন, আটপৌরে উঠোন থেকে প্রেয়সীর দীর্ঘশ্বাস, সাম্রাজ্যবাদ থেকে সাম্যবাদ, কী নেই এ-কবিতাগুলোর ছত্রে-ছত্রে!
'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কবিতার─ "এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" কিংবা, 'ব্যবধান' কবিতার─ "অতো বেশি নিকটে এসো না, তুমি পুড়ে যাবে!" 'হৃদয়ের ঋণ' কবিতার─ "আমার জীবন ভালোবাসাহীন গেলে, কলঙ্ক হবে কলঙ্ক হবে তোর।' অথবা, 'অশ্লীল সভ্যতা' নামক মাত্র ৬ শব্দের অপূর্ব পুরো কবিতাটি: "নিউট্রন বোমা বোঝো, মানুষ বোঝো না!" 'অমীমাংসিত সন্ধি' কবিতাটিতে পাবেন অদ্ভুত অবসেশনে নারীপ্রেম! যদি বিস্ময়কর একটি হৃদয়ভাঙা কবিতা পড়তে চান, নির্দ্বিধায় ডুবে যান উপরোল্লিখিত 'ইচ্ছে ছিল' কবিতাটায়। যদি আমৃত্যু মনে রাখার মতো একটি কবিতা পড়তে চান, 'প্রস্থান' কবিতাটি একবার পড়ুন জীবনে─
"এখন তুমি কোথায় আছ কেমন আছ, পত্র দিয়ো৷
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো৷
ক্যালেন্ডারের কোন্ পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত
ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো৷
কোন্ কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন্ স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে
পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো৷
আর না-হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই৷
গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে?
আমি না-হয় ভালোবেসেই ভুল করেছি ভুল করেছি,
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে
পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কী আসে যায়?
এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে,
এক মানবী কতোটা আর কষ্ট দেবে!"
─ 'প্রস্থান' (যে জলে আগুন জ্বলে, ১৯৮৬)
আপনি হৃৎমন্থনে বিবশ হয়ে যেতে চাইলে পড়তে পারেন নিম্নোল্লিখিত 'যাতায়াত' কবিতাটি─
"কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো!
কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না,
রাত কাটে তো ভোর দেখি না,
কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না, কেউ জানে না!
নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতোটা পথ একলা এলাম,
পেছন থেকে কেউ বলেনি─ করুণ পথিক
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিয়ো;
কেই বলেনি─ ভালো থেকো সুখেই থেকো।
যুগল চোখের জলের ভাষায় আসার সময় কেউ বলেনি─
মাথার কসম আবার এসো।
জন্মাবধি ভেতরে এক রঙিন পাখি কেঁদেই গেলো,
শুনলো না কেউ ধ্রুপদী ডাক;
চৈত্রাগুনে জ্বলে গেলো আমার বুকের গেরস্থালি,
বললো না কেউ─ তরুণ তাপস এই নে চারু শীতল কলস।
লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলাম, তবু এলাম।
