Thursday, September 19, 2024

সুখের ভাগ

 ১০০টি বেলুন ফুলিয়ে, ক্লাসের প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর হাতে ১টি করে দিলেন শিক্ষক। বললেন─ "বেলুনে নিজ-নিজ নাম লিখে, ফেরত দাও।"

নাম সম্বলিত বেলুনগুলো নিয়ে, ক্লাসের মাঝখানে স্তুপ করে রাখলেন তিনি মিশিয়ে। তারপর বললেন─ "এবার এখান থেকে সবাই নিজের নামের বেলুনটি বেছে নাও।"
এতোগুলো বেলুন থেকে নিজের নামের বেলুনটি বেছে নিতে গিয়ে গলদঘর্ম অবস্থা প্রত্যেকেরই। সময় গড়াতে লাগলো, দু'য়েকজন খুঁজে পেলো নিজের বেলুনটি, বাকিরা হাতড়াতে লাগলোই, হতোদ্যম।
শিক্ষক বললেন─ "এক কাজ করো তাহলে; প্রত্যেকেই নিজের ঠিক সামনের বেলুনটি নাও, ওটায় তোমার যে-বন্ধুর নাম লিখা আছে তার হাতে তুলে দাও ওটা।"
এবার দেখা গেলো─ খুব অল্প সময়েই যার বেলুন তার কাছে পৌঁছে গেলো।
বেলুন হাতে বসে থাকা তাঁর সন্তানসম হাস্যোজ্জ্বল ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকালেন শিক্ষক। তাঁর চোখে আনন্দাশ্রু চিকচিক করছে।
─ "বাবারা, পৃথিবীতে সুখ ছড়িয়ে আছে, ঠিক ওই বেলুনগুলোর মতোই। খুঁজে নাও। কিন্তু, নিজের জন্য নয়; অন্যের জন্য খোঁজো সুখ, তাকে তোমার অর্জিত সুখের ভাগ দাও; সেও তোমাকে তার সুখের─ সমস্তটা না-পারলেও─ ভাগটুকু দেবে। মা রে, তোমরা মিলেমিশে বেঁচে থাকো সারাটা জীবন, থইথই সুখের ভাগাভাগিতে।"
Salah Uddin Ahmed Jewel অনুদিত─
মূল লিখক: anon.

হিসাব কাটাকাটি

 দুপুরে খেতে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলাম "কি আছে?"

সে শুরু করলো কাচ্চি, তেহেরী, বিরিয়ানি দিয়ে। আমি তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম "ভাতের সাথে কি আছে বলেন?" সে এবার ২য় দফায় শুরু করলো গরু, খাসি, মুরগী দিয়ে। শেষ করলো ইলিশ, মাগুর, মলা মাছে গিয়ে। হোটেলে খেতে গেলে কখনো আমি মাছ মাংস কিছু খাই না। হোটেলের খাবার মানেই মরা ধরা পচা সব কিছুর সমাহার। একমাত্র ভর্তা ভাজিটাই মোটামুটি নিরাপদ।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম "ভর্তা ভাজি নাই?" সাথে সাথে দেখলাম তার চেহারায় সব উৎসাহ হারিয়ে গেলো। সে বুঝে নিয়েছে, আমি গরিব কাস্টমার। তারে টিপস দিতে পারব না। সে অন্যদিকে ফিরে কোনরকম বললো "আছে"! আমি বললাম "আলুভর্তা, ডাল আর লালশাক আনেন!" অর্ডার দিয়ে ১৫ মিনিট বসে রইলাম। এরপর খাবার আসলো। গরিব কাস্টমার নিয়ে তার এতো মাথা ব্যাথা নাই। এর মধ্যে একবার আরেকটা আলুভর্তা আনার জন্য ডাকতে লাগলাম। তার খবর নাই। মনে হয় কাছে গিয়ে রিকুয়েষ্ট করতে হবে। এরপর মর্জি হলে আনবে। আমার খাওয়া শেষ হয়ে গেল। এরপর সে আলুভর্তা আনলো। ভর্তার প্লেটটা রেখেই সে চলে গেল। 'খেলে খান, না খেলে নাই' স্টাইলের ভাব। আমি হাত ধুয়ে বিল দিতে গেলাম কাউন্টারে। অন্য কাস্টমারের বেলায় সে সাথে এসে কাউন্টারে বিল বলে দিচ্ছে, আর কাষ্টমারের পেছনে দাড়িয়ে থাকছে। কাষ্টমার পেছনে ঘুরেই তাকে দেখে টিপস দিচ্ছে। আমার বেলায় সে আসলো না। দূর থেকে বিল বললো। এসব আলুভর্তা, ডালের কাস্টমার সে গুনায় ধরে না। আমি তাকে ডাকলাম৷ হাতে ১০০ টাকা দিয়ে বললাম "আলুভর্তা ডাল খেলাম বলে পাত্তা দিলেন না।" সে লজ্জায় নিয়ে একটা হাসি দিয়ে, 'না না স্যার 'বলে পারলে মাথা নুয়ে মাটিতে ঢুকিয়ে দিবে অবস্থা! এরপর আমি বললাম "১০ টাকা রেখে ৯০ টাকা দেন।" তার মুখের মানচিত্র আবার বদলে গেল।
আমারে তুই আলুভর্তা দিতে গিয়ে ঘুরাইলি, আমি তর ইমোশন নিয়ে খেললাম। হিসাব কাটাকাটি।
লেখাঃ জায়েফ খান নাদিম

