Monday, June 24, 2024

আপন থেকে পর ভালো

 ৬ বছর পর বাংলাদেশে এসেছিলাম নিজের পরিবারের সাথে ঈদ করার জন্য।

এবং ঈদের পর যে নারীর সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে বিয়ে করে আমার সংসারে নিয়ে আসার জন্য..
এই মেয়ের সাথে আমার প্রেম নেই আগে কখনো কথা হয়নি আমার পরিবারের মানুষজন যখন তাকে থেকে পছন্দ করেছে তারপর থেকে তার সাথে টুকটাক কথা আমার..
৮ মাস কথা হয়েছে আমাদের এই আট মাসে সে আমার কাছ থেকে অনেক চাহিদা পূরণ করে নিয়েছে।
কপালে টিপ হাতের ফোন পায়ের পায়েল থেকে শুরু করে অসংখ্য ড্রেস আমার টাকায় কিনেছে সে চাওয়া মাত্রই আমি তাকে টাকা পাঠিয়েছি।
৮ মাস ধরে অপেক্ষা করছি কবে দেশে যাব কবে তাকে পাবো কবে আমাদের বিয়ে হবে, বাংলাদেশে আসার পর আমার পরিবারের মানুষজনকে বললাম বিয়ের টাইম টা ঠিক করার জন্য। ঈদের চার দিন পর আমাদের বিয়ে মোটামুটি সবাই জানে এই কথা।
দেশে আসার একদিন পর আমার কাঙ্খিত নারীর সাথে আমার দেখা হয়, সৃষ্টিকর্তা তাকে অনেক সুন্দর করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
টানা তিন দিন তার সাথে আমার দেখা হয় তৃতীয় দিন যখন দেখা হয় তখন সে আমাকে যে কথা বলেছে সেই কথার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। সে আমাকে জানিয়েছে আমাকে তার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব না, কারণ সে একজনকে ভালোবাসে আপনার সাথে সে গোপনে বিয়ে করে ফেলেছে এখন সে আমাকে বিয়ে করতে পারবে না পরিবারের চাপে আমার সাথে কথা বলেছে। আমি যেন দেশ থেকে আবার চলে যাই....
পরিবারের চাপে যদি আমার সাথে সে কথা বলবে তাহলে আমার থেকে এতসব টাকা পয়সা নেওয়ার কি দরকার ছিল???
দেশে আসার পর আমার পরিবারের লোকজনের মাঝে লক্ষ্য করলাম সবার অনেক চাওয়া-পাওয়া আমার উপরে সবাই আমাকে একটা টাকার মেশিন মনে করে। এবং চাহিদা অনুযায়ী আমার কাছ থেকে টাকা নিতে চায়, অনেক কষ্ট করে একটা বাড়ি করেছি সেই বাড়িতে আমি আমার দুই ভাইকে দুইটা প্লেট দিয়েছি এখানে তাদের কোন টাকা পয়সা নেই, আমাকে রেখে আমার ছোট ভাই বিয়ে করেছে তার বিয়ের সমস্ত খরচ আমি দিয়েছি সে কিছু করে না বাসায় বসে বসে সময় কাটায় পরিবারের সমস্ত খরচ আমাকে দিতে হয়, সবাই সবার মতো টাকা খরচ করে কিন্তু একটাবার কেউ জানতে চায় না এই টাকা রোজগার করতে একজন প্রবাসী মানুষের কতটা কষ্ট সহ্য করতে হয় কতটা সময় দিতে হয়....
সবাই আমার টাকায় আরাম আয়েশ করে চলে তারপরেও ভাই এবং ভাবিদের অভিযোগের শেষ নেই
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আমার মা-বাবা আমাকে বুঝেনা তাদের অসংখ্য অভিযোগ আমার উপর, তাদের ডাক্তার খরচ থেকে শুরু করে সব ধরনের খরচ আমি বহন করি তারপরেও তারা আমার উপর সন্তুষ্ট না।
সবাই চায় জমিদারের মত জীবন যাপন করতে চলতে কিন্তু এই জমিদারি করতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় সেই অর্থের উৎস কি কিভাবে আসে তা কেউ চিন্তা করতে চায়না...
আমি আমার মার একাউন্টে সেভ করার জন্য কিছু টাকা প্রতি মাসে আলাদা পাঠাতাম দেশে এসে জানতে পারলাম আমার মায়ের একাউন্টে কোন টাকা নেই এই টাকা মা একটা জমি কিনেছে সেই জমি আমার দুই ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে...
অবস্থায় এরকম আমার হাতে যদি টাকা না থাকে আমাকে একদিন চালাবে এরকম কেউ নিয়ে আমার পরিবারে,
সবকিছু মিলিয়ে তাদের আচার-আচরণে আমি চরম হতাশ
তাই ঈদ না করেই আবার চলে যাচ্ছি বাসায় কাউকে কিছু বলিনি ব্যাগ লাগেজ সবকিছু বাসায় আছে আমি শুধু পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়েছি টিকিটের ডেট পরিবর্তন করেছি।
একটু পরে আমার ফ্লাইট কতটা কষ্ট নিয়ে চলে যাচ্ছে এ কথা হয়তো কাউকে বলা হবে না,
তারপরেও ভালো থাক সবাই শুভকামনা আমার সাথে অন্যায় আচরণ করা প্রতিটি মানুষের জন্য....
এত বছর বিদেশে থেকে বুঝতে পেরেছি আপন থেকে পর ভালো......
-- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

source:
https://www.facebook.com/100044541039713/posts/1034358921392133/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

