Saturday, September 14, 2024
নারী
নারী কখনো ঘোষণা দিয়ে বদলায় না
নারী বদলায় নীরবে,গোপনে
নারী বদলায় প্রিয়জনের অবহেলায়,অপমানে
নারী কখনো এমনি এমনি বদলায় না
নারী বদলায় প্রিয় মানুষের বদলে
নারী বদলায় তাকে বুঝতে না পারার কারণে
নারী বদলায় অব্যক্ত অভিমানে
নারী বদলায় অসম্মানে
নারী কখনো হুটহাট বদলায় না
নারী বদলায় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে
নারী বদলায় মানিয়ে নেয়ার রাস্তা ফুরালে
নারী বদলায় আত্মসম্মানে আঘাত হানলে
নারী কখনো শখ করে বদলায় না
নারী বদলায়-বদলাতে হয় বলে
নারী বদলায় কান্নার নোনা জলে
নারী বদলায় অসহ্য কষ্ট পেলে
নারী বদলায় হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণে,ক্ষতে
নারী বদলায় নীরবে,গোপনে
নারী বদলায় প্রিয়জনের অবহেলায়,অপমানে
নারী কখনো এমনি এমনি বদলায় না
নারী বদলায় প্রিয় মানুষের বদলে
নারী বদলায় তাকে বুঝতে না পারার কারণে
নারী বদলায় অব্যক্ত অভিমানে
নারী বদলায় অসম্মানে
নারী কখনো হুটহাট বদলায় না
নারী বদলায় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে
নারী বদলায় মানিয়ে নেয়ার রাস্তা ফুরালে
নারী বদলায় আত্মসম্মানে আঘাত হানলে
নারী কখনো শখ করে বদলায় না
নারী বদলায়-বদলাতে হয় বলে
নারী বদলায় কান্নার নোনা জলে
নারী বদলায় অসহ্য কষ্ট পেলে
নারী বদলায় হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণে,ক্ষতে
Sunday, September 8, 2024
প্রয়োজনীয় কিছু টিপস
১: ডিপ ফ্রিজে আদা রসুন বাটা সংরক্ষণ করে রাখতে চাইলে সামান্য লবন ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে রাখলে আদা রসুন বাটা শক্ত হয়ে থাকেনা তাই যখন ইচ্ছে সাথে সাথে নিয়ে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন
২: লেয়ার মুরগির মাংস রান্নার সময় জয়ফল গুঁড়া মিশিয়ে নিলে মাংশ তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যাবে
৩: প্রেশার কুকারে মাংস রান্না করলে মাংসের স্বাদ কিছুটা কমে যায় তাই মাংস রান্নার জন্য মশলা প্রথমে কষিয়ে নিয়ে তারপর মাংস দেওয়ার পর কুকারের ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন
মাংসের স্বাদ অটুট থাকবে...
৪: মাংস নরম করতে কাঁচা পেঁপে বাটা ব্যবহার করলে মাংসে তেল ঝাল বেশি দিতে হয় তাই পেঁপের পরিবর্তে জয়ফন গুড়া করে দিলে মাংস নরম হওয়ার পাশাপাশি সুঘ্রাণ ও স্বাদও হয় বেশি
৫: হাঁসের মাংস রান্না করার আগে মাংস গুলো কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবন মিশিয়ে ৩০মি: ভিজিয়ে রাখুন
৩০মি: পর মাংস গুলো লবন পানি থেকে তুলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন
এতে হাঁসের নিজস্ব একটা গন্ধ আছে তা দূর হবে এই গন্ধটা যারা পছন্দ করেন না তাদের উপকারে আসবে
৬: আমরা স্যান্ডুউইচ তৈরির সময় পাউরুটির চারপাশের ব্রাউন অংশ টুকু কেটে ফেলে দিয়ে থাকি
এই ব্রাউন অংশ টুকু ফেলে নাদিয়ে রোদে শুকিয়ে গুড়া করে ব্রেডক্রাম তৈরি করে নিতে পারি
৭: চড়া দামে বাজার থেকে এলাচ গুড়া কিনে না এনে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন এলাচ গুড়া
এলাচ ব্লেন্ডারে গুড়া করে চালনি দিয়ে চেলে গুড়া ঝারে সংরক্ষণ করে রাখুন আর প্রয়োজনে ব্যাবহার করুন
৮: যে মাছের উগ্র গন্ধ ভালো লাগে না তা রান্নার সময় লেবুপাতা দিয়ে রান্না করলে সুঘ্রাণ ছড়াবে
বি: দ্র: মাছ চুলা থেকে নামানোর ৪-৫ মি: আগে লেবুপাতা দিতে হবে এর বেশি আগে দিলে রান্না তিতা হয়ে যাবে....
