Saturday, December 14, 2024

মৌমাছির জীবন !

মৌমাছি

এদের দুটি পাকস্থলী থাকে। একটি খাওয়ার জন্য এবং অন্যটি পরাগ সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করার জন্য। মৌমাছি গড়পড়তায় মাত্র ৪০ দিন বাঁচে। আর এই সময়ে সে কমপক্ষে প্রায় দশলক্ষ বার ফুলে ফুলে ছুটোছুটি করে এক চামচেরও কম মধু উৎপন্ন করে। তারপর মারা যায়।

আমাদের চোখে যা কেবলমাত্র এক চামচ মধু । কিন্তু মৌমাছির জন্য এটা সম্পূর্ণ একটা জীবন।
আমাদের মাঝেও এরকম কিছু মানুষ আছে। মৌমাছির মতো। যারা অকাতরে দিয়ে যায়, তারপর প্রাণ হারায়।
যেমন- খাবারের সময় চোখের সামনে আমরা শুধু এক প্লেট ভাতই দেখি। কিন্তু এই এক প্লেট ভাতের পেছনে একজন কৃষকের ঘামে ভেজা জীবন দেখিনা। আমার শুধু পরনের একটা পোষাকই দেখি। কিন্তু এর পেছনে একজন বোনের চার দেয়ালের ভিতর বন্দি জীবন দেখিনা। আমরা শুধু বিদেশি রেমিট্যান্স দেখি, কিন্তু এর পেছনে একজন পরবাসী মানুষের জীবন সংগ্রাম দেখিনা।
মেলাদিন আগে মাছ ধরে ফেরা এক জেলে ভাইকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম- সমূদ্র ভালো লাগে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন- না। যে সমূদ্র সৈকত আপনাদের জন্য এমন আনন্দদায়ক বিনোদন। তা আমাদের জন্য শুধুমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন।
একবার মাওলানা ভাসানীর কাছে খবর এলো তাঁর এক ভক্ত কৃষক খুবই মরণাপন্ন। তিনি যেন একবার তাকে দেখতে যান।
মাওলানা ভাসানী ছুটে গেলেন সেই দরিদ্র কৃষকের কাছে। তারপর, তাঁর পাশে গিয়ে বসলেন। মমতা ভরে কন্ঠে জানতে চাইলেন- তিনি কিছু খেতে চান কিনা।
দরিদ্র কৃষক কোনো রকমে মুখে খুলে বললেন- সারা জীবন একটা রসগোল্লা খাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি। তার বড় ইচ্ছা করছে একটা রসগোল্লা খাওয়ার।
মাওলানা তাড়াতাড়ি করে বাজার থেকে রসগোল্লা কিনে নিয়ে এসে কৃষকের মুখে ধরলেন। কৃষক অর্ধেক খেয়েই চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন।
এর কিছুদিন পর মাওলানা জনসেবায় বলছেন- সারা জীবন ধরে এমন রাজনীতি করে গেলাম বাংলার এক দুঃখী কৃষককে একটা পুরো রসগোল্লা খাওয়াবার সৌভাগ্যও অর্জন করতে পারলাম না। তারা শুধু আমাদের মধু দিয়েই গেলো, কিন্তু বিনিময়ে তাদের কোনো প্রতিদান দিতে পারলাম না।

source: https://www.facebook.com/781738204/posts/10162515047553205/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

No comments:

Post a Comment

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...