বটবৃক্ষের বীজ মাটিতে পড়লেই চারা হয় না ।

বট,অশত্থ এই ধরনের গাছের ফল পাখিরা খেলে পাখির পাকস্থলীতে কয়েক ঘন্টা থাকার পর( নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও উৎসেচকের উপস্থিতিতে ) ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের উপযোগী হয়। পরে মলের সাথে ওই জারমিনেটেড বীজ বাইরে আসলে তা থেকে চারা বেরোয়। বাইরের স্বাভাবিক পরিবেশে কোন ভাবেই এটা হয় না। তাই পাখি ফল না খেলে এই ধরনের গাছের চারা হওয়া সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত এটাও জানা দরকার যে ওই গাছের ফল খায়,টিয়া জাতীয় এমন পাখি যদি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়,তবে বট,অশত্থ গাছ ও পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।এ ভাবেই আফ্রিকার ডোডো পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় ওখানকার একশ্রেণীর গাছও একই নিয়মে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই সকলের কাছে অনুরোধ জৈব বৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগী হোন। কারন ছোট ছোট কীট পতঙ্গের উপরেও অনেক বড় জীব প্রজাতি নির্ভরশীল আমরা হয়তো সেটা জানিই না।

অবসরের পরের অবস্থা

সাড়ে সাত বছরের মাথায় চাকুরি থেকে অবসরে যাবো। সবাইকে যেতে হয়। কিন্তু আমি নিজেই তা মনে রাখি না। ভাবি সারাজীবনের জন্য এ পদ-পদবি আমাকে লিখে দেওয়া হয়েছে। তাই আমার মাটিতে পা পড়ে না। চোখ থাকে লাল, সব জায়গায় খালি ‘ভি আই পি' ব্যবস্থা খুঁজি।

কিন্তু রিটায়ারের পর চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে এতদিন যা আমাকে 'লেখাপড়া' করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ভেবেছি সব উধাও হয়ে যায়।
এভরিথিং ডিসঅ্যাপেয়ারস! জাস্ট ভ্যানিশেস!
আমি তো কোন ছাড়, আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের অফিস ছাড়ার পরের অভিজ্ঞতা বলি।
১। ২১ জানুয়ারি, ১৯৮১ সাল।
জিমি কার্টার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে জর্জিয়ায় নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেন। গিয়ে দেখেন দীর্ঘদিন দেখভাল না করায় বাড়ির অবস্থা খুবই বেহাল। প্রায় জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। তিনি পাশ ফিরে তাঁর সহকারীকে ব্যবস্থা নিতে বলতে গিয়ে দেখলেন কোথাও কেউ নেই। ডানেও নেই, বামেও নেই। যা করার তাঁকে একাই করতে হবে। প্রেসিডেন্টকে বাড়িটি ঠিক করার লোকজন নিজেকেই জোগাড় করতে হলো।
২। ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৯ সাল।
প্রেসিডেন্ট রিগ্যান ওভাল প্রেসিডেন্সি ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের অবকাশ কেন্দ্র র্যাঞ্চ ডেল সিলিওতে ফিরে গেলেন। পরদিন তিনি র্যাঞ্চ ঘুরে দেখবেন। বাইরে বেরিয়ে তিনি গাড়ির পেছনের সিটে বসলেন। কিছুক্ষণ কেটে গেলো কিন্তু গাড়ি চলছে না। তিনি বিরক্ত হয়ে ভাবলেন, ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে না কেন? তারপরই তাঁর মনে পড়লো, তিনি এখন আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নেই, তাই র্যাঞ্চে গাড়ি চালানোর জন্য ড্রাইভারও নেই। এখন থেকে অবকাশে এলে গাড়ি নিজেকেই চালাতে হবে। পাবলিক প্রোগ্রামে গেলে তিনি একজন ড্রাইভার পেতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত অবকাশে নয়, অথচ চব্বিশ ঘন্টা আগেও কত লোকলস্কর তাঁকে ঘিরে থাকতো।
৩। ২১ জানুয়ারি,২০০১ সাল।
প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বাড়ি থেকে বের হয়ে অবাক হলেন, ‘ Hail to the Chief' এ গানটি বাজছে না কেন? নিয়ম হচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি কোথাও উপস্থিত হলে এ গান বাজানো হবে। তিনি অবাক হয়ে এদিকওদিক তাকালেন। কী ব্যাপার? সব চুপচাপ! পর মুহূর্তে তাঁর মনে পড়লো, তিনি এখন আর প্রেসিডেন্ট নেই। ‘ Hail to the Chief' গানটি এখন অন্য কারো জন্য বাজানো হবে, তাঁর জন্য নয়।
৪। ২১ জানুয়ারি, ২০০৯ সাল।
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বেড রুমে কফির অপেক্ষা করছেন। ঘুম থেকে উঠে কড়া এক কাপ কফি পান করা তাঁর পুরানো অভ্যেস। কিন্তু কফি আসছে না, তাঁর মেজাজ খারাপ হতে লাগলো। রেগেমেগে বেল টিপবেন, দেখেন বেলই নেই। ঠিক সে মুহূর্তে কফির পেয়ালা ট্রেতে নিয়ে রুমে ঢুকলেন তাঁর স্ত্রী লরা বুশ। প্রেসিডেন্টের মগজে ধাক্কা খেলো একটি কঠিন সত্য, তাহলো আর কোনোদিন হোয়াইট হাইজের কিচেন থেকে তাঁর জন্য কফি আসবে না। তা নিজে বানিয়ে খেতে হবে, বা লরা তা বানিয়ে দেবেন।
৫। ২১ জানুয়ারি, ২০১৭।
মিশেল ওবামা সন্ধ্যার হালকা ডিনারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ডিনার এলো না। তাঁর অস্বস্তি হচ্ছে, কী হলো? এমন সময় সামনে দুলতে থাকা অপরিচিত জানালার পর্দা মনে করিয়ে দিলো, তিনি এখন ওয়াশিংটনের সাদা বাড়িতে নেই। এটা তাঁর নতুন বাড়ি, এবং তা প্রেসিডেন্টের বাড়ি নয়। তাঁর ডিনার তাঁকেই তৈরি করতে হবে। তিনি হেঁটে গিয়ে ফ্রিজ থেকে স্যান্ডউইচ বের করে তা ওভেনে গরম করতে দিলেন। তখনো আট চল্লিশ ঘন্টাও পার হয়নি তাঁর স্বামী বারাক ওবামা প্রেসিডেন্সি থেকে বিদায় নিয়েছেন।
এই হচ্ছে, দুনিয়ার সবচে ক্ষমতাবানদের রিটায়ার করার পরের অবস্থা।
তাহলে আমার কী হবে?