৯: বিরিয়ানি রান্নায় স্টার মশলা/Star anise ব্যবহার করলে বিরিয়ানি বেশি সুস্বাদু হয়।
source: https://www.facebook.com/100031347800953/posts/1275960346792213/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v
সতর্ক ও সচেতন থাকুন
জীবন চলার পথে কথা গুলো কাজে লাগবে---
১. কখনো বাসে জানালার পাশে বসে মোবাইল টিপবেন না। কখন নিয়ে যাবে,
টের পাবেন না।
-
২. রিকশাতে বসে কোলে ব্যাগ রাখবেন না। পাশ থেকে মটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে করে এসে হ্যাচকা টান দেবে।
-
৩. রাস্তায় কিছু খাবেন না, কিছুই না। দূরপাল্লার যাত্রা হলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসুন অথবা প্যাকেটজাত কিছু খান।
পাশের যাত্রী কিছু দিলে খান না, তাতে কি?
হয়তো যে পানি বা ডাব কিনলেন, বা
অন্যকিছু তাতেই থাকতে পারে ঔষধ।
-
৪. ট্রেন জার্নিতে দরজার পাশে, দুই বগির পাশে দাড়াবেন না। কিংবা যতোই ভালো লাগুক দরজায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাবেন না। ট্রেনের ছাদে চলাচল যতোই রোমান্টিক লাগুক, যে গ্যাং গুলো ছিনতাই করে, তারা খুবই নির্দয় এবং বেপরোয়া। অনেক
যাত্রীর লাশ পাওয়া যায় সারাদেশের ট্রেন লাইনের আশেপাশে। বেশিরভাগই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন
করে ফেলা হয়।
-
৫. কপাল খারাপ হলে ছিনত্যাইয়ের শিকার হবেন। ধরা যাক হলেন। কি করবেন ? ছিনতাইকারী বেশ কয়েকজন। আপনি একা, চারপাশে কেউ নেই। আপনাকে ঘেরাও করে রেখেছে। আপনার পকেটে দামী ফোন। এসবক্ষেত্রে ভালো হয় ফোনের মায়া ত্যাগ করা। কারণ যারা ছিনতাইকারী তাদের বেশিরভাগই নেশাগ্রস্থ।
আপনার জীবনের দাম পৃথিবীর যেকোনো দামী ফোনের চেয়েও অনেক বেশি।
-
৬. বান্ধবী বা মেয়ে বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্ট বা পার্কে যাচ্ছেন। হঠাৎ দেখবেন আপনার চারপাশে একদল ছেলের আবির্ভাব। এরা কিন্তু একটা গ্যাং।
দেখবেন আপনাদের নিয়ে নানান রকম আজে বাজে কথা বলছে, বাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ওরা চাইছেই আপনাকে উত্তেজিত করে একটা
ঝামেলায় বাধাতে।
এতে ওদের লাভ, সেটা
কিরকম ?
ধরাযাক আপনি মাথা গরম করে ঝামেলায় জড়ালেন। ওরা আপনাকে অপমান করেছে বলে আপনি পাল্টা কিছু বললেন বা করলেন। এই পেয়ে
গেলো সুযোগ। ওরা তখন বাইরে থেকে নেতা গোছের কাউকে ধরে আনবে। যিনি এসেই আপনাকে আপনার বান্ধবীর সামনেই নানান
রকমভাবে জেরা করবে। তারপর বিচারে আপনাকেই দোষী বানিয়ে দেবে।
অত:পর মিটমাট করার নাম করে আপনার কাছ থেকে জরিমানা
বাবদ টাকা পয়সা কিংবা দামী ঘড়ি, ফোন অথবা ল্যাপটপটা রেখে দেবে। তাই এসব জায়গায় কথা বাড়ানো
মানেই ঝামেলা ডেকে আনা। আর নির্জন জায়গা হলে এদের দেখা মাত্রই সরে পড়ুন।
-
৭. ভোররাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। সাহস দেখিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে যাবেন না। বাসস্টপে বা ট্রেন স্টেশনেই অপেক্ষা করুন। সকালে যখন রাস্তায় যথেস্ট মানুষ থাকবে তখন বের হন।
-
৮. ট্রেন স্টেশনে বা সদরঘাটে নিজে নিজে বয়ে নিয়ে যেতে পারেন না এমন বোঝা নিয়ে এসেছেন তো মরেছেন। মাথায় করে পৌঁছেব দেয়ার নামে আপনার কাছ থেকে চাদার মতো
৪০০-৫০০ টাকা খসিয়ে ছাড়বে কুলিরা। তাই সাবধানে থাকুন,
দরদাম করে তারপর কুলি ঠিক করুন।
-
৯. নিউমার্কেট বা নীলক্ষেতের মত জায়গায় কেনা কাটা করতে গেলে খুবই সাবধান। কৌতুহলের
বশে কোনো কিছুর দাম জিজ্ঞেস করলেও
এখানে আপনাকে পাল্টা দাম বলার জন্য জোরাজুরি করবে। মনে রাখবেন এখানে মেজাজ দেখিয়ে লাভ নাই, এখানকার দোকানীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করে।
-
১০. বাসে উঠলে প্যান্টের পিছনের পকেটে মোবাইল, মানিব্যাগ এসব কিছু রাখা নিরাপদ না।
