Saturday, June 29, 2024

এ পি জে আব্দুল কালাম

 অন্য এক সাধু এবং প্রার্থনার গল্প।

Mohammad Abu Hanefa


এ পি জে আব্দুল কালামকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেকদিনের। তাঁর লিখা প্রায় সব বই পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। মাস তিনেক আগে পড়ছিলাম তাঁর 'টার্নিং পয়েন্টস'। এয়ারপোর্টে। খুব ভোরের ফ্লাইট। কিন্তু লেইট। কবে ছাড়বে বোঝা যাচ্ছেনা। আমার সময় কাটছে 'টার্নিং পয়েন্টস' নিয়ে। পাশে এক ভদ্রলোক বসা। বেশ সজ্জন।হঠাৎ নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করলেন, কালাম সাহেব জীবনের টার্নিংগুলো দেখেছেন?? কী টান টান!! এন্ড হি ওয়াজ আ গিফটেড পারসন।
বললাম, হা, নয়তো, মাঝির সন্তান থেকে এত বড় বিজ্ঞানী, তারপর ভারতের রাষ্ট্রপতি ---------
উত্তর এলো, বিজ্ঞানী কালাম, রাষ্ট্রপতি কালাম, আঠারোটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পদক পাওয়া কালাম, আটটি ডক্টরেট পাওয়া কালামকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর নিজের লেখা বই পড়লে হবে না।
মানে বুঝলাম না- একটু অবাক হই।
না, মানে, বড় মানুষেরা নিজেদের 'বড়ত্ব' নিজের লেখা বইতে কখনো লিখেন না।কালাম আসলে যতোটা না বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রপতি , শিক্ষাবিদ , তার চাইতে বেশী হচ্ছেন একজন সাধু। আ রিয়েল সেইন্ট।
কীভাবে???
তিনি হাসলেন, তিনটা বই এর নাম লিখুন,
১। The Kalam Effect: My Years With The President by P M Nair.
২।What Can I Give?: Life lessons from My Teacher - Dr A.P.J. Abdul Kalam – Srijan Pal Singh
৩।A P J Abdul Kalam- A Life---Arun Tiwari
তারপর বললেন এগুলো পড়লে বুঝবেন।
এভাবেই ইরতিয়াজ ভাই এর সাথে পরিচয়। লন্ডন থাকেন। একটা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকে কাজ করেন। বড় ধরণের কাজ, সেটা বিজনেস কার্ড বলছে।
বাতিঘরে'র অসাধ্য কিছুই নেই। তাঁরা ক'দিন আগে আউট অব প্রিন্ট একটি বই, গাদ্দাফির ব্যক্তিগত পাইলটের লিখা-- বিলেতের পুরানো বই এর দোকান থেকে এনে দিয়েছেন। তাঁদের জন্য তো এ তিনটা বই কোন ব্যাপারই না।
গত দু'মাস এ তিন বই নিয়ে ডুব মারলাম। সবচে, কষ্ট দিলো শেষেরটা।লেখক অরুণ তেওয়ারি ছিলেন ড. কালামের বিজ্ঞানী সহকর্মী। তাই এতে তিনি তাঁর গুরুর বৈজ্ঞানিক কাজের বিস্তারিত লিখেছেন, দাঁত ভাংগা সায়েন্স।এর মধ্য থেকে পরিস্কার হয়ে আসছেন, 'সাধু" ড. কালাম। একদিকে তিনি মিজাইল বানাচ্ছেন, অন্যদিকে বানাচ্ছেন পোলিও আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য সহজলভ্য কৃত্রিম পা। বাকী দুটো বই বেশ সহজ।
তিনটা বই শেষ করে ইরতিয়াজ ভাইকে ইনবক্স করলাম, "দা সেইন্ট ইজ ডিসকভার্ড।"
তিনি জবাব দিলেন,হোয়াট ইম্প্রেসড ইউ মোস্ট?
আমি লিখলাম,২০০৬ সালে 'প্রমুখ স্বামী মহারাজের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ।
এত কিছু বাদ দিয়ে ওটা কেন?? ইরতিয়াজ ভাই এর বিস্মিত ইনবক্স।
কারণ তাঁর প্রার্থনা, আমার ছোট্ট উত্তর।
কী প্রার্থনা?? প্লিজ মনে করিয়ে দিন।
সে রাতে তিনি স্বামীজীর কাছে আবেদন করেছিলেন, 'আপনি প্রার্থনা করুন, আমি যেন ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বক্তৃতা দিতে দিতে মারা যাই।"
নয় বছর পর, ২৭ জুলাই,২০১৫ সালে শিলং এ ছাত্রদের সামনে বক্তৃতা দেয়ার সময়ই ড. কালাম হৃদ যন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা যান।
কিন্তু এটা কেন আপনাকে এত টানলো, তাঁর অন্য সব ছেড়ে??? ইরতিয়াজ ভাই এর প্রবল বিস্ময়।
কারণ, আমি অতি তুচ্ছ মানুষ, কিন্তু সব মানুষের প্রভুর কাছে চাইবার অধিকার সমান। প্রেসিডেন্ট কালামের যে অধিকার, আমার ও তাই। পরম করুণাময়ের কাছে সবাই সমান।
তারপর??? ইরতিয়াজ ভাই এর তাৎক্ষণিক ইনবক্স।
আমি ছোট, অতি নগন্য হলেও এটা পড়ার পর আমার মনে হয়েছে, যে বয়সেই হোক, আমি যেন আই হ্যাভ আ ড্রিম অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে কথা বলতে বলতে চলে যাই!!!!!!