আমরা যারা আজকের দিনটিকে ‘চিরদিন’ ভাবি তাদের জন্য 'রিটায়ারমেন্ট' খুবই মর্মান্তিক হবে কোনো সন্দেহ নেই।

পাদটীকা: ১.সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কিছু সুবিধা পান, যেমন পেনশন, নিরাপত্তা,অফিস নিলে তার সামান্য খরচ ও কয়েকজন স্টাফ, (হাউজ স্টাফ নন) এবং পাবলিকলি চলাফেরার জন্য ড্রাইভার, কিন্তু এসব ক্ষমতার সু্যোগ সুবিধার তুলনায় নস্যি।
২. প্রতিটি তথ্য বইপত্র এবং অথেনটিক অনলাইন সোর্স থেকে নেওয়া

source: https://www.facebook.com/groups/905458924023335/permalink/985724082663485/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

বাবা আমাকে লাইফলাইন শিখিয়ে দিলেন

 বাবার সাথে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে ব্যাংকে বসে আছি।

বিরক্ত হচ্ছি খুব।
যত না নিজের উপর, তার চেয়ে বেশি বাবার উপর।
অনেকটা রাগ করেই বললাম-
"বাবা, কতবার বলেছি,অনলাইন ব্যাঙ্কিংটা শিখো। "
বাবা বললেন --
এটা শিখলে কি হবে?
-- ঘরে বসেই তুমি এই সামান্য কাজটা করতে পারতে।
শুধু ব্যাংকিং না,
শপিংটাও তুমি অন- লাইনে করতে পারো।
ঘরে বসে ডেলিভারি পেতে পারো।
খুবই সহজ।
কিন্তু এই সহজ জিনিসটাই তুমি করবে না।
বাবা জানতে চাইলেন --
করলে আমাকে ঘরের বাইরে বের হতে হতো না-
তাই না?
-- হ্যাঁ, বাবা তাই।
এখানে এসে ঘন্টা খানেক অনর্থক বসে থাকতে হতো না।
এরপর বাবা যা বললেন
তাতে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।
বাবা বললেন:-
এতো সময় বাঁচিয়ে তোমরা কি করো ?
ফোনেই তো সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকো।
কবে শেষদিন তুমি তোমার ফুপুর সাথে কথা বলেছো?
দশ হাত দূরে প্রতিবেশী --
বৃদ্ধ বশির কাকার খবর নিয়েছো ?
অথচ, আপন জনের সাথে দেখা করতে
আমরা দশ মাইল পথ হেঁটেছি।
সময় বাঁচানোর চিন্তা করিনি।
মানুষ যদি মানুষের পাশেই না যায়-
তবে এতো সময় বাঁচিয়ে কি হবে বলো ?
বাবার কথা পাশ থেকে মানুষেরা শুনছেন।
আমি চুপচাপ বসে আছি।
বাবা বললেন --
ব্যাংকে প্রবেশের পর থেকে
চারজন বন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় করেছি।
তুমি জানো, আমি ঘরে একা।
তাই ঘর থেকে বের হয়ে আসাটাই আমার আনন্দ।
এইসব মানুষের সাহচর্যটাই আমার সঙ্গ।
আমার তো এখন সময়ের কমতি নেই।
মানুষের সাহচর্যেরই কমতি আছে।
ডিভাইস, হোম-ডেলিভারি,
এনে দেবে অনেক কিছু, কিন্তু
মানুষের সাহচর্য তো আমায় এনে দেবে না।
মনে পড়ে, দু বছর আগে
আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।
যে দোকান থেকে আমি
দৈনন্দিন কেনাকাটা করি,
তিনিই আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন।
আমার পাশে বসে থেকে
মাথায় হাত রেখেছিলেন।
আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিলো।
তোমার ডিভাইস বড়জোড় একটা যান্ত্রিক ইমেইল পাঠাবে,
কিন্তু আমার পাশে বসে থেকে
চোখের জল তো মুছে দেবে না,
বরং মনের কষ্ট আরও বাড়াবে, তাই না ।
চোখের জল মুছে দেয়ার মতো
কোনো ডিভাইস কি তৈরি হয়েছে?
সকালে হাঁটতে গিয়ে তোমার মা পড়ে গিয়েছিলেন।
কে তাকে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলো?
অনলাইন মানুষের একাউন্ট চেনে,
সে তো মানুষ চেনে না!
মানুষের ঠিকানা চেনে, কিন্তু
রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের ঘর তো চেনে না!