source: https://www.facebook.com/100085218790786/posts/487629267421029/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

Wednesday, September 18, 2024

একটি অসাধারন শিক্ষানীয় গল্প

 একদিন একটা গরীব ছেলে রাস্তায় হাঁটছিলো। সে তার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতো। ছেলেটার গায়ে ছিলো একটা জীর্ন মলিন পোষাক। সে ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলো। সে ভাবলো যে পরে যে বাড়ীতে যাবে, সেখানে গিয়ে সে কিছু খাবার চাইবে। কিন্তু সে যখন একটা বাড়ীতে গেল খাবারের আশা নিয়ে, সে ঘর থেকে একজন সুন্দরী মহিলা বেরিয়ে এলেন। সে খাবারের কথা বলতে ভয় পেলো। সে খাবারের কথা না বলে শুধু এক গ্লাস জল চাইলো। মহিলা ছেলেটার অবস্থা দেখে বুঝলেন যে সে ক্ষুধার্থ। তাই তিনি ছেলেটাকে একটা বড় গ্লাস দুধ এনে দিলেন।

ছেলেটা আস্তে আস্তে দুধটুকু খেয়ে বলল" আপনাকে আমার কত টাকা দিতে হবে এই দুধের জন্য?"
মহিলা বলল "তোমাকে কোন কিছুই দিতে হবে না।"
ছেলেটা বলল "আমার মা আমাকে বলেছেন কখনো করুণার দান না নিতে। তাহলে আমি আপনাকে মনের অন্ত:স্থল থেকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।"
ছেলেটার নাম ছিলো স্যাম কেইলি।
স্যাম যখন দুধ খেয়ে ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে এল, তখন সে শারীরিকভাবে কিছুটা শক্তি অনুভব করলো। স্যাম এর বিধাতার উপর ছিলো অগাধবিশ্বাস । তাছাড়া সে কখনো কিছু ভুলতো না।
অনেক বছর পর ঐ মহিলা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লো। স্থানীয় ডাক্তাররা তাকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। তখন তাকে পাঠানো হলো একটা বড় শহরের নামকরা হাসপাতালে যেখানে দুলর্ভ ও মারাত্মক রোগ নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসা করা হয়।
ডা: স্যাম কেইলি কে এই মহিলার দায়িত্ব দেওয়া হলো। যখন ডাঃ স্যাম কেইলি শুনলেন যে মহিলা কোন শহর থেকে এসেছেন, তার চোখের দৃষ্টিতে অদ্ভুত একটা আলো যেন জ্বলে উঠলো। তিনি তাড়াতাড়ি ঐ মহিলাকে দেখতে গেলেন। ডাক্তারের এপ্রোন পরে তিনি মহিলার রুমে ঢুকলেন এবং প্রথম দেখাতেই তিনি মহিলাকে চিনতে পারলেন। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে , যেভাবেই হোক তিনি মহিলাকে বাঁচাবেনই। ঐ দিন থেকে তিনি ঐ রোগীর আলাদাভাবে যত্ন নেওয়া শুরু করলেন। অনেক চেষ্টার পর মহিলাকে বাঁচানো সম্ভব হলো।
ডাঃ স্যাম কেইলি হাসপাতালের একাউন্টেন্টকে ঐ মহিলার চিকিৎসার বিল দিতে বললেন, কারণ তার সাইনছাড়া ঐ বিল কার্যকর হবে না। ডাঃ স্যাম কেইলি ঐ বিলের কোণায় কি যেনো লিখলেন এবং তারপর সেটা ঐ মহিলার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। মহিলা ভীষণ ভয় পাচ্ছিলেন বিলটা খুলতে কারণ তিনি জানেন যে এতো দিনে যে পরিমাণ বিল এসেছে তা তিনি সারা জীবনেও জীবনেও শোধ করতে পারবেন না।