source: https://www.facebook.com/groups/905458924023335/permalink/991139732121920/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

পিরামিড রহস্য


পিরামিডের নির্মাতা কে হতে পারে এ বিষয়ে এটা আমাদের মাথায় আসার আগে পিরামিনড টা কি ভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এ সম্পর্কে আমাদের ধারণা মাথায় থাকা দরকার।
নম্বর ১
বড় পিরামিড যেটাকে খুফর বলা হয় এটা নির্মাণ করতে ২৩ লক্ষ্য ব্লক ব্যবহার করা হয়েছিল এর সর্বনিম্ন ছোট ব্লকটির ওজন ২৭ হাজার কেজি।
এক একটা ব্লকের ওজন ২৭ হাজার কিলোগ্রাম থেকে নিয়ে ৭০ হাজার কিলো গ্রাম পর্যন্ত ছিল।
নম্বর ২
এ ব্লক বা পাথরের টুকরাগুলো যেভাবে ফিনিশিং করা হয়েছে কাটা হয়েছে এটা অত্যাধুনিক জামানার লোহা কাটা মেশিন এর মাধ্যমেও সম্ভব নয়।
নম্বর ৩
আমরা জানি মিশরিয়রাই সর্বপ্রথম জ্যামিতি আবিষ্কার করেন, কিন্তু আজ থেকে ৫০০ বছর আগে আধুনিক জ্যামিতির আবিষ্কার হয়। অথচ অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে জ্যামিতি ব্যবহার করে পিরামিডগুলো নির্মাণ করা হয়েছে ।খুফুর পিরামিডের সাথে তিনটি পিরামিড তিনটি তারকাকে লক্ষ্য করে।
নম্বর ৪
মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সব সময় দেখা যায় যে লু হাওয়া অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা কিন্তু পিরামিডের মধ্যে সব সময় বিশ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা মানে এয়ারকন্ডিশন এসি।
নাম্বার ৫
এ পিরামিড গুলো আজ থেকে চার-পাঁচ হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে কি রড বালু সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে যে ৪০০০ বছরেও সেটা স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে অথচ বর্তমান অত্যাধুনিক জামানার রড সিমেন্টের বিল্ডিং সর্বোচ্চ 150 বছর টেকশই হয় ।
নাম্বার ৬
এ পিরামিডগুলো যখন আবিষ্কার করা হয় তখনকার মানুষের হাইট ছিল সর্বোচ্চ ১০ ফিট বর্তমান ফেরাউনের লাশ এখনো মিশরে অক্ষত আছে যার দৈর্ঘ্য ৮ ফিটের উপরে নয়। (ধরলাম, মনে করলাম, সর্বোচ্চ 20 ফিট) এতো কম হাইটের মানুষ কিভাবে এত বড়ো পাথর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে আসবে ? এই খুফুর পিরামিড ছিল ৪২ তলা বিল্ডিং এর সমান 1889 সালে আইফেল টাওয়ারের পূর্ব পর্যন্ত এ চার হাজার বছর এই পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ স্থাপনা ছিল পিরামিড। এত বড় বড় পাথরের টুকরা গুলো এত উপরে এতো কম হাইটের মানুষের পক্ষে কিভাবে স্থাপন করা সম্ভব হয়েছিল ⁉️🤔
নম্বর ৭
পিরামিড নির্মাণের পর পরবর্তী প্রজন্ম থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী কোন ব্যক্তি খুঁজে পাইনি পিরামিডে ব্যবহৃত পাথরগুলো ঠিক কোথায় থেকে কিভাবে নিয়ে আসা হয়েছিল।
