০১.
যমুনা ফিউচার পার্কে লিফটে ওঠার সময় একটা মেয়ে আমার হাতটা টেনে দাঁড় করালো। মেয়েটার দিকে ভালো করে তাকালাম, চিনতে পারলাম না। বললাম “ জ্বি বলুন! ”
মেয়েটা খানিকটা লজ্জা পেয়েছে, তার চোখের দিকে তাকিয়েই সেটা অনুমান করা যায়। মেয়েটা থতমত খেয়ে বললো,
“ আমাকে আপনি চিনবেন না। এর আগে কখনো আমাদের কথা হয়নি। আপনাকে আমি একবারই শুধু দেখেছি তা-ও আবার একদিন হালকা বৃষ্টি ভেজা দিনে। ”
আমি চারিদিকে তাকিয়ে আবারও মেয়েটার দিকে তাকালাম। ঠিক কি কারণে বা কোন উদ্দেশ্য মনের মধ্যে সেটা বুঝতে চেষ্টা করছি। নিজের মনের মধ্যে সেরকম যুতসই কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে পারিনি তাই তার মুখ থেকে কিছু শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
মেয়েটা তার হাতের মোবাইলে কিছু একটা করতে লাগলো। মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে আমাকে বললো ,
“ আপনার অনুমতি না নিয়েই সেদিন আমি একটা ভিডিও করেছিলাম। যদিও সেটা একদমই উচিৎ হয়নি, কিন্তু মেঘলা দিনের সেই হালকা বৃষ্টি ভেজা দিনে অমন রোমান্টিক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী না করে থাকতে পারিনি। ”
মনে হচ্ছে মেয়েটা সেই ভিডিওটা আমাকে দেখাবে তাই মোবাইল থেকে বের করছে। মেয়েটা এবার তার মোবাইলের স্ক্রিনটা আমার দিকে ঘুরিয়ে দিল। সেখানে দেখাচ্ছে “ আমি একটা রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, রিকশায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে নাদিয়া। হালকা বৃষ্টি পড়ছে , নাদিয়ার শাড়ির আঁচল আমি গুঁজে দিচ্ছি। রিকশার সামনের পর্দা ঠিক করে দিচ্ছি। তারপর নাদিয়া তার হাত এগিয়ে দিচ্ছে, আমি তার হাতে একটা চুমু দিলাম। রিকশা চলে গেছে, আমি সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলন্ত রিকশার দিকে তাকিয়ে আছি। বৃষ্টিতে আমার শরীর ভিজে যাচ্ছে, আমি তবুও তাকিয়ে আছি। তারপর আস্তে আস্তে মার্কেটের মধ্যে প্রবেশ করেছি। ”
‘ রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স ’ যায়গাটা উত্তরা তিন নাম্বার সেক্টরের রাজলক্ষ্মী বাসস্ট্যান্ডের রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে। নাদিয়ার সঙ্গে সেটাই আমার শেষ দেখা। সেদিনের পর নাদিয়ার সঙ্গে আমার আর কখনো দেখা হয়নি। কারণ সপ্তাহ খানিক পরেই নাদিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। আমাকে ছোট্ট একটা মেসেজ দিয়ে দেড় বছরের স্মৃতি আর ভালোবাসার সমাপ্তি টেনেছিল।
বললাম “ তো এই ভিডিও কেন করেছেন? ”
“ আপনি ভুল বুঝবেন না। সেদিন আমি আর আমার এক বান্ধবী ওই মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাচ্ছি খাচ্ছিলা। আপনারা সেখানেই দুজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনার কালো পাঞ্জাবি আর আপুটার কালো শাড়ি পরা দেখে আমার খুবই ভালো লাগছিল। তারপর যখন আপুটাকে রিকশা করে তুলে দিচ্ছিলেন তখন ভাবলাম এরকম সুন্দর একটা মুহূর্ত ভিডিও করে রাখি৷ ”