অবশেষে তিনি বিলটা খুললেন এবং বিলের পাশ দিয়ে লেখা কিছু কথা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। তিনি পড়তে লাগলেন "আপনার চিকিৎসার খরচ হলো পুরো এক গ্লাস দুধ" এবং বিলের নিচের সাইন করা ছিলো ডাঃ স্যাম কেইলির নাম।
মানুষকে সাহায্য করুন, যতটা আপনার পক্ষে সম্ভব। হয়তো এই অল্প সাহায্যের ফল হিসেবে আপনি এমন কিছু পাবেন যা কখনো আপনি চিন্তাই করেননি!
~~~~~সংগৃহীত ~~~~~
তথ্যসূত্র~~~~~অজানা / নাম জানা গেলে মেনশন করে দেওয়া হবে।

সৈয়দ মুজতবা আলী

সৈয়দ মুজতবা আলীকে কোনো এক আসরে মদ খেতে দেখে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন—আপনি যে মদ খাচ্ছেন, এটা দেখে তরুণ সমাজ কী শিখবে?

উত্তরে সৈয়দ মুজতবা আলী মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমার তরুণ সমাজকে বলে দিও—মদ খাওয়ার আগে আমি পৃথিবীর ২৩ টি ভাষা রপ্ত করেছি।'
উনাকে নিয়ে আরেক মজার ঘটনা আছে!
সৈয়দ মুজতবা আলী তখন বেশ বিখ্যাত লেখক। প্রতিদিনই তাঁর দর্শন লাভ করতে ভক্তরা বাসায় এসে হাজির হয়। একদিন এক ভক্ত মুজতবা আলীর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কোন বই কী অবস্থায় লিখেছেন। মুজতবা আলী যতই এড়িয়ে যেতে চান, ততই তিনি নাছোড়বান্দা। শেষে মুজতবা আলী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বললেন, 'দেখো, সুইস মনস্তত্ত্ববিদ কার্ল গুসতাফ জাং একদা তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলেন, কিছু লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কীভাবে লিখি। এ ব্যাপারে আমাকে একটা কথা বলতেই হয়, কেউ চাইলে তাকে আমরা আমাদের সন্তানগুলো দেখাতে পারি, কিন্তু সন্তানগুলো উৎপাদনের পদ্ধতি দেখাতে পারি না।'
এমনই হাস্যরসে পরিপূর্ণ ছিল এই মানুষটি।

৫০ বছর পর

 আজ থেকে আর মাত্র ৫০ বছর পর অবস্থা যেমন হতে পারে

ঃহ্যালো ! এটা কি পিৎজা হাট?
ঃনা স্যার, গুগল’স পিৎজা।
ঃআমি কি তাহলে ভুল নাম্বারে ফোন করেছি?
ঃনা স্যার, দোকানটা কিনে নিয়েছে গুগল !
ঃওকে, আমি কি পিজার অর্ডার দিতে পারি?
ঃস্যার, সাধারণত যে পিৎজার অর্ডার দেন আজকেও কি ওটাই দিবেন?
ঃআমি সাধারণত যে পিৎজার অর্ডার দেই সেটা আপনি কিভাবে জানেন?
ঃআপনার ফোন নাম্বার অনুযায়ী , আপনি শেষ ১৫ বার ডাবল চিজ বারো স্লাইস সসেজ পিৎজা অর্ডার করেছেন।
ঃআমি এবারও ওটাই চাই।
ঃকিন্তু স্যার, কলেস্টেরল যেহেতু হাই তাই আমি ৮ স্লাইজ ভেজিটেবল পিৎজা অর্ডার করতে পরামর্শ দিচ্ছি।
ঃআমার কলেস্টেরল হাই এটা আপনি কিভাবে জানেন?
ঃসাবস্ক্রাইবার গাইড থেকে। আমাদের কাছে আপনার গত ৭ বছরের ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট আছে।
ঃআমি ভেজিটেবল পছন্দ করি না, যেটা চাইছি ঐটাই দেন । কলেস্টেরল এর জন্য আমি ঔষধ খাই।
ঃকিন্তু আপনি তো নিয়মিত ঔষধ খান না। ৪ মাস আগে লাজ ফার্মা থেকে ৩০টা ট্যাবলেটের একটা বক্স কিনেছিলেন।
ঃআমি অন্য আরেকটা দোকান থেকে বাকিগুলা নিয়েছি।
ঃকিন্তু আপনার ক্রেডিট কার্ড তো তা বলছে না!