এই যে মানুষ আমার শয্যাপাশে ছিলো,
তোমার মাকে ঘরে পৌঁছে দিলো,
কারণ - দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে
একজন আরেকজনকে চিনেছি।
সবকিছু অনলাইন হয়ে গেলে --
মানুষ "হিউম্যান টাচটা" কোথায় পাবে বলো ?
আর পায় না বলেই --
পাশের ঘরে মানুষ মরে গিয়ে লাশ হয়ে থাকে,
দুর্গন্ধ না আসা পর্যন্ত
কেউ কারো খবরও আর রাখে না।
বড় বড় অ্যাপার্টমেন্টগুলো আমাদের
" অ্যাপার্টই " করে দিয়েছে ।
পুরো পাড়ায় একটা টেলিভিশনে
কোনো অনুষ্ঠান একসাথে দেখে সবার আনন্দ,
আমরা একসাথে জড়ো করতাম।
এখন আমরা রুমে রুমে
নানা ডিভাইস জড়ো করেছি।
আনন্দ আর জড়ো করতে পারি না।
এই যে ব্যাংকের ক্যাশিয়ারকে দেখছো --
তুমি তাঁকে ক্যাশিয়ার হিসাবেই দেখছো,
সেলসম্যানকে সেলসম্যান হিসাবেই দেখছো।
কিন্তু আমি সুখ- দুঃখের অনুভূতির
একজন মানুষকেও দেখছি।
তাঁর চোখ দেখছি।
মুখের ভাষা দেখছি।
হৃদয়ের কান্না দেখছি।
ঘরে ফেরার আকুতি দেখছি ।
এই যে মানুষ মানুষকে দেখা,
এটা একটা বন্ধন তৈরি করে।
অনলাইন শুধু সার্ভিস দিতে পারে,
এই বন্ধন দিতে পারে না।
পণ্য দিতে পারে,
পুণ্য দিতে পারে না।
এই যে মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা,
কুশলাদি জিগ্যেস করা --
এখানে শুধু পণ্যের সম্পর্ক নেই,
পুণ্যের সম্পর্কও আছে।
-- বাবা, তাহলে টেকনোলজি কি খারাপ ? আমি জানতে চাই।
বাবা বললেন --
টেকনোলজি খারাপ না। অনেক কিছু সহজ করেছে নিঃসন্দেহে সত্য।
ভিডিও কলের মাধ্যমে লাখে লাখে ছেলেমেয়েরা পড়ছে,
শিখছে, এটা তো টেকনোলজিরই উপহার।
তবে, টেকনোলজির নেশাটাই খারাপ।
স্ক্রিন অ্যাডিকশন
ড্রাগ অ্যাডিকশনের চেয়ে কোনো অংশে কম না।
দেখতে হবে,
ডিভাইস যেন আমাদের মানবিক সত্ত্বার
মৃত্যু না ঘটায়।
আমরা যেন টেকনোলজির দাসে পরিণত না হই।
মানুষ ডিভাইস ব্যবহার করবে।
মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করবে।
কিন্ত ভয়ঙ্কর সত্য হলো,
এখন আমরা মানুষকে ব্যবহার করি,
আর ডিভাইসের সাথে সম্পর্ক তৈরি করি।
মানুষ ঘুম থেকে ওঠে আপন সন্তানের মুখ দেখার আগে মোবাইলের স্ক্রিন দেখে,
সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন্সটিউট
এটাকে ভয়ঙ্কর মানসিক অসুখ বলে ঘোষণা করেছে।
কিছুদিন আগে আশা ভোঁসলে
একটা ছবি পোস্ট করে ক্যাপশান লিখেছেন-
" আমার চারপাশে মানুষ বসে আছে --
কিন্তু কথা বলার মানুষ নেই।
কারণ সবার হাতে ডিভাইস।"
বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন --
জানি না ভুল বলছি কি-না,
তবে আমার মনে হয়,
তোমরা পণ্যের লোগো যতো চেনো,
স্বজনের চেহারা ততো চেনো না।
তাই,যতো পারো মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করো,
ডিভাইসের সাথে না।
টেকনোলজি জীবন নয়।
স্পেন্ড টাইম উইথ পিপল,
নট উইথ ভিডাইস।
এ সময় বাবাকে চাচা বলে কে একজন ডাক দিলেন...।
বাবা কাউন্টারের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।
এই প্রথম আমি বুঝতে পারলাম --
বাবা কেবল ক্যাশিয়ারের দিকে যাচ্ছেন না,
একজন মানুষ,আরেকজন মানুষের কাছেই যাচ্ছেন।
বাবাকে আমি অনলাইন শেখাতে চেয়েছিলাম,
বাবা আমাকে লাইফলাইন শিখিয়ে দিলেন।

source: https://www.facebook.com/100000468570669/posts/26520204794245113/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