দেখবেন ভিড়ের মাঝে বাসে ওঠতেছেন যে কেউ টান মেরে নিয়ে যেতে পারে টের ও পাবেন না। তাই সামনের পকেটে এসব জিনিস রাখুন।
-
১১. বাণিজ্যমেলা, চিড়িয়াখানা, চন্দ্রিমা উদ্যান কিংবা শিশুপার্কে গিয়ে দাম খুব ভালো করে না জেনে কিচ্ছু খাবেন না। দেখা যাবে একটা সিংগাড়া কিংবা আধা প্লেট বিরিয়ানি খাইয়ে ৪০০-৫০০টাকার বিল ধরিয়ে
দেবে আপনাকে।
-
১২. রাতে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। ছিনত্যাইকারী ধরলেতো কথাই নেই। এমনকি ( কিছু বিপদগামী)পুলিশ ( সকলেই নয় )ধরলেও বিপদ। যতই নির্দোষ হন, পুলিশ যদি বুঝতে না চায়
আর আপনাকে আটকে রাখার নিয়ত যদি থাকে, তাহলে আপনার কিছুই করার থাকবে না।
-
১৩. বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস এসে থামলো আপনার সামনে। সেটা প্রাইভেট গাড়িও হতে পারে। আপনাকে চালক
বলবে সে গ্যারেজে ফেরার পথে বাড়তি কিছু ‘ট্রিপ’ নিচ্ছে। খুব অল্প ভাড়ায় আপনাকে পৌছে দেবার কথা বলবে। আপনি উঠবেন না। মেয়ে
হলেতো আরো আগে না।
-
১৪. রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ ভদ্রবেশি কেউ এসে, সে হতে পারে ছেলে বা মেয়ে বা বয়ষ্ক পুরুষ কিংবা মহিলা, আপনার ফোন চাইলো।
বললো, উনার কোন একটা সমস্যার কথা, এক্ষুনি একটা ফোন দিতে হবে কাউকে। আপনি বিশ্বাস করে ফোনটা দিলেন, দেখবেন পরক্ষণেই হুট
করে বাইকে উঠে হাওয়া।
-
১৫. সাথে সবসময় আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখুন। বিপদে পড়লে খুব কাজে দেয়। হয়তো কোনো দূর্ঘটনা ঘটেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তখন যারা
উদ্ধার কাজে আসবে তারা আপনার পরিবার পরিজনকে জানাতে পারবে।
-
১৬. নতুন বিবাহিত হলে এবং স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এলে কাবিননামার ছবি মোবাইলে তুলে রাখুন। কখন কোন কাজে লেগে যাবে বুঝতেও
পারবেন না।
সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় সতর্ক
থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন।
মনে রাখবেন, দোয়া পড়ে বাহির হবেন।
আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে।
এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।
নিজে সতর্ক ও সচেতন থাকুন এবং অন্যকেও সতর্ক ও সচেতন করুন।
( সংগৃহীত )
বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে
আমার বরের যখন চাকরি চলে যায় তখন আমি হন্যে হয়ে টিউশনি খুঁজতে শুরু করি।চাকরি যাওয়ার পর থেকে ইফতি কেমন যেনো হয়ে গেছে।আমার সাথে ঠিক করে কথাও বলে না।অথচ বাসা থেকে যেদিন ইফতির সাথে পালাবো বলে ঠিক করেছিলাম,সেদিন থেকেই প্রমিস নিয়েছিলাম খারাপ সময় গুলো দুজন মিলেই মোকাবেলা করবো।
.
এক কাপ গরম কফি বানিয়ে ইফতির পাশে গিয়ে বসলাম।ইফতির চোখে মুখে হতাশার ছাপ।হাতে হাত রেখে বললাম,
-- 'আমি তো টিউশনি খুঁজছি পেয়ে যাবো হয়তো কিছু দিনের মধ্যেই।'
ইফতি আমার হাত সরিয়ে দিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।
কফি নিয়ে আবার ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম,
-- 'এমন কিন্তু কথা ছিলো না।এতোদিন তো তোমার ভরসাতেই ছিলাম।এবার একটু আমার উপর ভরসা রাখো।'
ইফতি আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে কফি খাওয়ায় মন দিলো।
.
দুদিন পরে কয়েকটা টিউশনির খোঁজ পেলাম।ইফতিও নতুন চাকরির জন্য অনবরত ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।হতাশা ইফতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে।
এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমার ইন্টারভিউয়ের ডাক পড়লো।টিকেও গেলাম,চাকরিও হলো।কিন্তু ইফতি কেনো জানি খুশি ছিলো না।সেটাও আমি বুঝতাম।বউয়ের টাকায় বর চলবে ব্যাপারটা ইফতি কিছুতেই মানতে পারছে না।
.