ঃআমি নগদ ক্যাশ দিয়ে কিনেছি।
ঃআপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী সে পরিমান টাকা আপনি উঠাননি।
ঃআমার অন্য আয়ের উৎস আছে।
ঃআপনার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফর্মে সে তথ্য নাই।
ঃধুর মিয়া, আপনার পিজার গুষ্টি কিলাই। পিজাই খামু না। গুগল, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, সেলফোন, ইন্টারনেট ছাড়া দ্বীপে চলে যামু যেখানে আমার উপর কেউ এত নজরদারি করতে পারবে না।
ঃজ্বী স্যার বুঝতে পেরেছি, তার আগে আপনার পাসপোর্ট রিনিউ করতে হবে , ৫ সপ্তাহ আগে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
Collected

হারানো দিনের স্মৃতি



লেখায় :-ফেরদৌস আহমেদ


কোথায় গেল সোনার সময় সোনার মানুষ কই!
কোথায় গেল লাঙ্গল জোয়াল কোথায় গেল মই।
কোথায় গেল গরুর গাড়ি কোথায় গরুর হাল
কোথায় গেল রংবেরঙের ডিঙি নায়ের পাল।
কোথায় গেল মাটির কলস
সেই কলসির জল
ঘরের শোভা রঙিন শিখা কোথায় গেল বল!
শকুনরা সব কোথায় গেল কোথায় গেল কাক
কোথায় গেল শিয়াল মামার হুক্কাহুয়া ডাক।
কোথায় গেল শিল আর পাটা পাটার ভাটা ঝাল
কোথায় গেল কাঠের ঢেকি ঢেকির ছাঁটা চাল।
কোথায় গেল পালকি চলার হুনহুনাহুন সুর
ঠেলার গাড়ি হারিয়ে গেল হায়রে কত দূর।
কোথায় গেল রাত্রি জেগে চিঠি লেখার দিন
কোথায় গেল হারিকেন আর কোথায় কেরোসিন।
কোথায় গেল গরুর টানা আঁখ মারানোর কল
কোথায় গেল গ্রামের বাড়ির বাংলা ঘরের ছল।
বিয়েবাড়ির গীতের আসর কোথায় গেল ভাই
কলাপাতায় আহার করার মেজবানিটাও নাই।
কোথায় গেল কাঁচের চুড়ি রেশমী ফিতার সাজ
কোথায় গেল হাত রুমালের সুতার কারুকাজ।
কোথায় গেল মাটির কূপের মিষ্টি স্বাদের জল
কোথায় গেল ডাল মারানোর শিলার যাঁতাকল।
কোথায় গেল কুলুর বলদ বন্ধ যাহার চোখ
কোথায় গেল হুক্কা তামাক হুক্কা টানার লোক।
হারানো সুর খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে ব্যথা পাই
যখন দেখি কোরআন শিখার মকতব ও আর নাই।


এটা সুধার নিজস্ব "ক্লাস"

 ডাক্তারের কন্যা। মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন । নারায়ানামুর্তি যখন সুধা'কে বিয়ে করেন, তখন তিনি বেকার। চাকরি বাকরি কিছু করেন না। সুধা'কে তাঁর বাবা জিজ্ঞেস করেন "আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব দের কাছে বেকার জামাই এর পরিচয় কি করে দেবো ??"

সুধা বাবাকে বললেন- "বোলো, এ সুধার স্বামী" !!
কোনো একদিন নারায়ণমুর্তি সুধা'কে বলেন, তিনি একটি আই.টি কোম্পানি খুলতে চান, কারণ খাঁটি ভারতীয় কোনো আই.টি কোম্পানি তখন এদেশে নেই।নারায়াণমুর্তি সুধা'কে আরও বলেন "আগামী তিন বছর আমি তোমাকে সংসার চালানোর কোনো খরচা দিতে পারবো না। সংসার তোমার রোজগারেই চালাতে হবে, উল্টো,..এই কোম্পানি খোলার জন্য তোমাকেই আমাকে সাহায্য করতে হবে "।