ক্যাঙ্গারু তার শাবক নিয়ে যেমন করে বিপদ পেরোয়
আমিও ঠিক তেমনি করে সভ্যতা আর শুভ্রতাকে বুকে নিয়েই দুঃসময়ে এতোটা পথ একলা এলাম শুশ্রূষাহীন।
কেউ ডাকেনি তবু এলাম, বলতে এলাম─ ভালোবাসি।"
─ 'যাতায়াত' (যে জলে আগুন জ্বলে, ১৯৮৬)
যদি বাংলা সাহিত্যের একটি অমর কবিতায় ঋদ্ধ হতে চান, পড়ুন 'ফেরিঅলা'─
"কষ্ট নেবে কষ্ট?
হরেক রকম কষ্ট আছে,
কষ্ট নেবে কষ্ট!
লাল কষ্ট, নীল কষ্ট, কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট,
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট,
‘মাল্টি-কালার’ কষ্ট আছে,
কষ্ট নেবে কষ্ট?
ঘরের কষ্ট, পরের কষ্ট, পাখি এবং পাতার কষ্ট,
দাড়ির কষ্ট,
চোখের বুকের নখের কষ্ট,
একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছে,
কষ্ট নেবে কষ্ট?
প্রেমের কষ্ট, ঘৃণার কষ্ট, নদী এবং নারীর কষ্ট,
অনাদর ও অবহেলার তুমুল কষ্ট,
ভুল রমণী ভালোবাসার
ভুল নেতাদের জনসভার
হাইড্রোজনে দুইটি জোকার নষ্ট হবার কষ্ট আছে,
কষ্ট নেবে কষ্ট?
দিনের কষ্ট, রাতের কষ্ট,
পথের এবং পায়ের কষ্ট,
অসাধারণ করুণ চারু কষ্ট, ফেরিঅলার কষ্ট,
কষ্ট নেবে কষ্ট?
আর কে দেবে আমি ছাড়া আসল শোভন কষ্ট,
কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন,
আমার মতো ক’জনের আর সব হয়েছে নষ্ট,
আর কে দেবে আমার মতো হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট!"
─ 'ফেরিঅলা' (যে জলে আগুন জ্বলে, ১৯৮৬)
যুদ্ধ-পরবর্তী গণতন্ত্রে, প্রবঞ্চিত সাম্যবাদের জন্য আকুতি পাবেন আপনি 'একটি পতাকা পেলে' কবিতাটিতে─
"কথা ছিল একটি পতাকা পেলে
আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা।
কথা ছিল একটি পতাকা পেলে
ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস
ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন─ ’পেয়েছি, পেয়েছি!’
কথা ছিল একটি পতাকা পেলে
পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে
ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।
কথা ছিল একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসম্মানে সাদা দুধে-ভাতে।
কথা ছিল একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।"
─ 'একটি পতাকা পেলে' (যে জলে আগুন জ্বলে, ১৯৮৬)
হেলাল হাফিজ বলেছিলেন, "'যে জলে আগুন জ্বলে' লিখে আমি আর কোনো কবিতা লিখিনি একটিই কারণে─ আমি প্রায় নিশ্চিত ছিলাম, এমন কবিতা আমি লিখতে পারবো না আর কখনোই।"
প্রিয় হেলেন, একটি মানুষ, আপনাকে ভুলতে পারলেন না তাঁর ইহজনমে, আপনি কি জানেন? হেলেন, আজ, বেলা ২:৪০ মিনিটে, ঢাকার পিজি হাসপাতালে এই জনম ত্যাগ করলেন, আপনার হেলাল। আপনাদের দেখা হোক ওইপারে, আপনাদের অন্তত একটিবার দেখা হোক জীবনের ওইপারে।
ওপারে ভালো থাকুন হেলেনের হেলাল।
হায়! "দুঃখের আরেক নাম হেলাল হাফিজ।"