আম্মার হাসি শুনে আমি চোখ মুছি

 “আমার বাসায় প্রথম যখন এসি লাগালাম আমার জ্বালাপোড়া গেলো আরো বেড়ে।

বউ বাচ্চা গ্রীষ্মের এই দাবদাহে গায়ে কাথা দিয়ে এসিতে ঘুমাচ্ছে, এটা খুবই শান্তির একটা দৃশ্য। কিন্তু আমি শান্তি পেতাম না। এদিকে শীতল বাতাসে আমার গায়ে কাটা কাটা দিচ্ছে ওদিকে গ্রামে আমার মা গরমে সিদ্ধ হচ্ছে। আমার গা ঠান্ডা হচ্ছিল ঠিকই কিন্তু অন্তর পুড়ে ছাই।
আমি চাইলেই আম্মাকে একটা এসি কিনে দিতে পারি কিন্তু আম্মা সেটা নেবে না। এটা আম্মার কাছে বিলাসিতা। অবশ্য বিলাসিতা হবেই না কেন, খুব খারাপ অবস্থা থেকে উঠে এসেছি আমরা।
ছোট বেলায় নানা বাড়ির টিনের ঘরে কেটেছে আমার শৈশব। আম্মা প্রাইমারি স্কুল টিচার। ঘরে চারদিকে যে পিলারগুলো ছিল সেগুলো ছিল আস্ত গাছের। তাও ঘুনে খাওয়া। যখন তুফান আসতো, আমাকে চৌকির নিচে বিছানা পেতে দিতো। যদি ঘর ভেঙ্গে যায় এই আশংকায়।
রাতে বিছানা বোধয় আমি একটু বেশিই ভিজাতাম। ছোট বেলায় ডায়াবেটিস ছিল মনে হয়। বিছানা ভেজানোর পর আম্মা ওখানটায় গিয়ে আমাকে শুকনাতে রাখতো। আর পাখা বলতে ছিল সুপারি গাছের খোল। অনেক পরে আমাদের ঘরে ফ্যান এসেছে।
আম্মার সব কিছু ছিলো আমি কেন্দ্রিক। ঈদের শপিং বলতে আমার জন্য কেনাকাটা। নিজের জন্য কিছু কিনতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
সেই মা গরমে কষ্ট পাবে আর আমি ঢাকায় কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাব সেটা কি হতে পারে?
গত বছর এমন সময় একদিন রাতের বেলায় ঢাকা থেকে একটা এসি আর ইলেকট্রিশিয়ান নিয়ে রওয়ানা দিলাম। টার্গেট আম্মা যখন ঘুমিয়ে থাকবে, রাতেই কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরব।
আম্মা রাতেই টের পেয়ে গিয়েছিল। শুধু ঝাড়ু দিয়ে দৌড়ানী দেয়া বাকী রেখেছে আমাকে।
গ্রামে এগুলা কেউ লাগায়? আশে পাশে চার বাড়িতে কারো এসি আছে? শুধু শুধু এত্তগুলা টাকা নষ্ট। ফুটানী।
আমি শুধু বলেছি, আম্মা আপনার পায়ের নিচে আমার বেহেশত। আমার বেহেশত গরমে কষ্ট পেলে আমিতো দোযখে পুড়তে থাকি। আপনি কষ্ট পেলেতো আমার এই দুনিয়া ওই দুনিয়া; দুই দুনিয়াই শেষ। এই মেশিনটা আপনার জন্য না, আমার জন্যই লাগিয়ে গেলাম। আমার বেহেশতের জন্য।
এক বছর পর আজকে আম্মা ফোন দিলো। বাজান, এই রোজা রমজানে ঐ টা না থাকলে কি যে কষ্ট হতো। স্কুল থেকে ঘেমে ফিরে যখন এটার নিচে বসি, ঠান্ডা হয়ে যাই। সারাদিন এটা চালিয়ে কোরআন শরীফ পড়ি। জায়নামাজে বসে তোমার জন্য মন থেকে অটো দোয়া চলে আসে।
আমিও একটু মুরব্বী ভাব নিয়ে বললাম, একটা বয়সে মা হয়ে যায় সন্তান আর ছেলে হয়ে যায় বাবা। এরপর থেকে আমি যেসব ডিসিশন নেব বাবার আদেশ মনে করে সব মেনে নেবেন।
আম্মা ঐ প্রান্ত থেকে হাসে। আম্মার হাসি শুনে এদিকে আমি চোখ মুছি।

source: https://www.facebook.com/100027072645223/posts/1530462074532866/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