সুধা ছোট্ট টিনের বাস্কে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন, মোট দশ হাজার দু'শো পঞ্চাশ টাকা। সুধার ভাষায় "দু'শো পঞ্চাশ টাকা এমার্জেন্সি'র জন্য রেখে, বাকী দশ হাজার আমি ওকে লোন দিয়েছিলাম"।
শুরু হলো --" ইনফোসিস"
"ইনফোসিস" এর যখন স্বর্ণযুগ চলছে, নারায়ণমুর্তি স্ত্রী'কে এক কোটি টাকা দিতে চেয়েছিলেন। সুধা তাঁকে বললেন --" ফেরত দিতে চাইলে, ওই দশ হাজার-ই ফেরত দাও...!! তোমার লাগলে, আবার ধার দেবো । আর যে এক কোটি আমাকে দিতে চাইছো, সেটা মাদার টেরিজা' কে পাঠিয়ে দাও।"
ভারতবর্ষের সবথেকে বড় আই.টি কোম্পানি ইনফোসিস এর মালিকের স্ত্রী সুধা। কিন্তু "ক্লাস" তো তৈরি হয়নি তাঁর..!!! সাধারণ কম দামী শাড়ী, সাধারণ কথাবার্তা, সাধারণ মানুষ জনে'র সাথে মেলামেশা। ঠাঁট-বাট ই নেই, কলেজে পড়ান, পায়ে হেঁটে বা ফিয়াট ট্যাক্সি চেপে ঘুরে বেড়ান..। নিজেকে তৈরি করেন নি এলিট-ক্লাসে'র জন্য !!
কিছুদিন আগে ব্রিটেন যেতে গিয়ে প্রথম সমস্যা হলো। মেয়ে লন্ডন থেকে "বিজনেস ক্লাস" এর টিকিট পাঠিয়েছিল। বোর্ডিং পাশ হাতে নিয়ে "বিজনেস ক্লাসের" লাইনে দাঁড়াতে পিছনের ব্রিটিশ দম্পতি বললেন, "ম্যাডাম, আপনি ভুল লাইনে দাঁড়িয়েছেন- এটা বিজনেস ক্লাসে'র লাইন। ইকোনমি-ক্লাস টা ঐ দিকে"। পাশ থেকে ভদ্রলোকের স্ত্রী তির্যক মন্তব্য করলেন -- "ক্যাটেল ক্লাস বলো, তাহলে ভালো বুঝতে পারবে".!!!
প্লেনে উঠে সুধা দেখলেন বিজনেস ক্লাসে, তাঁর পাশেই সিট পড়েছে সেই দম্পতির। সুধা আর লোভ সামলাতে পারলেন না...!! উঠে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন "ক্লাস বলতে তোমরা কি বোঝাতে চাও..??? মাদার টেরিজা হচ্ছেন "ক্লাস"। পন্ডিত রবিশংকর হচ্ছেন "ক্লাস"। অ্যালবার্ট আইন্সটাইন হচ্ছেন "ক্লাস"...!! এইটুকু ছোট্ট প্লেনের আবার " ক্লাস" হয় নাকি...???"
পরের বিপত্তি হলো হীথরো এয়ারপোর্টে নেমে। ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসার সুধা'কে জিজ্ঞেস করলেন "আপনি লন্ডনে কোথায় উঠবেন, ফর্মে লিখে দিন"। সুধা ফর্মে লিখলেন --"১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট"...!!
অফিসার বললেন --"আর ইউ কিডিং উইথ মি.."!!!
সিকিউরিটি গার্ড'রা এগিয়ে এলো !! সে এক ঝামেলা.... ব্রিটিশরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না -- তাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সাধাসিধে মহিলার জামাই !!!
এই হচ্ছে সুধার--"ক্লাস"..!! ইন্টারভিউ এর শেষে সুধা বলেন --"আমি ভালো আছি কারণ -- অসহায় ও গরীব মানুষদের সাহায্য করে আমি মানসিক শান্তি পাই! কেউ যদি বলে আমি চ্যারিটি করছি, তবে সেটা ভুল। 'চ্যারিটি' বলে কিছু হয় না। আমি যেটুকু যা করতে পারছি -- সেটা সমাজের প্রতি আমার কর্তব্য। ডিউটি শুধু নিজের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের প্রতিও আমাদের ডিউটি আছে"।
এটা সুধার নিজস্ব "ক্লাস"!
শুভ জন্মদিন মহিয়সী! অতল শ্রদ্ধা!
লেখা -সংগৃহীত

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...