ভাবী মেয়েটা একদম আমার মায়ের মত

 হেলাল হাফিজ শান্তি পায়নি জীবনে। হেলেন কি পেয়েছিল?

স্কুল জীবনে হেলেনের প্রেমে পড়ে হেলাল হাফিজ। দুজনে চুটিয়ে প্রেম করে । কিন্তু বিয়ে হয়নি। দারোগা পিতা হেলেনের ক্ষুদ্র স্কুল শিক্ষকের ছেলের সাথে বিবাহ দিতে রাজী হয়নি। হেলেনের বিয়ে হয় এক বিখ্যাত সিনেমা হলের মালিকের সাথে।
রাগে অভিমানে হেলাল হাফিজ ২ সপ্তাহ খায়নি কিছু। কারও সাথে কথা বলেনি। হেলেন তার জীবনে এত প্রভাব ফেলে যে হেলেনকে নিয়ে গোটাশুদ্ধ বই লিখেন।
কিন্তু হেলেনের কী হয়?
না, হেলেন স্বার্থপরের মত ভালোভাবে বাচতে পারেনি। বেচারি। হেলেনের জামাই অনেক বইয়ের সাথে বইমেলা থেকে যে জলে আগুন জ্বলেও কিনে নেয়। হেলেন বইটা পড়ে দেখে গোটা বইয়ে শুধু সে।
হেলেন নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায় হেলালের অভিশাপে। হেলাল হাফিজ কি চেয়েছিল সেটা?
নাহ, শেষ বয়সে আসার পরও হেলেনের নাম শুনলে হেলাল হাফিজ বাচ্চা শিশুর মত নাকি কাদতেন। এমনটাই উঠে এসেছেন আখতারুজ্জামান আজাদের সাক্ষাতকারে।
কাওকে হয়ত এতটা ভালোবাসতে নেই যে দ্রোহে নিজের ভালোবাসার মানুষটাই পাগল হয়ে যায়।
প্রেমের আগুনে হেলাল হাফিজ পুড়েছেন। নি:সংগ জীবন কাটিয়েছেন। উনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হতো , আপনি বিয়ে করছেন না কেন?
উনি নাকি হালকা হেসে বলতেন, কেউ আমাকে বিয়ে করেনি।
উনার পরিবার থেকে কারও প্রস্তাব আসলে উনি নাকি বলতেন, মেয়েটা আমার মায়ের মত।
অবশেষে পরিবারের চাপ কমাতে থাকা শুরু করেন মেসে। ভিন্ন নামে। ভিন্ন পরিচয়ে। কাওকে হেলেনের জায়গা দিতে পারেনি হেলাল হাফিজ। নিজেও সুখের দেখা পায়নি। হেলেনের ও সুখ হয়নি।
----------------------------------------
শাহবাগের সুপার হোস্টেলের একটা ঘরে একা থাকতেন কবি। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ওয়াশরুমের দরজা খুলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে খোলা হয়। পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি, হয়েছিলেন রক্তাক্ত।
এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবনে যেটা পাওয়ার কথা সেটা পায়নি কবি। দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা পরপাড়ে উনাকে সেটা দিক।
© এম. জে. বাবু

Thursday, December 12, 2024

পরিস্থিতির কাছে মানুষ অসহায়


একটা মেয়ে তার Boy Friend কে জিজ্ঞেস

করেছিলোঃ

--আচ্ছা অন্য কারো সাথে আমার বিয়ে

হয়ে গেলে তুমি কি করবে?

--ছেলেটা উত্তর দিলো, ভুলে যাবো

ছেলেটার উত্তর শুনে মেয়েটি রাগে

অন্যদিকে মুখ ঘোরালো।

ছেলেটি আবার বললো:

--সবচেয়ে বড় কথা

। আমি যত দ্রুত তোমাকে ভুলে

যাবো। তার চেয়েও বেশি দ্রুত

তুমি আমাকে ভুলে যাবে।

প্রেমিকা প্রশ্ন করলোঃ

--কি রকম?