নাম্বার ৮
পিরামিডের মধ্যে কি আছে কেন নির্মাণ করা হয়েছিল এত অর্থবহুল ভাবে এটা যাচাইয়ের জন্য অত্যাধুনিক জামানায় বিজ্ঞানীরা ভেতরে প্রবেশ করার জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েছে সর্বশেষ ক্যামেরা পাঠিয়েছে ডানে বামে দুই একটি ছবি তোলার পর ক্যামেরাটি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেছে তারপর থেকে নিয়ে সেখানকার সরকার প্রশাসন গবেষণা নিষিদ্ধ করেছে।
তাহলে ক্যামেরাটি বন্ধ করলো কে⁉️ ভেতরে কারা আছে কি করছে তারা বাহিরের মানুষকে তাদের বিষয় সম্পর্কে জানতে দিচ্ছে না🤔
নাম্বার ৯
আমেরিকা পিরামিডের দেশ নয় পিরামিড তাদের প্রতীক নয় অথচ ওয়ান ডলারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে পিরামিডের ছবি এবং মাথার উপর দেখা যাচ্ছে একটি চোখ 🤔
কি এর রহস্য পিরামিড নির্মাতার দিকে ইঙ্গিত করছে না তো⁉️
নম্বর ১০
বর্তমান অত্যাধুনিক জামানা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নাসার বিজ্ঞানীরা ভিনগ্রহেএলিয়েনের সন্ধ্যান পেয়েছে বলে আত্মতৃপ্তির শেষ নেই মনে হচ্ছে পুরো মহাবিশ্বের তথ্য হাতে মুঠোয় আনতে পেরেছে অথচ এর পেছনেও তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রমাণাদি নেই । অথচ আজ থেকে চার হাজার বছর আগে নির্মিত পিরামিডের দেয়ালে এলিয়েনের চিত্রঅঙ্কন করলো কে⁉️
বর্তমান আধুনিক জামানায় বিদ্যুতের আবিষ্কার হলো অথচ চার হাজার বছর পূর্বে প্রাচীন যুগে হেলিকপ্টার ও বৈদ্যুতিক বাল্বের ছবি কে কিভাবে পিরামিডের দেয়ালে অঙ্কন করল ⁉️
কে জানত তখন থেকে ৪ হাজার বছর পর সাবমেরিন এর আবিষ্কার হবে আর সে সাবমেরিন 4000 বছর পূর্বেই পিরামিডের দেয়ালে অঙ্কন করল ⁉️
বিবেকের চশমা দিয়ে দেখতে থাকুন ভাবতে থাকুন সব উত্তর এসে যাবে।
ভাই মিশরীয় সভ্যতা অনেক উন্নত ছিলো তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা অনেক উন্নত করেছিলেন অনেক উন্নত বানিয়েছিলেন কিন্তু তারা আল্লাহকে মেনে চলেনি এজন্য তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আমরা তাদের এক দশমাংস উন্নত হতে পারিনি। মানে দশের এক অংশও উন্নত হতে পারিনি।
Allah Subhanahu Wa Ta'ala said:
"তাদের পূর্ববর্তীরাও (সত্যকে) মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। তবুও ওরা যখন আমার রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল তখন কত ভয়ংকর হয়েছিল আমার শাস্তি।"
(QS. Surah Saba' chapter 34: Verse 45)
সংগৃহীত তথ্য।

source: https://www.facebook.com/100069422742897/posts/785268620463889/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুস

৮০৯ ম্যাচ। ১৭০৭ উইকেট!