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম , “ নাদিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে, স্বামীর সাথে রাজশাহীতে বসবাস করেছে। আপনি ভিডিওটা ডিলিট করে দিন। কারণ হঠাৎ করে যদি এটা কোথাও পাবলিশ হয়ে যায় তাহলে ওর সাংসারিক জীবনে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ”
“ এই সাত মাসে যেহেতু পাবলিশ করিনি, সুতরাং সামনেও কোনদিন করবো না। এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন। ”
“ তবুও আমি চাই না ভিডিওটা আপনার কাছে থাকুক। যেহেতু এতদিন আমি জানতাম না তাই কোনো অস্বস্তি ছিল না। কিন্তু আজ যদি আপনি এটা ডিলিট না করেন তাহলে প্রতি মুহূর্তে আমার অস্বস্তি লাগবে। ”
মেয়েটা খানিকটা ভাবলো, তারপর আমার চোখের সামনেই ভিডিওটা ডিলিট করে দিল। Recycle Bin থেকেও পারমানেন্টলি ডিলিট করে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বললো,
“ আপনার অস্বস্তি দুর করে দিলাম , খুশি? ”
“ অসংখ্য ধন্যবাদ। ”
নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম, মেয়েটার নাম বৃষ্টি। আমি কৌতূহল নিয়ে বললাম ,
“ এক দেখাতে মানুষ মানুষকে চিনতে পারে না। আপনি কীভাবে চিনলেন? তাছাড়া এখানে হঠাৎ দেখে শিওর হলেন কীভাবে যে আমি সেদিনের সেই ছেলে। অন্য কেউ তো হতে পারতো। ”
বৃষ্টি মাথা নিচু করলো, মেয়েটা বারবার এতো লজ্জা পায় কেন সেটাই বুঝতে পারছি না।
বললো “ সত্যি বলবো? ”
বিরক্তিকর প্রশ্ন, একটা কথা জিজ্ঞেস করলাম। সে যদি তখন আবার জিজ্ঞেস করে সত্যি বলবো নাকি মিথ্যা বলবো তখন কার না বিরক্ত লাগে। ইচ্ছে হচ্ছিল বলি যে ‘ না ভাই তুমি মিথ্যাই বলো, এখানে তো তোমার কাছে মিথ্যা শোনার জন্য আমি জনম জনম অপেক্ষা করছি। ’
অনেক সময় আমরা নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারি না। আমিও তাই ভদ্রতার খাতিরে মুচকি হেসে বললাম ,
“ সত্যিটাই বলেন। ”
“ আমি মাঝে মাঝে আপনাদের এই ভিডিওটা দেখি। হ্যাঁ মানলাম এরকম অসংখ্য ভিডিও অনেক অনলাইনে পাওয়া যায়। সেখানে এরচেয়ে আরও সুন্দর করে সেগুলো উপস্থাপন করা হয়। নিজের হাতে আপনাদের ভিডিও করেছি বলে এটাই কেন জানি দেখতে ভালো লাগে। ”
সহজ স্বীকারোক্তি! আমি কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাকে যেতে হবে মোবাইলের দোকানে, এক বন্ধু সেখানে অপেক্ষা করছে। বন্ধু একটা ব্যবহার করা মোবাইল কিনবে। তাই আমি এসেছি খানিকটা যাচাই-বাছাই করার জন্য, যদিও আমার চেয়ে বন্ধু নিজেই বেশি অভিজ্ঞ।
“ আপুটার বিয়ে হয়ে গেল কেন? আপনার সঙ্গে কি তার অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল? ”
“ অন্য সম্পর্ক মানে? ”
“ না মানে, বান্ধবী বোন বা কাজিন। ”
লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়লাম, মেয়েটাকে তো দোষ দিয়ে লাভ নেই। তার প্রশ্ন সে করছে,
“ আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করতাম। নাদিয়ার বাবা ওকে ডাক্তারের কাছে বিয়ে দিতে চেয়েছে। তাই আমাদের একসঙ্গে থাকা হলো না। ”