একটি আপেল গাছ এবং তার শর্তহীন ভালোবাসা

বহুকাল আগে, এক ভদ্রলোক তার বাড়ির এক কোণে একটি আপেল গাছ লাগিয়েছিলেন। দেখতে দেখতে আপেল গাছটি বড় হয়ে গেল।তার ছোট্ট ছেলেটি খুব ভালোবাসতো।প্রতিদিন সে আপেল গাছটিতে উঠতো,কখনো কখনো আপেল খেত। আবার কখনো কখনো আপেল গাছের তলায় সে ঘুমিয়েও পড়তো।
ছোট্ট ছেলেটি সত্যি সত্যি আপেল গাছকে পছন্দ করত এবং গাছটি তার সাথে খেলতে পছন্দ করত। সময় গড়িয়েছে, ছোট ছেলেটি বড় হয়ে গেছে এবং সে আর প্রতিদিন গাছের চারপাশে খেলা করে না।
একদিন, ছেলেটি গাছের কাছে ফিরে এসে তাকে বিষণ্ণ দেখায়।
"এসো এবং আমার সাথে খেলো", গাছটি ছেলেটিকে বলল।
"আমি আর বাচ্চা নই, আমি আর গাছের আশেপাশে খেলি না" ছেলেটি উত্তর দিল।
“আমি খুব বিপদে পড়েছি। আমার কিছু টাকা দরকার। কিছু জিনিস কিনতে হবে । এগুলো কেনার জন্য আমার টাকা দরকার।”
"দুঃখিত, কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই, তবে তুমি আমার সমস্ত আপেল বাছাই করে বিক্রি করতে পারো। আশা করি তাতে তোমার সমস্যা মিটে যাবে। "
ছেলেটি খুব উত্তেজিত হয়ে উঠলো।সে গাছের সব আপেল তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করে তার আর্থিক সমস্যা মেটালো। আপেল তোলার পর ছেলেটি আর ফিরে আসেনি। গাছটি বিষণ্ণ ছিল।
একদিন, যে ছেলেটি এখন পুরুষে পরিণত হয়েছে সে ফিরে এল এবং গাছটি উত্তেজিত হয়ে উঠল।
"এসো এবং আমার সাথে খেলো" গাছটি বলল।
“আমার খেলার সময় নেই। আমাকে আমার পরিবারের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের আশ্রয়ের জন্য একটি ঘর দরকার। তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?"
দুঃখিত, কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা নেই। কিন্তু তুমি তোমার ঘর বানানোর জন্য আমার ডালগুলো কেটে ফেলতে পারো।" তাই লোকটি গাছের সব ডাল কেটে খুশি মনে চলে গেল। গাছটি তাকে খুশি দেখে খুশি হয়েছিল কিন্তু তারপর থেকে লোকটি আর ফিরে আসেনি। গাছটি আবার একাকী এবং বিষণ্ণ ছিল।
এক গরম গ্রীষ্মের দিনে, লোকটি আবার ফিরে এল এবং গাছটি বহুদিন পর পুরনো বন্ধুকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত হল ।
"আসো এবং আমার সাথে খেল!" গাছ বলল।
"আমি বৃদ্ধ হচ্ছি. আমি ভাবছি আর টাইপ পরিশ্রম করব না পাল তোলার নৌকা দিয়ে খেয়া পারাপার করব, তাতে বিশ্রামও হবে আবার দু এক পয়সা হাতে আসবে।তুমি কি আমাকে একটি নৌকো দিতে পারবে?" লোকটি বলল।
এবার গাছটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল,আমার তো আর দেবার তেমন কিছু নেই। তুমি আমার কান্ডটি কেটে নৌকো বানাও আর তাতে বিশ্রামও পাবে সুখ ও পাবে।
তাই নৌকা বানাতে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলল লোকটি। সে পালতোলা নৌকো নিয়ে অনেক দূরে চলে গেল দীর্ঘদিন আর গাছের সঙ্গে তার দেখা হলো না।
অবশেষে বহু বছর পর লোকটি গাছের কাছে ফিরে এল। গাছটির তখন হতশ্রী অবস্থা। গুঁড়ি থেকে দু-চারটি ডাল বেরিয়েছে। বৃদ্ধকে দেখে গাছটি বলল, "দুঃখিত, আমার বাছা,আজ কিন্তু তোমার জন্য আমার আর কিছু নেই। তোমার জন্য আর আপেল ও নেই"। "সমস্যা নেই,"লোকটি হাসতে হাসতে বলল, " আমার কামড়ানোর কোন দাঁত নেই"।
ছোটবেলায় আমাকে চড়ে তুমি উপরে উঠতে। আজ আমার কান্ডটিও নেই। সুতরাং তুমি সে কাজটিও করতে পারবে না। লোকটি বলল, এতেও কোন সমস্যা নেই কারণ আমার আর সে বয়স নেই।কিন্তু আপেল গাছটি বলল, তুমি তো সবসময়ই আমার কাছে ছোট।তোমায় কিছু না দিতে পারলে আমার মন তো খারাপ লাগে! আমার শুধুমাত্র শিকড় আছে।এটা নিয়ে যদি কিছু কাজে লাগে, দেখতে পারো।
“আমার এখন বেশি কিছু দরকার নেই, শুধু বিশ্রামের জায়গা দরকাট। এত বছর পর আমি ক্লান্ত," লোকটি উত্তর দিল।
"ভাল! পুরানো গাছের শিকড় হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সেরা জায়গা, আমার সাথে বসো এবং বিশ্রাম নাও।" লোকটি বসে পড়ল এবং গাছটি খুশি হয়ে হাসল।
এটা সবার গল্প। গাছ আমাদের বাবা-মায়ের মতো। যখন আমরা ছোট ছিলাম, আমরা আমাদের মা এবং বাবার সাথে খেলতে পছন্দ করতাম। আমরা যখন বড় হই, তখন তাদের ছেড়ে চলে যাই; যখন আমাদের কিছু প্রয়োজন বা যখন আমরা সমস্যায় থাকি তখনই তাদের কাছে আসি। যাই হোক না কেন, পিতামাতা সর্বদা সেখানে থাকবেন এবং আপনাকে খুশি করার জন্য তারা যা করতে পারেন তার সবকিছুই দেবেন।
আপনার মনে হতে পারে ছেলেটি গাছের প্রতি নিষ্ঠুর, কিন্তু আমরা সবাই আমাদের বাবা-মায়ের সাথে এমন আচরণ করি। আমরা তাদের গ্রহণ করি; তারা আমাদের জন্য যা যা করেন আমরা তা স্বাভাবিক বলে মনে করি এবং কখনো আমরা তার প্রশংসা করি না।
গল্পের নৈতিকতা হল যে বাবা-মা, আপেল গাছের মতো, তাদের সন্তানদের নিঃশর্ত ভালোবাসেন এবং তাদের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।তারা আমাদের জন্য যা করেন তার সমস্ত প্রশংসা করতে শেখা উচিত। আমাদের উচিত তাদের সাথে থাকা সময়কে লালন করা এবং তাদের ভালবাসা এবং সম্মান দেখানো, যেমন তারা আমাদের সারা জীবন দেখিয়েছেন।