সেদিন সকালে হম্বিতম্বি করে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে রুমে এসে দেখি ইফতি অনবরত কাশছে।কাশির সাথে রক্ত পরছে।জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম।টেস্টের পরে রিপোর্ট বের হলো।
ইফতি আমার হাত দুটো ধরে বললো,
-- 'আচ্ছা ধরো আমার বড় কোনো অসুখ হলো।আমি মরে গেলাম।তখন তুমি কি করবে?'
আমি রাগি চোখে তাকিয়ে বললাম,
-- 'এসব কথা না বললেই নয়!আমার সবটুকু আয়ু নিয়ে তুমি দীর্ঘায়ু পাও।'
.
ডক্টর যখন বললেন,ইফতির ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে আমার পায়ের তলা থেকে একটু একটু করে মাটি সরে যাচ্ছিলো।বাসায় ফিরে কেউ কারো সাথে কথা বলছি না।আমার চারপাশ কেমন যেনো অন্ধকার হয়ে আসছে।মনে হচ্ছে এসব কিছু দুঃস্বপ্ন।ঘুম ভেঙ্গে জাগলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু না কিচ্ছু ঠিক হলো না।
ডক্টর যেদিন বলল,ইফতির হাতে আর মাত্র এক মাস সময় আছে।ইফতি আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিলো,
-- 'এবার ছেড়ে দাও আমায়।এই একমাস ট্রিটমেন্ট করেও কি কিছু হবে!! টাকা জোগার করতে হিমসিম খাচ্ছো তুমি যেটা আমি কিছুতেই মানতে পারছি না।'
ইফতির কথা পাত্তা না দিয়ে আমি ফোনে এক বড় ভাইয়ের সাথে টাকার ব্যাপারে কথা বলতে লাগলাম।
ইফতি আবার আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
-- 'আচ্ছা এভাবে আর কতদিন ভালোবাসতে পারবে আমাকে?'
-- "যত বছর,যত মাস,যত দিন,যত ঘন্টা,যত মিনিট,যত সেকেন্ড তুমি বাঁচবে।'
ইতোমধ্যেই বড় ভাইয়ের ফোন এলো।হয়তো টাকার জোগার হয়েছে।আমি তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেলাম।
.
টাকা নিয়ে বাসায় ফিরে দেখলাম ইফতি সু'ইসা'ইড করেছে।আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।চারপাশ থেকে কালো আঁধার আমাকে গ্রাস করে নিচ্ছে।ইফতির হাতের মুঠোয় একটা কাগজের টুকরো যাতে লেখা -
❝❝
তুমি মুক্ত আজ থেকে।আমি তোমার কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না।বিশ্বাস করো নিজের শারীরিক কষ্টের চেয়েও দিগুণ কষ্ট হতো যখন তোমাকে আমার জন্য অসহায়ের মতো মানুষের কাছে হাত পাততে হতো।ভেবে নিও একটা লম্বা দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি হলো।
❝❝
-----
----------
আজ ইফতির মৃত্যুবার্ষিকি।কবরে ফুল দিয়ে অজানা এক গন্তব্যে হেঁটে চলেছি আর একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেরাচ্ছি - ‘মুক্তি দিলেই কি মুক্তি পাওয়া যায়!!’
(সমাপ্ত)...
(বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে)...
source : https://www.facebook.com/100064284570900/posts/874219808064164/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v
Saturday, September 7, 2024
সে আমার ছোট বোন
মলি আমার স্ত্রী।
গতকাল সন্ধ্যায় টয়লেট থেকে বের হয়ে দেখি মলি আমার মোবাইল ফোন ঘাটছে। আমাকে দেখে সে থতমত খেয়ে যায়।
আমি নির্বিকায়।
অত:পর পরিবেশ স্বাভাবিক করার জন্য আমি গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠি,
আমার সাদা দিলে কাদা লাগাই গেলি
চাতুরী করিয়া মোরে বান্ধিয়া পিরিতের ডোরে
বিচ্ছেদের সাগরে ভাসাই গেলি রে বন্ধুয়া।
মলি চোখ গোল গোল করে টিভি স্ক্রীনের দিকে তাঁকিয়ে আছে। আমি সরাসরি মলির দিকে না তাঁকিয়ে টিভি, ফ্যান, দেয়ালের লোভাতুর টিকটিকি, তারপর মলি। এভাবে কয়েকবার তাঁকাই।
এটা ঠিক যে, কয়েকটাদিন অফিস থেকে বের হতে আমার দেরী হয়েছে এবং মোবাইল ফোনে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই সময় কাটিয়েছি। কিন্তু তার পেছনে তো সঠিক কার্যকারণ আছে। আমাকে জিজ্ঞেস করলেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু তা না করে এভাবে মোবাইল ফোন ঘাটাঘাটি সত্যই আমাকে কষ্ট দেয়। তবুও আমি নিজেকে চেপে যাই। কেননা আমি তাকে ভালেবাসি এবং আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা অর্জন করবার মতো সকল যোগ্যতাই তার রয়েছে।
কিছুটা সময় আমরা কেউ কথা বলিনা। অনেকদিনই এমনটা হয় যখন আমরা কারন ছাড়াই কোন কথা বলিনা কিংবা চুপ করে থাকতে আমাদের ভালো লাগে। কিন্তু আজকের চুপ করে থাকাটা আমার কাছে বেশ ওজনদার মনে হয়।
অত:পর সকল নি:স্তব্ধতা ছিন্ন করে মলি বলে,
: এই যে এভাবে তোমার ফোন ঘাটলাম আমাকে তো কিছু বললে না ?