ছেলেটি বলতে শুরু করলঃ

"মনে করো বিয়ের প্রথম তিনদিন তুমি এক

ধরনের ঘোরের মধ্যে থাকবে। শরীরে

গয়নার ভার, মুখে মেকআপ এর প্রলেপ,

চারিদিক থেকে ক্যামেরার ফ্লাশ,

মানুষের ভিড়। তুমি চাইলেও তখন আমার

কথা মনে করতে পারবে না। ''আর আমি তখন

তোমার বিয়ের খবর পেয়ে হয়তো কোন বন্ধুর

সাথে উল্টাপাল্টা কিছু খেয়ে পরে

থাকবো। আর একটু পর পর তোমাকে

হৃদয়হীনা বলে

গালি দিবো। আবার পরক্ষনেই পুরাতন

স্মৃতির কথা মনে করে বন্ধুকে জড়িয়ে ধরে

কাঁদবো। "বিয়ের পরের দিন তোমার আরো

ব্যস্ত সময় কাটবে। আর প্রথম সপ্তাহে ' স্বামী আর মিষ্টির

প্যাকেট, এই দুটো হাতে নিয়ে তুমি

বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে

বেড়াবে।

আমার কথা তখন তোমার হঠাৎ হঠাৎ মনে

হবে। এই যে যেমন স্বামীর হাত ধরার সময়, এক

সাথে গাড়িতে চড়ার সময়। আর আমি তখন

ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াব। আর বন্ধুদের

বলবো, বুঝলি দোস্ত, জীবনে প্রেম

ভালোবাসা কিছুই নাই সব মিথ্যা। "পরের মাসে

তুমি হানিমুনে যাবে, নতুন বাড়ি পাবে,

শপিং, ম্যাচিং,শত প্লান, আর স্বামীর

সাথে হালকা মিষ্টি ঝগড়া। তখন তুমি

বিরাট সুখে,

হয়তো আমার কথা মনে হলে ভাববে, আমার

সাথে বিয়ে না হয়েই বোধ হয়

ভালোই হয়েছে। আমি ততদিনে বাপ, মা,

বন্ধুর ঝাড়ি খেয়ে

মোটামুটি সোজা হয়ে গিয়েছি।

ঠিক করেছি কিছু একটা কাজ করতে হবে,

তোমার চেয়ে একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে

করে

তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে।

সবাইকে বলবো, তোমাকে ভুলে গেছি।

কিন্তু তখনও মাঝরাতে তোমার

এসএমএস গুলো বের করে পড়বো আর

দীর্ঘ একটা শ্বাস ছাড়বো। "পরের দুই বছর পর তুমি

আর কারো প্রেমিকা কিংবা

নতুন বউ নেই। মা হয়ে গিয়েছো।

পুরাতন প্রেমিকের স্মৃতি, স্বামীর আহ্লাদ,ভালোবাসা

এসবের চেয়েও বাচ্চার ডায়াপার,হামের টিকা

এসব নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকবে।

অর্থাৎ তখন আমি তোমার জীবন থেকে

মোটামুটি পারমানেন্টলি ডিলিট হয়ে

যাবো। এদিকে ততদিনে আমিও একটা কাজ পেয়ে গেছি।

বিয়ের কথা চলছে। মেয়েও পছন্দ হয়েছে।

আমি এখন ভীষণ ব্যাস্ত।

এবার সত্যিই আমি তোমাকে ভুলে

গিয়েছি।শুধু রাস্তা ঘাটে কোন প্রেমিক প্রেমিকা দেখলে

তোমার কথা খুব মনে পড়বে। কিন্তু তখন আর

দীর্ঘশ্বাসটাও আসবে না।

এতদূর পর্যন্ত বলার পর ছেলেটি দেখলো

প্রেমিকা ছলছল চোখ নিয়ে

ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে।মুখে কোন কথা নেই। ছেলেটি ও চুপচাপ।

একটু পর প্রেমিকা বললোঃ

"তবে কি সেখানেই সব শেষ?

ছেলেটি বলল, না।

কোন এক মন খারাপের রাতে তোমার

স্বামী নাক ডেকে ঘুমাবে। আর আমার বউও ব্যস্ত

থাকবে নিজের ঘুমের রাজ্যে।শুধু তোমার আর আমার চোখে ঘুম থাকবেনা। সেদিন অতীত আমাদের দুজনকে নিঃশ্বদে কাঁদাবে। সৃষ্টিকর্তা ব্যাতীত সে কান্নার কথা কেউ জানবে না,কেউ না

মেয়েটা তার বয়ফ্রেন্ডকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল

পরিশেষে মেয়েটা এটাই বলল যে

পরিস্থিতির কাছে মানুষ আজ অনেক অসহায় !!!!!

#কবিরূপে_শাকিল_আহমেদ

 

Source: https://www.facebook.com/100075821261370/posts/607909878413049/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-একটা উদাহারণ দিইআমাদের সময় সায়েন্সের ছেলেদের ইউনিভার্সিটিতে এসে ইংরেজি বা ইকোনমিকস পড়া ছিল ফ্যাশন। আমিও ফ্যাশনমতো ইকোনমিকসে ভর্তি হয়ে গেলাম। এক বন্ধু পড়বে কেমিস্ট্রি। তাকে নিয়ে কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে এসেছি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। কেমিস্ট্রির একজন স্যার হঠাৎ বারান্দায় এলেন। তাকে দেখে আমি মুগ্ধ। কী স্মার্ট, কী সুন্দর চেহারা। তিনি কী মনে করে যেন আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করলাম ইকোনমিকস জলে ভেসে যাক। আমি পড়ব কেমিস্ট্রি। ভর্তি হয়ে গেলাম কেমিস্ট্রিতে। ওই স্যারের নাম মাহবুবুল হক। কালিনারায়ণ স্কলার। ভৌত রসায়নের ওস্তাদ লোক। যিনি অঙ্ক করিয়ে করিয়ে পরবর্তী সময়ে আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন।