source: https://www.facebook.com/groups/933193510740878/permalink/1504261400300750/?mibextid=rS40aB7S9Ucbxw6v

পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির নৃশংসতা

 একটা হরর স্টোরি বলি। সত্যিকারের হরর স্টোরি।

.
এ লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে কিংবা পোস্টে দেয়া লিঙ্ক ঘাঁটাঘাঁটি করলে নিজ দায়িত্ব করবেন। মজা করছি না, সিরিয়াসলি বললাম।
.
পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিতে দুই ধরণের মুরগীর প্রজনন করা হয়। ডিমের জন্য লেয়ার মুরগী, আর মাংসের জন্য ব্রয়লার। ব্রয়লার মুরগী ছয়-সাত সপ্তাহের মধ্যে বিশাল বড় হয়ে যায়। মাংশ হয় প্রচুর। আর লেয়ার মুরগীর স্পেশালিটি হল সাইযে বড় না হলেও এ জাতের মুরগী অনেক বেশি ডিম দেয়। তবে ডিম তো দেয় শুধু নারী মুরগী। পুরুষদের কী হয়?
.
মেরে ফেলা হয়।
.
জন্মের প্রথম দিনই ওদের মেরে ফেলা হয়। কারণ এ মুরগীগুলোর জীবন প্রফিটেবল না। পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রির কাছে এরা ‘সারপ্লাস’। পুরুষ হবার কারণে এদের কাছ থেকে ডিম পাওয়া যায় না। আর লেয়ার জাতের হবার কারণে পাওয়া যায় না ব্রয়লার মুরগীর মতো মাংসও তাই সবচেয়ে লাভজনক, সবচেয়ে ‘একোনমিক’ সমাধান হল এই বাচ্চাগুলোকে যতো দ্রুত সম্ভব মেরে ফেলা।
.
আর তাই প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে এক দিন বয়েসী ৭০০ কোটি পুরুষ শিশু মুরগী হত্যা করা হয়। হ্যাঁ, ৭০০ কোটি। ৭ বিলিয়ন।
.
এই মেরে ফেলার কাজটা কীভাবে করা হয় জানেন?
বিভিন্ন পদ্ধতি আছে।
.
১। শ্বাসরোধ করা: বাচ্চাগুলোকে বিশাল বিশাল প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে আটকে দেয়া হয়। বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতে দমবন্ধ হয়ে মারা যায় ওরা।
.
২। ইলেক্ট্রোকিউশান: ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাদের ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়।
.
৩। সারভিকাল ডিসলোকেশান: সোজা বাংলায়, হাত দিয়ে টেনে মাথা ছিড়ে ফেলা হয় শরীর থেকে।
.
৪। গ্যাসিং: গ্যাস চেইম্বারে চালু করে দেয়া হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস। সদ্যজাত মুরগীগুলো একসময় জ্ঞান হারায় এবং মারা যায়।
.
৫। ম্যাসেরেইশান: পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পছন্দের পদ্ধতি। বাচ্চাগুলোকে প্রথমে একটা কনভেয়ার বেল্টে ছুড়ে দেয়া হয়। কনভেয়ার বেল্ট জীবন্ত বাচ্চাগুলোকে নিয়ে ফেলে প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে থাকা ধারালো ধাতব পাতের মধ্যে। মূহুর্তের মধ্যে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ওরা।
ব্লেন্ডার আছে না? একটা ঢাউস সাইযের ব্লেন্ডারের ভেতর একদিন বয়েসী মুরগীর বাচ্চাকে ছেড়ে দিলে কী হবে চিন্তা করুন। সেইম প্রসেস। তবে একটা না, শত শত কোটি মুরগীর বাচ্চাকে এভাবে হত্যা করা হয়। পুরো ব্যাপারটা পুঁজিবাদের ইউটিলিটারিয়ান সমীকরণ আর মডার্নিটির মনস্তত্ত্বের অসাধারণ এক দৃষ্টান্ত। আগাগোড়া পিওর মেশিন লজিক।
.
দুটা ভিডিও লিঙ্ক দিচ্ছি কমেন্টে, ভিডিগুলো দেখেন। না দেখলে ব্যাপারটার যান্ত্রিক নিষ্ঠুরতা বোঝা সম্ভব না।
.
.