বৃষ্টি এমন ভাব করলো যেন আমার দুঃখের ঘটনা শুনে সে যথেষ্ট দুঃখ পেয়েছে। আমি এবার আর কথা না বাড়িয়ে বললাম,
“ আমার একটু তাড়া আছে, আমার এক বন্ধু আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আশা করি আর কখনো কোথাও দেখলে আমাকে চিনতে পারবেন না কারণ ভিডিও তো ডিলিট করা হয়েছে। ”
“ জানি না চিনবো কিনা। ঠিক আছে আপনি তাহলে চলে যান, আপনার বন্ধু নাহয় আবার বিরক্ত হবে। ”
চলন্ত লিফটে পা বাড়ালাম, কিছুটা উঠতেই সে আবার চেচিয়ে বললো,
“ শুনুন! ”
আমি তাকিয়ে রইলাম, বৃষ্টি নিজেও সিঁড়িতে উঠে এলো। আমরা এক ফ্লোর উপরে উঠে দাঁড়ালাম।
“ জ্বি বলেন , আর কিছু বলবেন? ”
“ আপনি কি উত্তরাতে থাকেন? ”
“ হ্যাঁ, কেন? ”
“ যদি কিছু মনে না করেন তাহলে কোনো একদিন আপনার সঙ্গে বসে এক কাপ কফি খেতে পারি? ”
“ তা পারেন, আপনার বাসাও কি উত্তরা? ”
“ জ্বি, তবে লোকাল এরিয়াতে। তাহলে কফির দাওয়াত কবে গ্রহণ করবেন? ”
আমি কিছুটা ভেবে বললাম “ শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় রাজলক্ষ্মীর ‘কফিলিসিয়াস’। ”
“ আপনার নাম্বারটা....! ”
“ নাম্বার লাগবে না, আমি ঠিক পাঁচটার সময় সেখানে উপস্থিত থাকবো। ”
ধন্যবাদ দিয়ে বৃষ্টি লিফট দিয়ে নেমে গেল। তার চেহারায় একটা প্রশান্তির ছাপ দেখতে পেলাম। নাদিয়ার বিয়ে হবার পর এই প্রথম কোনো মেয়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে কথা বললাম। সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম, বৃষ্টি নিচের ফ্লোরে গিয়ে উপরে তাকিয়ে হাত নেড়ে টাটা দিল। আমিও হাত নেড়ে বিদায় নিলাম।
০২.
পরবর্তী শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় রাজলক্ষ্মীর “কফিলিসিয়াসে” আমার যাওয়া হয়নি। গ্রামের বাড়িতে বাবার সঙ্গে প্রতিবেশী কাকার সঙ্গে জমি নিয়ে ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলা রূপ নেয় হাঙ্গামা আর মারামারিতে। আহত হয়ে বাবা হাসপাতালে ভর্তি শুনে মঙ্গলবার রাতেই বাগেরহাটে রওনা দিলাম। বুধবার আমার ছোট দুই চাচা এবং চাচাতো ভাইয়েরা সবাই মিলে আবার প্রতিবেশীর সাথে মারামারি করে। বাড়িতে ছিলাম বলে তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। ফলস্বরূপ আমি হয়ে গেলাম মামলার ১৩ নাম্বার আসামি।
প্রতিবেশীরা আমাদের বাবা চাচাদের নামে মামলা করেছে। প্রতিপক্ষের মধ্যে দুজনের অবস্থা ছিল খুব সিরিয়াস। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ এসে আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে সহজে আর জামিন নিয়ে বের হতে পারলাম না।
একসময় ছাত্রদলের সদস্য থাকার কারণে পুরনো দুটো মামলা আগেই ছিল। এবার এই মামলার সঙ্গে সেই পুরনো মামলাও যুক্ত হয়ে গেল। সপ্তাহ তিনেক পরে এক শুক্রবার বিকালে বাগেরহাটের জেলা কারাগারে বসে বৃষ্টির কথা মনে পড়ে। অচেনা অজানা সেই মেয়েটার জন্য আমার মনের মধ্যে তখন আফসোস হতে লাগলো। এমনি এক শুক্রবারে তার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। সে হয়তো নিশ্চয়ই ভেবেছে আমি ইচ্ছে করে তাকে অপেক্ষা করিয়েছি।