ওপরের সংখ্যাগুলো দেখার পর আর কিচ্ছুটি বলার দরকার নেই। একেবারে কিচ্ছুটি না। দু জন বোলার নিজেদের মধ্যে ১৭০৭টি আর্ন্তজাতিক উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এরপর আর একবারও মুখ ফুটে বলার দরকার নেই যে, তারা এই ক্রিকেট দুনিয়ার ইতিহাসের সফলতম বোলিং জুটি।
আসলে ‘সফলতম’ বললে ঠিক বোঝা যায় না। ইংরেজি শব্দ টেনে বলা উচিত-লেথাল। হ্যাঁ, দুনিয়ার সবচেয়ে ঘাতক পেস বোলিং জুটি ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুস।
শন পোলক বলেছেন, ‘সর্বকালের সেরা? অবশ্যই ওয়াসিম ও ওয়াকারের জুটি। কী উইকেটে খেলা হচ্ছে, সেটা ব্যাপার না। তারা তাদের স্কিল দিয়ে সেটা জয় করে নিতে পারতেন। বিশ্বসেরা জুটি বেছে নিতে হলে আমি তাঁদেরই বেছে নেবো।’
ওয়াসিম-ওয়াকারের গল্প বলতে বসলে তো ছোটখাটো একটা মহাকাব্য হয়ে যাবে। ফলে দু’জনের সাফল্য নিয়ে কথা না হয় আজকের মতো তোলা থাক। আজ বরং এই দুই কিংবদন্তির সম্পর্ক নিয়ে আলাপ করা যাক। আলাপ করা যাক দু’জনের বন্ধুত্ব নিয়ে।
কী বিশ্বাস হচ্ছে না?
যারা ইদানিংকালের খোজখবর রাখেন, তাঁদের কাছে ওয়াসিম-ওয়াকার কেবলই দু’জন ‘শত্রু’। তারা একে অপরের সাথে খুব একটা দায়ে না পড়লে কথা বলেন না, পরষ্পরের সামনে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না; এমনকি একসাথে কাজ করার প্রস্তাব পেলেও ফিরিয়ে দেন। কিন্তু চিরটাকাল এমন ছিলো না গল্পটা। একসময় তাঁরা দু’জন ছিলেন দুই দেহ এক প্রাণের বন্ধু।
মাঠে জুটি করার পাশাপাশি মাঠের বাইরে ওয়াসিম-ওয়াকার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলেন। ওয়াকারের প্রতি ওয়াসিমের তখনকার স্নেহটা ছিলো ভাতৃসূলভ। দু’জন হোটেল রুমে, ড্রেসিংরুমে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটের বাইরের বিষয় নিয়ে সমানে আড্ডা দিতেন। এমনকি বিদেশ সফরে একসাথে ঘুরতেও দেখা যেতো তাদের।
পাকিস্তানী গ্রেট পেসার মুদাসসর নজর বলেছেন নব্বই দশকের মাঝামাঝি দু’জনের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। ঠিক কী নিয়ে দু জনের মধ্যে মনোমালিন্য ছিলো, এ কখনো জানা যায়নি। তবে লেখকরা মনে করেন, মূলত ইগোর লড়াই থেকেই এই টানাপোড়েন। দু জনই টের পাচ্ছিলেন যে, পরষ্পরকে তারকা হিসেবে দু জন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