এই ভয়ঙ্কর কাজটার একটা সুন্দর নাম আছে। Chick Culling বা Male Chick Culling। বাংলাদেশে কী হয় জানি না, কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় এটা পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস। এবং আমরা সবাই এই প্রক্রিয়ার অংশীদার।
.
হ্যাঁ, এই নৃশংসতা বন্ধ করতে গেলে নিশ্চিতভাবেই পোল্ট্রি প্রডাকশন কমবে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, ফ্রাইড চিকেন হয়তো পাওয়া যাবে না। চালানো যাবে না কেএফসির মতো মাল্টিবিলিয়ন ডলার ফ্র্যাঞ্চচাইয। ফাস্ট ফুডের নেশা উপভোগ করা যাবে না যখন তখন। কিন্তু অবিশ্বাস্য মাত্রার এ নিষ্ঠুরতাকে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার বানিয়ে ফেলার চেয়ে কি তা খুব একটা খারাপ হবে?
.
আলহামুদলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমাদের অনেক নিয়ামত দিয়েছেন। প্রানীজগত থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি, এটাও একটা নিয়ামাহ। খাদ্যের জন্য হালালভাবে পশু হত্যা জায়েজ, এবং এটা মানবজাতির জন্য প্রয়োজন। কিন্তু এমন একটা প্রসেসকে কীভাবে সমর্থন করা যায়, যেটার অবশ্যাম্ভাবী সাইড ইফেক্ট হিসেবে বছরে ৭০০ কোটি সদ্যজাত মুরগীকে এতো বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়? কীভাবে এখানে হুকুকুল ইবাদ (বান্দার হক) রক্ষিত হয়? কীভাবে রাহমাতুললি আলামীনের (ﷺ) এর শিক্ষার সাথে এমন আচরণকে মেলানো যায়?
.
মনে রাখবেন পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু এই ৭০০ কোটি শিশু মুরগীকে কোন কাজে লাগাচ্ছে না। এরা স্রেফ সারপ্লাস। বিক্রিয়ার অপদ্রব্য। এর সাথে কুরবানীর অবস্থা মিলিয়ে দেখুন।
.
কুরবানীর পশুর প্রায় প্রতিটি অংশ কাজে লাগে। শুধু একজন ব্যক্তি কিংবা পরিবার না, বরং পুরো সমাজ উপকৃত হয়। কুরবানীর পশুর মাংসের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ বিলিয়ে দেয়া হয়। কুরবানীর সময় এমন অনেক মানুষ মাংস খেতে পায় বছরের অন্য সময় মাংস খাবার সুযোগ যাদের হয়তো হয় না। কুরবানী কেন্দ্রিক বেচাকেনাতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এবং খামারীরা সুযোগ পায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবার।
.
এবং পুরো ব্যাপারটা করা হয় সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য। আত্মকেন্দ্রিক ভোগের জন্যে না। আমরা সব কিছুর মালিকের নির্দেশে, তাঁরই দেয়া সম্পদ, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কুরবান করি। বছরে একদিন। আর এই এক ইবাদাহ থেকে উপকৃত হয় পুরো সমাজ।
.
ফাস্টফুডের নির্জীব আত্মকেন্দ্রিকতা, মাল্টিবিলিয়ন ডলার কর্পোরেইশানের নির্জলা প্রফিটমুখীর চিন্তা, আর সারপ্লাস হত্যার সাথে কতো আকাশপাতাল তফাৎ।
.
তবু বছর বছর ইসলামের বিধান কুরবানীর বিরোধিতা করে হাজার হাজার শব্দ লেখা হয়। কিন্তু পুঁজিবাদী পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ আমরা বিনা প্রশ্নে সয়ে যাই। এক বিচিত্র মনস্তত্ত্ব আধুনিকতা আর আধুনিক মানুষের। এক বিচিত্র দ্বিচারিতা সহনশীলতা আর উদারতার নামে।

collected

আমেরিকান সিটিজেনশিপ দিয়ে আমি কী করব?

  এই জীবনে বেশির ভাগ কাজই আমি করেছি ঝোঁকের মাথায়। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো, কোনো দিকে না তাকিয়ে ইচ্ছাটাকে সম্মান দিলাম। পরে যা হবার হবে। দু-এ...