তিন মাস সতেরো দিন পড়ে জেল থেকে বের হলাম। চারদিন বাড়িতে থেকে ঢাকায় গেলাম। আমার রুমমেট আগেই জানত। পরদিন সকালে অফিসে গেলাম। অফিস বলতে একটা মিডিয়ার ই'উ'টি'উব প্লাটফর্ম। আমি সেখানে ভিডিও এডিটিং কাজ করি।
সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা বেলা কফিলিসিয়াসে গেলাম। যদিও এতদিন পরে বৃষ্টি নামের সেই মেয়েটার সঙ্গে দেখা হবার সম্ভবনা একদম জিরো পারসেন্ট। তবুও গেলাম, একা একা কফি খেলাম। দুজন ওয়েটার আমার দিকে তাকাচ্ছে আর নিজেদের মধ্যে কি যেন বলছে। তারপর তাদের মধ্যে একজন এগিয়ে এলো৷ তার হাতের মোবাইলটা আমার সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো,
“ স্যার এটা কি আপনার ছবি? ”
যমুনা ফিউচার পার্কের সেই ড্রেস পরনে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি। একজন ভিডিও এডিটর হিসেবে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম ছবিটি তোলা হয়েছে আমার থেকে খানিকটা নিচে দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমার চেহারা কি এতটাই বদলে গেছে যে এরা চিনতে পারছে না।
উত্তর পেলাম নিজেই, তখন দাড়ি ক্লিনসেভ করতাম। কিন্তু এখন জেলে থাকা অবস্থায় হালকা বড় হয়ে গেছে। তারপর আর ক্লিনসেভ না করে ছোট করে রেখে দিয়েছি।
“ হ্যাঁ এটা আমার ছবি, কিন্তু এই ছবি আপনার কাছে কেন? ”
“ আপনি একটু বসেন। ”
ছেলেটা চলে গেল কাউন্টারের দিকে। একটু পরে তার সঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারে বসা ছেলেটা আমার দিকে এগিয়ে আসলো। সামনে এসে আমার হাতে একটা চিঠি দিয়ে বললেন ,
“ স্যার এটা আপনার জন্য। ”
“ কে দিয়েছে? ”
“ বৃষ্টি নামের এক আপু আপনার জন্য রেখে গেছে। ”
আমি তার হাত থেকে চিঠি নিলাম।
❝ কেমন আছেন?
জানি না এই কেমন আছেন প্রশ্নের উত্তর কখনো পাবো কিনা। তবুও এক অদৃশ্য আশা নেই আমার এই চিঠি লেখা।
আপনার জন্য আড়াই মাস আমি কফিলিসিয়াসে প্রতি শুক্রবার পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। ভবিষ্যতেও করতাম যদি আমি ঢাকা ছেড়ে চলে না যেতাম। আমি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করতাম। এখন চলে যাচ্ছি আমার নিজ জেলা বরিশালে, সেখানে বাড়ির কাছেই হাসপাতালে চাকরি হয়েছে।
আপনি সেদিন বলেছেন শুক্রবার কফিলিসিয়াসে দেখা হবে। আমি পরবর্তী শুক্রবারে এসেছিলাম কিন্তু আপনাকে পাইনি। বসে বসে ভাবলাম সেদিন আপনি শুধু শুক্রবার বিকাল পাঁচটা বলেছেন। কিন্তু কোন শুক্রবার সেটা বলেননি। তাই প্রতি শুক্রবার আমি এখানে আসতাম, কেন আসতাম সেই প্রশ্নের উত্তর আমি নিজেও নিজের কাছে করেছি কিন্তু উত্তর মেলেনি।
মানুষ যাকে নিয়ে বেশি ভাবে, সবসময় যার কথা বেশি চিন্তা করে, সেই মানুষটার নাকি মায়ায় জড়িয়ে যায়। তাহলে কি আমিও আপনার মায়ায় জড়িয়ে গেছি? যদি সেটাই হয় তাহলে আমি আজ নয় বরং বহুদিন আগে আপনার সঙ্গে নাদিয়া আপুকে দেখার পরেই জড়িয়েছি।
কিছু অপরাধ ক্ষমা করা যায়, কিছু কিছু ক্ষমা করা যায় না। জীবন তো এমনই তাই না?