: কী বলবো!! হয়তো কোন প্রয়োজন বোধ করেছ ?
আবার নিরবতা। মনে হয়, প্রায় দুই হাত দূর হতে আমি মলির হৃদপিন্ডের ধক্ ধক্ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। আমি ভাবি, এটা বড় কোন ঝড়ের পূর্ব সংকেত নয় তো?
: ফারজানা কে ?
: জুনিয়র কলিগ। গত মাসে জয়েন করেছে।
: সে তোমাকে ‘তুমি’ করে বলে ?
: হুম। বিষয়টা আমাকেও বিব্রত করছে। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা।
: তোমাকে বিশ্বাস করতে আমার ভীষন কষ্ট হচ্ছে। কেননা তোমাদের Conversations সে রকম সাক্ষ্য দিচ্ছে না।
: শব্দটা বোধহয় Conversations হবেনা।
: কেন ?
: কেননা আমি ফারজানার একটা Message এর উত্তরও দেইনি।
২.
গতমাসে ফারজানা আমার ডিপার্টমেন্টে জয়েন করেছে। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা টগবগে তরুণি। এটাই তার প্রথম চাকরি। কাজ শিখতে তার প্রবল আগ্রহ। পারলে সাতজনের কাজ একাই করেন। যখনই কোন কাজে আটকে যায় চোখ বন্ধ করে আমার ডেস্কে চলে আসে। আমি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলি একটু ধীরে চলুন। সে খিলখিলিয়ে হাসে। অনেকটা সময় নিয়ে হাসে। হাসতে হাসতে তার চোখ সজল হয়ে উঠে।
আমি সরাসরি তার দিকে তাঁকাতে পারিনা কিংবা তাঁকাই না।
আমি বুঝতে পারি আশেপাশের কয়েকজোড়া প্রশ্নবোধক চোখ এরমধ্যে আমার ডেস্কে এসে স্থির হয়েছে। এবার আমি থামি কিংবা আমাকে থামতেই হয়।
কিন্তু ফারজানা থামেনা। সে কারণে, অকারণে আসে। বারে বারে আসে।
এরমধ্যে আমাকে অন্য আরেকটি বিভাগের প্রধান করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই আমার ডেস্ক পরিবর্তন হয়। বেড়ে যায় ব্যস্ততা। এরপরও ফারজানা আসে।
একটা কাজ বুঝিয়ে দিতে দিতে বলি,
ফারজানা, অনেকদিন তো হলো এখন নিজে নিজে চেষ্টা করুন। এরপরও আটকে গেলে আপনার বিভাগের সিনিয়রদের কাছ থেকে বুঝে নিন।বুঝতেই তো পারছেন নতুন বিভাগ, নতুন কাজ, অধিক ব্যস্ততা।
এরপর সাতদিন ফারজানা আমার কাছে আসেনি। একদিন বিকালে ফোন করে ফারজানা বলে,
শাহরিয়ার ভাই তোমার সাথে আমার কথা বলা দরকার। একটু সময় দিতে পারবে ?
আমি সম্মতি দিয়ে ফোন রাখি। ফারজানা কী আমাকে ‘তুমি’ করে বললো? আমি কী কোন ঝামেলায় জড়িয়ে যাচ্ছি ?
বিকেল পার হয়ে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে। কাজ শেষ করতে পারিনা। ফারজানা লাগাতার এসএমএস দিয়ে যাচ্ছে।
অবশেষ আমরা একটা কফিশপে বসি।
: শাহরিয়ার ভাই আমি জানি তুমি বিবাহিত এবং তুমি তোমার বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেয়া মানুষ। নিজেদের শিক্ষিত এবং আধুনিক মানুষ হিসেবে দাবী করি। অথচ একটা মেয়ে কোন ছেলের সাথে হাসিমুখে কথা বললেই আমরা তাদের মধ্যে প্রেম খুঁজি । একজন বাবা কী তার মেয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলেনা কিংবা একজন ভাই তার বোনের সাথে?
: আমাকে এসব কথা বলছেন কেন?