প্রথম প্রকাশ্যে সমস্যা হয়েছিলো ১৯৯৩ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। ওয়াসিম তখন প্রথম অধিনায়ক হয়েছেন। পাকিস্তান ৪৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর ওয়াসিম টিম মিটিংয়ে সিনিয়রদের সাথে কঠোর ব্যবহার করেন। বলেন যে, সবাইকে নেটে আরও কঠোর হতে হবে এবং বেশি সময় দিতে হবে। এই কথায় সিনিয়ররা খেপে গিয়ে ওয়াসিমের বিরুদ্ধে গ্রুপিং করেন। এবং বলা হয় যে, ওয়াসিমের তার আগ পর্যন্ত প্রিয়তম বন্ধু ও সহঅধিনায়ক ওয়কার নাকি এই ‘বিদ্রোহ’ উষ্কে দিয়েছেন।
এর ধারাবাহিকতায় দ্রুত ওয়াসিমকে সরিয়ে সেলিম মালিককে অধিনায়ক করা হয়।
তারপরও সে সময় অবশ্য প্রকাশ্যে কখনো দু জন গন্ডগোল করেননি। ১৯৯৯ সালে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ভারতে থাকা অবস্থায় আসলে প্রথম বিস্ফোরনটা হয়। ওয়াসিম তখন অধিনায়ক।
দিল্লি টেস্ট হেরে যাওয়ার পর ওয়াসিম ও ওয়াকার ড্রেসিংরুমে সবার সামনে একে অপরকে দোষারোপ করেন এবং ‘আগলি’ কথার লড়াইয়ে জড়ান।
পুরো ব্যাপারটা জঘন্য একটা রূপ পেলো ২০০৩ বিশ্বকাপে এসে। এর আগ পর্যন্ত যা অনেকটাই আড়ালে ছিলো, তা প্রকাশ্যে চলে এলো। সে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন ওয়াকার ইউনুস। বলা হয়, ওয়াসিমকে দলে নেওয়াতেই তার আপত্তি ছিলো। তারপরও দলে আসার পর দু জনের কথাবার্তাই বন্ধ। পরষ্পরকে ইঙ্গিত করে বাজে কথা বলার নজিরও দেখা গেলো।
পাকিস্তান দল ওয়াকার ও ওয়াসিমের দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলো। কোনো পক্ষ কারো সাথে কথা বলতো না। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ইনজামাম-উল হক। তিনি সবার সাথে কথা বলতেন। অধিনায়ক ওয়াকার কোনো প্রয়োজন হলে ইনজামামের মাধ্যমে ওয়াসিমদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
এই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিলো। ফলে ওই ২০০৩ বিশ্বকাপ দু জনের জন্যই শেষ আর্ন্তজাতিক আউটিং হয়ে রইলো। এই ভয়াবহ বাজে সম্পর্কের কারণে দু জনেরই ক্যারিয়ার একই সাথে, একই দিনে শেষ হয়ে গেলো।
এও যেনো নিয়তির লেখা!
এখন কী অবস্থা? ওয়াসিম ধারাভাষ্যকার বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ওয়াকার পাকিস্তানের কোচ ছিলেন, এখন বোলিং কোচ। ফলে হুটহাট দেখা হয়ে যায়। হাত মেলান দু জনে। ছবির জন্য পোজও দেন। এ পর্যন্তই। কথা বিনিময়ে খুব একটা হয় না।
ক্রিকেট ইতিহাস অবশ্য এই দোস্ত বা দুশমনদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক মনে রাখবে না। ইতিহাসে লেখা থাকবে, পাকিস্তানে এসেছিলেন সর্বকালের সেরা দুই পেসার।
সেই সাফল্যটাই মনে রাখি আমরা।