পিএইচডি করতে গেলাম ভৌত রসায়নে। কোর্স ওয়ার্ক সব শেষ করেছি। দু বছর কেটে গেছে। একদিন বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে সিগারেট টানছি। হঠাৎ লক্ষ করলাম, তিনশ দশ নাম্বার রুমে বুড়ো এক ভদ্রলোক ক্লাস নিতে ঢুকলেন। রোগা লম্বা একজন মানুষ। গায়ে আলখাল্লার মতো কোট। আমার কী যে খেয়াল হলো কে জানে। আমিও ক্লাসে ঢুকলাম। সমস্ত কোর্স শেষ করেছি, আর কোর্স নিতে হবে না। কাজেই এখন নিশ্চিন্ত মনে একটা ক্লাসে ঢোকা যায়।

বুড়ো ভদ্রলোকের নাম জেনো উইকস। পলিমার রসায়ন বিভাগের প্রধান। আমি তাঁর লেকচার শুনে মুগ্ধ। যেমন পড়ানোর ভঙ্গি তেমনই বিষয়বস্তু। দৈত্যাকৃতি অণুর বিচিত্র জগৎ। ক্লাস শেষে আমি তাকে গিয়ে বললাম, আমি আপনার বিভাগে আসতে চাই। ভৌত রসায়নের প্রফেসর সব শুনে খুব রাগ করলেন। আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, তুমি যা করতে যাচ্ছ, খুব বড় ধরনের বোকারাও তা করে না। পিএইচডির কাজ তোমার অনেক দূর এগিয়েছে। কোর্স ওয়ার্ক শেষ করেছ এবং খুব ভালোভাবে করেছ। এখন বিভাগ বদলাতে চাও কেন? মাথা থেকে এসব ঝেড়ে ফেলে দাও।

আমি ঝেড়ে ফেলতে পারলাম না। ঢুকে গেলাম পলিমার রসায়নে। প্রফেসর জেনো উইকস অনেক করলেন। আমাকে ভালো একটা স্কলারশিপ দিলেন। বইপত্র দিয়ে সাহায্য করলেন। কাজ শুরু করলাম পলিমার রসায়নের আর এক জাঁদরেল ব্যক্তি প্রফেসর গ্লাসের সঙ্গে। পলিমারের সব কোর্স যখন নিয়ে শেষ করেছি তখন প্রফেসর গ্লাস আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে বললেন, মাই ডিয়ার সান, দয়া করে এখন শখের বশে অন্য কোনো ক্লাসে গিয়ে বসবে না। ডিগ্রি শেষ করো। আরেকটা কথা, আমেরিকান সিটিজেনশিপ পাওয়ার ব্যাপারে আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই।

আমি বললাম, আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

তুমি চাও না?

না, আমি চাই না। ডিগ্রি শেষ হওয়ামাত্র আমি দেশে ফিরে যাব।

বিদেশী ছাত্ররা শুরুতে সবাই এ রকম বলে। শেষে আর যেতে চায় না।

আমি চাই।

ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরলাম। সাত বছর আমেরিকায় কাটিয়ে যে সম্পদ নিয়ে ফিরলাম তা হলো নগদ পঞ্চাশ ডলার, দুই স্যুটকেস ভর্তি বাচ্চাদের পুরানো খেলনা, এক স্যুটকেস বই এবং প্রচুর চকলেট।

 

আমি যে সব সময় ইমপালসের উপরে চলি তা কিন্তু না। কাজে-কর্মে, চিন্তাভাবনায় আমি শুধু যে গোছানো তা না, অসম্ভব গোছানো। কখন কী করব, কতক্ষণ করব তা আগেভাগে ঠিক করা। কঠিন রুটিন। সময় ভাগ করা, তারপরেও হঠাৎ হঠাৎ কেন জানি মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। উদ্ভট একেকটা কাণ্ড করে বসি। কোনো সুস্থ মাথার মানুষ যা কখনো করবে না।

--অনন্ত অম্বরে। হুমায়ূন আহমেদ।

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...