: কেননা তুমি আমার সাথে সহজ হতে পারোনা। আমি তোমার চেয়ে এতো ছোট হওয়ার পরেও তুমি আমাকে আপনি করে বলো। আমি এও জানি তুমি সচেতন ভাবেই আমাকে এড়িয়ে চলো। তবে তুমিই প্রথম নও।
: ‘তুমি’ কোন অফিসিয়াল ভাষা হতে পারেনা।
: তোমার ছোট ভাই কিংবা বোন যদি তোমার অফিসে চাকরি করতো তখন তুমি কী করতে ?
: সে বিষয়টা ভিন্ন। কিন্তু তুমি তো আমার বোন নও। আর আমি পাতানো ভাই-বোন সম্পর্কে বিশ্বাসী নই। কেননা এ নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা মধুর নয়।
এরপর তিন-চারদিন ফারজানার কোন খোঁজ নেই। ফোনও করেনি। আমি ওর ডেস্কে গিয়ে জানতে পারি ফারজানা পারিবারিক কারণে দশদিনের বিশেষ ছুটি নিয়েছে। আমি ইচ্ছা করলেই ফোন দিতে পারি। কিন্তু আমি থেমে যাই।
৩.
শুক্রবার সকাল বেলা। আমরা নাস্তা করতেছি। ডোরবেল বেঁজে উঠে। মলি দরজা খুলতেই একজন বয়স্ক মহিলা বলেন, এটা কী শাহরিয়ারদের বাসা?
মলি উনাকে সাথে করে নিয়ে বাসায় ঢুকেন। ভদ্রমহিলার হাতে একটা প্যাকেট।
: আমি তো আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না!
: আমি ফারজানার মা।
মলি আমার দিকে রহস্য ভরা চোখে তাঁকায়।
চায়ের কাপে ঠোঁট লাগাতে লাগাতে তিনি বলেন,
আগামি সোমবার ফারজানার বিয়ে। তোমাদের নিমন্ত্রণ দিতে এসেছি। ফারজানা তোমার সম্পর্কে আমাকে সব বলেছে। বাসায় আর কোন মানুষ না থাকায় আমি আর ফারজানা বন্ধুর মতো চলি। ওর আচরণে তোমার আগে আরও কয়েকজন বিব্রত হয়েছে। কিন্তু আমি তাকে থামাতে পারিনা। তুমি ওকে ক্ষমা করে দিও।
: এভাবে বলবেননা প্লিজ। ও তো আমার সাথে কোন অপরাধ করেনি।
: ফারজানার তিন বছরের বড় একটা ভাই ছিলো। ওর নামও ছিলো শাহরিয়ার। আমি আমার চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। শাহরিয়ার ফারজানাকে আগলে রাখতো। আমার ছেলেটা অনেক মেধাবি ছিলো। ফারজানা তখন কলেজে পড়ে। মহল্লার কয়েকটা বখাটে ছেলে ফারজানাকে বিরক্ত করতো। যে কারনে শাহরিয়ার ওকে কলেজে আনা-নেয়া করতো। একদিন শাহরিয়ার ব্যস্ততার কারনে ফারজানার সাথে যেতে পারেনি। ফারজানা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরে আসে। আমি তখন স্কুলে ছিলাম। শাহরিয়ার প্রতিবাদ করতে ছুটে যায়। সেই যে গেলো আর জান নিয়ে ফিরে আসেনি। চারদিন পর নদীতে ওর লাশ ভেসে উঠে।
মলি হাউমাউ করে কাঁদছে। আমি মলিকে থামাই না। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরে তাঁকাই। দুইটা ছোট ছেলে-মেয়ে খেলছে। আমার খুউব জানতে ইচ্ছে করে ওরা কী ভাই-বোন? নাকি প্রতিবেশী?
ছোট বোনের বিয়ে উপলক্ষ্যে চারদিনের ছুটি নিয়ে আমি অফিস থেকে বের হয়ে আসি। মলিও তার ননদের বিয়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ফারজানার সাথে এ মার্কেট থেকে সে মার্কেটে যাচ্ছে। আমারও কত কাজ জমে আছে। ডেকোরেটর ঠিক করতে হবে। বাবুর্চির সাথে বসতে হবে।
অনেকগুলো কাজ শেষ করে আমরা মধ্যরাতে রিক্সায় উঠে
বসি। মলি আমার হাত শক্ত করে ধরে। আমার সমস্ত শরীর শিহরিত হয়ে উঠে। মলি গুনগুনিয়ে বলে। বারেবারে বলে,
‘মোর করতল তব করতলে হারা’
জিবন চক্রবর্তী
https://www.facebook.com/100048712637561/posts/1107046170929127/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v
দায়িত্ব
-শিহাব কালতো ছুটি। কালকে তুমি উত্তরের রুমটা খালি করে দিবে?
-
-কেন, হটাৎ উত্তরের রুম খালি করতে হবে কেন?