Source:: https://www.facebook.com/100050251579629/posts/1020075153010861/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v




বাঁচাও বাংলা ভাষা


ফেরদৌস আহমেদ

বাংলা ভাষার পাখা শব্দ
হয়ে গেল ফ্যান
এক "শ"হল হান্ড্রেড আর
দশ হয়েছে টেন ।
মেয়ে বন্ধু গার্লফ্রেন্ড হল
দুঃখিত টা সরি
খালা, ফুফু আন্টি হল
ট্যাবলেট হল বড়ি
শিক্ষক থেকে টিচার হল
বিদ্যালয়টা স্কুল
নাপিত ভাইয়ের সাইনবোর্ডে
হেয়ার হলো চুল ।
ফেব্রুয়ারির একুশ হলো
ফাল্গুন মাসের আট
কাগজ শব্দ পেপার হল
রোড রাস্তাঘাট ।
বিজ্ঞাপনে সাবান শব্দ
হল বিউটি সোপ
যাতায়াত টা জার্নি হল
স্টপ হয়েছে চুপ।
বাজার থেকে মার্কেট হল
শপিং কেনাকাটা
ভ্রমণ থেকে ট্যুর হল
জগিং ভোরের হাঁটা।
করমর্দন হ্যান্ডশেক হল
মুরগি চিকেন ফ্রাই
গাড়িচালক ড্রাইভার হল
চেষ্টা হল ট্রাই।
ব্যবস্থাপত্র প্রেসক্রিপশন আর
সেবিকা হল নার্স।
সম্পূর্ণটা ফুল হলো আর
অংশ হল পার্স ।
সাহায্যকারী হেলপার হল
গিফট উপহার
নববর্ষ হয়ে গেল
হেপি নিউ ইয়ার।
ক দিন আগেও ছিল না এই
মিশ্র ব্যবহার
চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে
এটা কি কারবার ।
বাংলা ভাষার অনেক শব্দ
পরছে ঝরে ঝরে
মায়ের মুখের ভাষা যাচ্ছে
আগাছা তে ভরে ।
এই জন্য দায়ী কিন্তু
তুমি আমি ভাই
অকারণে বাংলা রেখে
ভিনদেশী গান গাই।
এইজন্য কি রক্ত দিয়ে
বাংলা এনেছি
সালাম বরকত প্রশ্ন করলে
উত্তর দেবে কি ?
বিদেশী ভাষা ব্যবহারে
হই এসো সাবধান
বাঁচিয়ে রাখি প্রাণের প্রিয়
বাংলা ভাষার প্রাণ।

আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট

দৌড় শুরু করার পরও ,

ইউসুফ (আঃ) জানতেন না দরজা খুলে যাবে।
মুসা (আঃ) জানতেন না
সাগর চিরে পথ তৈরি হবে।
কিন্তু নিশ্চিত জানতেন
আল্লাহ বাঁচাবেন ,
এবং , তাই হয়েছিল ! 
 
" আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট ,
এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মকর্তা। "
(আলে-ইমরান ১৭৩)

নাই নাই

ফেরদৌস আহমেদ
 
নৌকাতে পাল নাই
গরুটানা হাল নাই
খড়ে ছাউয়া চাল নাই,
নাই আজ হারিকেন ও নাই কেরোসিন
সবকিছু যেন আজ হাওয়ায় বিলীন।
মাটে-ঘাটে খেলা নাই
বৈশাখী মেলা নাই
ঠেলা গাড়ি ঠেলা নাই
নেই সেই চির চেনা জারি সারি গান
এই কথা মনে হলে কেঁদে ওঠে প্রাণ ।
কাঠের ঐ ঢেঁকি নাই
চিঠি লেখা-লেখি নাই
আধুলি ও সিকি নাই
নেই সেই রুমাল আর নেই কারুকাজ
হারানোর শোকে তাই চোখে জল আজ।
রাতে বর যাওয়া নেই
পাটি পেতে খাওয়া নেই
বিয়ে গীত গাওয়া নাই
নেই মাটি কলস আর নেই তার জল
সে ব্যথায় চোখ দুটি করে টলমল।
শিয়ালের ডাক নাই
শকুনের ঝাঁক নাই
হুক্কা তামাক নাই
নাই সেই গরুগাড়ি লাঙ্গল আর মই
মন বলে আহা সব কই গেল কই!
মাটির ঐ হাড়ি নাই
বেয়ারিংয়ের গাড়ি নাই
নন্দিনি শাড়ি নাই
নাই সেই স্মৃতি মাখা ইকোনো কলম
ভাবতেই হায় হায় যায় যায় দম ।
কূপের ঐ পানি নাই
কুলুদের ঘানি নাই
সেই মেজবানি নাই
পাটের ঐ শিকাটা ও নাই আজকাল
"নাই "ঝড়ে জীবন আজ বড় নাজেহাল।
কবাডি হাডুডু নাই
কুতকুত ও লুডু নাই
ভিউকার্ডে ফটো নাই
নাই সেই জলে ভাসা কসকো সাবান
মনে হলে বুকে বাজে বিরহের গান ।
লোকে লোকে মিল নাই
বিল যেন বিল নাই
পাটা আর শীল নাই
চুড়ি আর ফিতা দিয়ে নাই সেই সাজ
নাই নাই করে শেষ আগের সমাজ।