আপনার জন্য অপেক্ষা করার চতুর্থ শুক্রবারে অপেক্ষা করতে করতে সেদিন আমার চোখে পানি জমেছিল। হাস্যকর তাই না? চেনা নেই জানা নেই, অথচ আপনার জন্য বসে বসে কাঁদছি। এমনও বোকা হয় মানুষ? হোস্টেলে গিয়ে নিজেই নিজেকে বকা দিলাম। চালাক হতে বললাম মনকে।
মানুষ নাকি টেনশনে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়। আপনার চিন্তা আমাকে এতো বেশি পরিমাণে চেপে ধরেছে যেটা বোঝাতে পারবো না। এমনও কিন্তু নয় যে আমি ছেঁকা খেয়ে একদম বাঁকা হয়ে উল্টে গেছি। তবুও কিসের একটা জেদ আর কি যেন একটা অনুপস্থিত ছিল সবখানে।
দুই মাস পার হয়ে গেল, তখনও আপনার আর কোনো সন্ধান পেলাম না। তখন ভাবলাম হয়তো আমাদের আর কোনদিন দেখা হবে না। নাহলে ক্ষতি নেই জানি, কিন্তু উত্তরায় থাকলে বারবার এখানে আসতে হবে।
অজানা উদ্দেশ্য নিয়ে চিঠি রেখে গেলাম।
সেদিন আপনার একটা ছবি তুলে রেখেছিলাম আপনার অজান্তেই। ছবিটি কফিশপে তাদের কাছে দিয়ে গেলাম। যদি কখনো কোনদিন আপনি এখানে আসেন তাহলে আমার নাম্বারে কল দিবেন।
নাজমা আক্তার বৃষ্টি ❞
০৩.
কল্পনার আকাশে ভেসে বেড়াতে সবারই ভালো লাগে। আমিও কিছুক্ষণ কল্পনায় ভাসলাম। বাড়ি থেকে ফিরে ‘কফিলিসিয়াসে’ গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু সেখানে কোনো চিঠি ছিল না। একা একা কফি খেয়ে ফিরে এসেছিলাম। সেখানে কেউ এগিয়ে এসে ছবি দেখায়নি , কেউ এগিয়ে এসে হাতে চিঠি দেয়নি। সবটাই আমার কল্পনা।
রেললাইনে বসে বসে ভাবলাম সেদিন যদি এমন একটা চিঠি পেতাম তাহলে তো দেখা হতো। ভাগ্যে ছিল না বলে হয়তো এতো ঘটনা ঘটে গেল। কেউ একজন আমার অনুপস্থিতিতে অপেক্ষা করে করে চোখের পানি ফেলবে এটা কল্পনাতেই মানায়।
নাদিয়ার সঙ্গেও কথা হয়নি আর। অথচ সে নিজে বলেছিল বন্ধু হিসেবে হলেও মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখবে৷ হয়তো ভুলে গেছে প্রতিশ্রুতি, কিংবা ভুলতে পারেনি বলে ভোলার জন্য যোগাযোগ করছে না।
সমাপ্ত।
কলমে ,
মোঃ সাইফুল ইসলাম (সজীব)
Source: https://www.facebook.com/share/p/19ae22Cpzs/
No comments:
Post a Comment