-
-আমি ভাবছি আম্মাকে সবসময়ের জন্য আমাদের কাছে এনে রাখবো।
-
-মা কয়েক দিনের জন্য আসবেন । উনি তোমার সাথে এই রুমে থাকলেই হয় । আমি না হয় সেই কয়দিন গেস্ট রুমে থাকবো ।
-
-শিহাব তুমি মনে হয় ভাল করে আমার কথা শুননি । আমি বলেছি আম্মাকে আমি সবসময়ের জন্য আমাদের কাছে এনে রাখবো । এইবার শিহাব মোবাইলের স্কিন থেকে মুখ তুলে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো – সেকি! আম্মা আমাদের এখানে এসে কি ভাবে থাকবেন? এই বাসায় তো শুধু তুমি আর আমি থাকিনা ।আমার বাবা,মাও থাকেন ।
-
-বাবা ,মা থাকলে কি হয়েছে শিহাব ? তুমি একটু বাবা মাকে বুঝিয়ে বল না । ভাইয়ারা আজকে সবাই মিলে ঠিক করেছে আম্মাকে বৃদ্ধা আশ্রমে দিয়ে আসবে । আম্মা থাকলে নাকি ওদের অনেক অসুবিধা হয় । আম্মাকে দেখার জন্য আলাদা মানুষ লাগে । ওরা আম্মার জন্য সবাই এক সাথে বেড়াতে যেতে পারেনা । আম্মা তো একা একা চলাফেরা করতে পারেনা । -
আমি কিছুতেই এটা মানতে পারছিনা ।
-
আমার কথায় শিহাব মুখ কুঁচকে বলল – তোমার তিন ভাই অমানুষ হয়েছে । তাই নিজের মাকে নিজেদের কাছে রাখতে চাইছে না । কিন্তু আমিতো তোমার ভাইদের মতো না ।
-
এখন আমি যদি আম্মাকে এই বাড়ীতে আনতে বলি আর বাবা, মা যদি সেটা ভাল ভাবে না নিয়ে অন্য ভাবে নেয় ?
-
যদি ভাবে ছেলের কাছে আছে তাই ছেলের বউয়ের ইচ্ছাতে উনাদের থাকতে হবে ?
-
আর তাছাড়া আত্মীয়রা কি বলবে?
-
এইভাবে আমাদের সমাজে মেয়ের শশুর বাড়ীতে এসে কেউ থাকে?
-
তুমি বরং ভাইয়াদেরকে বল একজন মানুষ রেখে দিতে আম্মার কাজের জন্য ।
-
আমি মাসে মাসে টাকা দিয়ে দিব ।
-
মেয়ে হিসেবে এর থেকে বেশি আর তুমি কি করতে পারো ?
-
শিহাবের কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম ।
-
-কি বললে তুমি শিহাব?
-
আমার আম্মাকে শুধু টাকা পাঠালেই আমার দায়িত্ব শেষ !
-
- রিমা শুন তোমার আম্মার দেখাশুনা করার দায়িত্ব তোমার ভাইদের তোমার না ।
-
- শিহাব এই হাদিস তুমি কোথায় পেয়েছ ? যে বাবা মাকে শুধু ছেলেদের দেখতে হবে? আমাদের ধর্মে তো এমন কোন কথা নেই । কোরআন শরিফে বহুবার বলা হয়েছে তোমরা তোমাদের বাবা মায়ের প্রতি ভাল ব্যবহার কর ,তাদের প্রতি তোমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন কর ।
-
সবজায়গায় তো সন্তান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে ।
-
আর সন্তান বলতে তো ছেলে মেয়ে দুই জনকেই বুঝায় ।
-
কোথাও তো বলা হয়নি মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাবে তাই বাবা মায়ের প্রতি মেয়েদের কোন দায়িত্ব থাকবে না ।
-
মায়ের পায়ের নিচে বেহেস্ত কি শুধু ছেলেদের ?
-
মেয়েদের না ?
-
শিহাব তোমার মা যেমন তোমাকে দশ মাস পেটে ধরেছে ঠিক তেমনি আমার আম্মাও আমাকে দশ মাস পেটে ধরেছে । তুমি হতে মা যেমন কষ্ট পেয়েছে । আমি হতেও আমার আম্মা কষ্ট পেয়েছে । তুমি তো ঠিকই তোমার দায়িত্ব পালন করছ ।
-
কিন্তু আমি ? হ্যাঁ আমি মানি মেয়েদের বিয়ে হয়ে অন্যর বাড়ি যেতে হয় আর ছেলেরা বাবা মায়ের কাছে থাকে ।
-
তাই আমাদের সমাজ এই নিয়ম করেছে যে বাবা মায়ের প্রতি শুধু ছেলেদের দায়িত্ব ।
-
আর তাই কোন ছেলে মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলে সেই মাকে হয় রাস্তায় পড়ে থাকতে হয় । না হয় বৃদ্ধা আশ্রমে যেতে হয় ।
-
শিহাব তুমি জানো আব্বা মারা যাবার পরে আম্মা আমাদের চার ভাই বোনকে কতো কষ্ট করে বড় করেছে ।
-
সেই সব আমার তিন ভাই ভুলে গেছে । কিন্তু আমি ভুলতে পারি নাই ।
-
আমার তিন ভাই বেহেস্ত পেতে চায় না । কিন্তু আমি যে বড্ড লোভী ।
-
আমি যে আমার বেহেস্তকে কাজের মানুষের ভরসায় ছেড়ে দিতে চাই না।
-
তোমার মনে আছে আমাদের বড় মেয়ে হবার পরে মায়ের কষ্ট হবে ভেবে আমি আমার চাকরি ছেড়ে দিয়েছি ।
-
আমি কি কোনদিন তোমার বাবা মায়ের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেছি ?