তবুও মা যেন কেমনে সব বুঝে

 স্কুল থেকে বাসায় এসে দেখি মামা এসেছে। মামা আসলে আমাদের বাসায় একটা উৎসবের মতো হয়।মামা প্রতিবার বিভিন্ন বিখ্যাত খাবার নিয়ে আসে। গতবার এনেছিল কুমিল্লার রসমালাই। আমার বাবা একটা জুট মিলে চাকুরী করে।আমাদের খুব অভাবের সংসার।

তারউপর আমার পড়ালেখার খরচ।
মেহমান ছাড়া আমাদের বাসায় পোলাও রান্না হয় না।পোলাও আমার প্রিয় খাবার। অপেক্ষায় থাকি কবে মেহমান আসবে।মামা কে দেখে আমি প্রচন্ড খুশি! ভাবছি আজ পোলাও রান্না হবে!
বাবা বাজার থেকে গরুর মাংস এনেছে।গরুর মাংস আর পোলাও।আমি আবার নরম মাংস ছাড়া খেতে পারি না।মা জানে এটা।মা আমার খাবারের দূর্বলতা জানে।মায়েরা সব বুঝে! আমার জন্য আলাদা করে বেছে মাংস রেখে দেয়।যে-দিন পোলাও রান্না হয়।মা একটু বেশি করে রান্না করে।
মাংসতেও আলু ঝোল দিয়ে রান্না করে, যেন পরের দিন সকালে খেতে পারি।সকালে আগেরদিনের মাংসের ঝোল এক/দুটোকরা আলু দিয়ে
পোলাও সেই স্বাদ! আমরা যে ভাবে বেড়ে উঠেছি,সেখানে আমার এটা পছন্দ এসব বলার সুযোগ নেই।তবুও মা যেন কেমনে সব বুঝে!
আমাদের রান্না ঘরটা একটু দূরে, রান্না ঘরের পাশে বাথরুম। বাথরুম বলতে একটা ঘর নিচে পাকা করা, একটা চাপ কল। কলেই গোসল, খাবার পানি সব। মা রান্না করছে।আমি আজ খেলতে বের হয়নি। একটু পর পর রান্না ঘরে যাই।দেখি মায়ের রান্না কখন শেষ হবে।মামা আজ বগুড়ার দই এনেছে।
মায়ের রান্না শেষ, সবাইকে খেতে দিবে আমরা সবাই খেতে বসেছি।
মা গেল চাপ কল থেকে পানি আনতে।আমাদের চাপ কলটা একটু শক্ত।
চাপ দিতে গিয়ে মা,কলের হাতেল ছিটকে মারাত্বক ব্যাথা পেলেন, পরে গেলেন পাকার উপর,অজ্ঞান হয়ে গেলেন, মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল।
মায়ের জ্ঞান ফিরলো ঘন্টাখানিক পর।মাথায় আঘাত পেয়েছেন।
ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। দূরে দাড়িয়ে কাঁদছি। মা আমাকে কাছে ডাকলেন
ইশারায়। আমি মায়ের বেডের পাশে বসলাম।মা মাথায় হাত দিয়ে বললো খেয়েছিস? আমি কাঁদছি।কাঁদছিস কেন বোকা আমার কিছু হয়নি।
বাসায় যা আলমারির মাঝের তাকে তোর জন্য বাটিতে মাংস রেখেছি!!!

source: https://www.facebook.com/100090252501530/posts/422736914078055/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...