-
আমি চেষ্টা করেছি আমার কোন কাজে যেন কখনো উনারা কষ্ট না পায় ।
-
তোমার বাবা মাকে আমি দেখে রাখতে পারি আর তুমি আমার আম্মাকে তোমার বাসায় এনে রাখতে চাইছ না !!
-
বলছ সমাজ কি বলবে ? শিহাব ভুলে যেও না তোমার ও কিন্তু দুই মেয়ে ।
-
আমি কাঁদতে কাঁদতে বারান্দায় চলে গেলাম । শিহাব রাগ করে রুম থেকে বের হয়ে গেল ।
-
অনেক রাত পর্যন্ত আমি আমার মেয়েদের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁদলাম ।
-
ভাবলাম আমি এখন যেমন ইচ্ছা থাকার পরেও আমার আম্মার প্রতি কোন দায়িত্ব পালন করতে পারছিনা । ঠিক তেমনি আমার মেয়েরাও হয়তো চাইলেও একসময় আমার জন্য কিছু করতে পারবেনা ।
-
সকালে আমার মেয়েদের চেঁচামেচিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
-
তাকিয়ে দেখি আমার মেয়েরা ভাল জামা কাপড় পরে রেডি হয়ে আছে ।
-
বুঝতে পারলাম ছুটির দিন তাই শিহাব ওদের নিয়ে বাহিরে যাবে ।
-
আমাকে উঠতে দেখে মেয়েরা হইহই করে বলতে লাগলো – মা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নেও । আমরা সবাই রেডি । দাদু, দিদাও রেডি ।
-
এই সময় শিহাব রুমে ঢুকেই বলল – এই যে, রিমা কিছুক্ষন পরেই গাড়ি চলে আসবে ।
-
আমার বন্ধু রনির গাড়িটা চেয়েছি ওর কাছে । তুমি দেরি না করে রেডি হয়ে যাও । আমি বললাম- কোথাও যাবো না ।
-
এই সময় মা রুমের দরজায় দাড়িয়ে বললেন বউমা কি হল ?
-
তোমার শ্বশুর আর আমি সেই কখন থেকে রেডি ।
-
আমি দাঁড়িয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম – মা আমার শরীরটা ভাল নেই আপনারা যান ।
-
-ওমা , কি বলে এই মেয়ে !
-
তুমি না গেলে তোমার আম্মার ব্যাগ কে ঘুছিয়ে আনবে ?
-
আমি বাবা ঐ সব পারবোনা ।
-
আমি শুধু আমার বোনটিকে ধরে আনতে যাচ্ছি । মায়ের কথা শুনে আমি মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম ।
-
শিহাব আমার দিকে তাকিয়ে বলল – স্যরি রিমা । আমি ভুল ছিলাম ।
-
তোমার কথা ঠিক মায়ের পায়ের নিচে শুধু ছেলেদের না মেয়েদেরও বেহেস্ত ।
-
কালরাতে তোমার বলা কথাগুলো শুনে প্রথমে রাগ হলেও পরে ভেবে দেখালাম তুমি ভুল কিছু বলনি ।
-
পরে বাবা মায়ের কাছে গিয়ে সব বললাম । শুনে মা বাবা দুইজনেই একবাক্য রাজি হয়ে গেল । এখন কান্নাকাটি থামিয়ে চল। দেরি হয়ে যাচ্ছে তো । বিকালের মধ্য আবার ফিরতে হবে ।
-
-
লেখনীতে- “জান্নাতুল মাওয়া সুরভী”
https://www.facebook.com/100048712637561/posts/1111400950493649/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v
Subscribe to:
Posts (Atom)
আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?
এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...
-
এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...
-
কামরুন নাহার মিশু রাহাত সাহেবের ওয়ালেট থেকে ভুলবশত একটা ভাঁজ করা কাগজ উড়ে এসে আমার পায়ের কাছে পড়ল। রাহাত সাহেব আমার কলিগ। আমরা একই অফিসে ...
-
https://www.prothomalo.com/photo/bangladesh/qfoqepeehe সিলেটের সুরমা নদীর অন্যতম উপশাখা কুশি নদী। কুইগাঙ বা কুশিগাঙ নামে নদীটি বেশি পরিচি...
